নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঈদগাহের দেওয়ালে ধাক্কা দিলে সাত মাস বয়সী এক শিশু এবং একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বরসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের সালটিবাড়ী ঈদগাহ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নীলফামারী জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের সাত মাস বয়সী ছেলে জীবন ইসলাম এবং একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিয়াদ ইসলাম। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বর মোরসালিনসহ ১২ জনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলফামারী সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের মোরসালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ে শেষে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি কনে নিয়ে ফেরার পথে সালটিবাড়ী ঈদগাহ এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এসময় দ্রুতগতির মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশের ঈদগাহ ময়দানের ইটের প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, রাতে হাসপাতালে ১৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকিদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে আহতরা রংপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।



























