নীলফামারীর ডিমলায় নববধূকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলোচিত ঘটনায় অবশেষে মামলা দায়েরের পর রাতেই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) রাতে ডিমলা থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই অভিযুক্ত অলিয়ার রহমান (৪২) ও জাহিদুল ইসলাম (৩৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের জোরজিগা এলাকার এক নববধূ গত ২৭ মে রাতে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণের শিকার হন। স্বামী কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বাড়িতে একা থাকার সুযোগে কয়েকজন ব্যক্তি ওই নববধূকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ঘটনা প্রকাশ করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে কয়েকটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২ জুন বিকেলে অভিযুক্তরা তাকে ডিমলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খানের হস্তক্ষেপে রোববার রাতে ডিমলা থানায় অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলায় অলিয়ার রহমান, আমির হোসেন ওরফে কালা, রবি মামুদ, আমজাদ হোসেন ও জাহিদুল ইসলামসহ ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শওকত আলী সরকার মামলা দায়ের ও দুই আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।
এদিকে আলোচিত এ ঘটনায় জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা।























