নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নতুন একটি সড়কের কার্পেটিং ঢালাই দেওয়ার মাত্র ৭ দিনের মধ্যেই উঠে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের সামগ্রী ও নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে মাগুড়া ইউনিয়নের চেকপোস্ট থেকে দর্জিপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সুমন ট্রেডার্স’।
বৃহম্পতিবার (১১ জুন) সরেজমিনে মাগুড়া ইউনিয়নের দর্জিপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মানুষের পায়ের ঘষা ও হাতের স্পর্শেই রাস্তার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও সড়কের পাশে ভাঙনও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির দিনে তদারকি ছাড়াই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করেছে। মাটি সমান না করে এবং প্রয়োজনীয় ইটখোয়া, বালু ও কুচি পাথর বিছানো ছাড়াই সরাসরি পিচ কার্পেটিং করা হয়। আর এই কারণেই হাত দিয়ে পা দিয়ে ঘষা দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, ঢালাইয়ের মাত্র সাত দিনের মাথায় সড়কটির কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। আমরা ঠিকাদারকে বারবার ভালো ভাবে কাজ করার কথা বললেও তিনি করেননি। এমনকি তাড়াহুড় করে রাস্তার কাজ শেষ করেছে। এখানে ভালো কাজ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার তা করেনি। নিম্নমাণের সামগ্রী ব্যবহার করায় ও সঠিকভাবে কার্পেটিং না হওয়ায় আজ সড়কটির ঢালাই উঠে যাচ্ছে। আরেক বাসিন্দা হাসান আলী বলেন, এখানে কাজ করা হয়েছে সব নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করে। আমরা এলাকাবাসী বারবার আপত্তি জানানো হলেও ঠিকাদার গুরুত্ব দেননি। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এখানে ভালো কাজ হোক।
এ বিষয়ে কথা বললে মাগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু বলেন, সরকারি বন্ধের দিন করে ঠিকাদার এখানে কাজ করেছে কোন তদারকি কর্মকর্তা ছিলেন না। স্থানীয়রা নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করতে নিষেধ করলেও ঠিকাদার শোনেনি। তিনি জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে জানালেও তিনি এখন পর্যন্ত কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুমন ট্রের্ডাসের ঠিকাদার মসদুল হক বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। সড়ক নির্মানে মোন ধরণের নিম্নমানের সামগ্রী আমরা ব্যবহার করিনি। আমরা বিভিন্ন স্থানে কাজ করি। অন্য কোথাও আমাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নেই, শুধু সেখানে অভিযোগ করা হচ্ছে কেনো।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















