নীলফামারীতে উজানের ঢলে ৩ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ৮ সেণ্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে বিকেল ৩টায় সেখানে নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, উজানের ঢলে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে নদীর বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৩ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে আজ বিকেল ৩টায় বিপৎসীমার ৫ সেণ্টিমিটার, বেলা ১২টায় ১২ সেণ্টিমিটার এবং সকাল ৬টায় ১৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ওই পয়েণ্টে নদীর পানির বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পাশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কার কথা জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘সকাল থেকে নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। সন্ধ্যায় বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেশ্বর ও পূর্বছাতনাই গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে ওই দুই গ্রামের দেড় সহস্রাধিক পরিবার’।
একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম বলেন,‘সন্ধ্যায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ইউনিয়নের তিস্তা বেষ্টিত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে’।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ব্যারাজ পয়েণ্টে তিস্তা নদীর পানি সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে ৩ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ১৫ সেণ্টিমিটার, বেলা ১২টায় ১২ সেণ্টিমিটার এবং বিকেল ৩টায় ৫ সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে’।






















