০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সৈয়দপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেটের ট্যাংকির ময়লা ফেলা হলো ড্রেনে

ভরাট হয়ে যাওয়া টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করে সেই ময়লা ফেলা হয়েছে রাস্তার পাশের ড্রেনে। এতে চরম দূষণ ঘটে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে চারপাশের পরিবেশ। ফলে দুঃসহ ভোগান্তির শিকার হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন। আর এই অবিবেচকের মত নোংরা কাজটি করেছে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী একটা সরকারি প্রতিষ্ঠান। ঘটনাটি নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের।

শহরের প্রাণকেন্দ্র শেরে বাংলা সড়কের ২ নং রেল ঘুমটির বিপরীত পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (লালকুঠি হাসপাতাল)। এই প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার সাথেই পৌরসভার ড্রেন। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে লালকুঠির টয়লেটের ট্যাংকির মল-ময়লা পরিষ্কার করা হয়। এজন্য রাজা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে দুইজন সুইপারকে দিয়ে পাইপ লাগিয়ে উল্লেখিত ড্রেনে সংযোগ দেওয়া হয়।

পাইপ দিয়ে ময়লা ড্রেনে ফেলার পর চারপাশে উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় থাকা দূরহ হয়ে পড়ায় রাস্তার পাশের দোকানদাররা ও ইজিবাইক চালকরা নিষেধ করেন। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়ে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ভেতরে ঢুকে প্রতিবাদ জানান। তারপরও কাজ বন্ধ করা হয়নি। ফলে ওই ড্রেন দুর্গন্ধযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর ময়লায় ভরে যায় এবং চারপাশের পরিবেশ চরমভাবে দূষিত করে তোলে।

এরপর খবর পেয়ে একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টা ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জানান। তার নির্দেশ পেয়ে ময়লা পরিষ্কার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে ফেলা মল-ময়লার কারণে ওই এলাকায় থাকা দূরহ হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার দোকানদাররা দূর্বিসহ ভোগান্তিতে পড়েছে। এমনকি অটোচালকরাও দাঁড়াতে পারছেন না। পথচারীরাও যাতায়াতকালে এই অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

অথচ সৈয়দপুর পৌরসভার নিজস্ব মানববর্জ পরিশোধন প্লান্ট থাকায় পৌর এলাকার সব ধরনের টয়লেট ট্যাংকি পরিষ্কার করা হয় পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। পৌরসভার নিয়োজিত কর্মচারীরা ভেকুট্যাগ দিয়ে ময়লা ট্যাংকারে করে তুলে নিয়ে গিয়ে প্লান্টে ফেলে। এক্ষেত্রে ট্যাংকির আকার অনুযায়ী সার্ভিস চার্জ দিয়ে এই সেবা নিচ্ছেন পৌরবাসী।

সেখানে একটা সরকারি প্রতিষ্ঠান তাও আবার স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী হয়েও তারা পৌরসভার স্বাস্থ্য সম্মত সেবা না নিয়ে এতটা অস্বাস্থ্যকর ও পরিবেশ দূষণ করা কাজ কিভাবে করতে পারলো? এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

সৈয়দপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কার্যক্রম তদারকি কর্মকর্তা প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন, কোন ভাবেই মানববর্জ্য ড্রেনে ফেলা যাবেনা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যদি এমন করে তা ঠিক করেনি। আমরা ব্যবস্থা নিবো এবং ভেকুট্যাগ দিয়ে পরিষ্কার করে দিবো।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী কমল রায় বলেন, মূলত: স¤প্রতি জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার সদস্যদের ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এই আনসার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ এই কাজ বাস্তবায়ন করছে। সেজন্যই মূলতঃ টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করছে তারা৷ তবে ড্রেনে ফেলা ঠিক হয়নি। আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।

এর প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার এর কাছে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এতে তিনি বলেন, আমি একটা ট্রেনিং এর কাজে নীলফামারীতে আছি। বিষয়টা আমার জানা নেই। তবে আমি দ্রæত কাজ বন্ধ করে দিচ্ছি এবং পৌরসভার ভেকুট্যাগ দিয়ে পরিষ্কারের ব্যবস্থা করছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজ সরকারি করণের দাবী

সৈয়দপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেটের ট্যাংকির ময়লা ফেলা হলো ড্রেনে

প্রকাশিত ১২:২৪:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ভরাট হয়ে যাওয়া টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করে সেই ময়লা ফেলা হয়েছে রাস্তার পাশের ড্রেনে। এতে চরম দূষণ ঘটে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে চারপাশের পরিবেশ। ফলে দুঃসহ ভোগান্তির শিকার হয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন। আর এই অবিবেচকের মত নোংরা কাজটি করেছে স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী একটা সরকারি প্রতিষ্ঠান। ঘটনাটি নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের।

শহরের প্রাণকেন্দ্র শেরে বাংলা সড়কের ২ নং রেল ঘুমটির বিপরীত পাশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (লালকুঠি হাসপাতাল)। এই প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার সাথেই পৌরসভার ড্রেন। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে লালকুঠির টয়লেটের ট্যাংকির মল-ময়লা পরিষ্কার করা হয়। এজন্য রাজা নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে দুইজন সুইপারকে দিয়ে পাইপ লাগিয়ে উল্লেখিত ড্রেনে সংযোগ দেওয়া হয়।

পাইপ দিয়ে ময়লা ড্রেনে ফেলার পর চারপাশে উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় থাকা দূরহ হয়ে পড়ায় রাস্তার পাশের দোকানদাররা ও ইজিবাইক চালকরা নিষেধ করেন। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত না করায় বাধ্য হয়ে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ভেতরে ঢুকে প্রতিবাদ জানান। তারপরও কাজ বন্ধ করা হয়নি। ফলে ওই ড্রেন দুর্গন্ধযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর ময়লায় ভরে যায় এবং চারপাশের পরিবেশ চরমভাবে দূষিত করে তোলে।

এরপর খবর পেয়ে একজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টা ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে জানান। তার নির্দেশ পেয়ে ময়লা পরিষ্কার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। কিন্তু ইতোমধ্যে ফেলা মল-ময়লার কারণে ওই এলাকায় থাকা দূরহ হয়ে পড়েছে। ফলে এলাকার দোকানদাররা দূর্বিসহ ভোগান্তিতে পড়েছে। এমনকি অটোচালকরাও দাঁড়াতে পারছেন না। পথচারীরাও যাতায়াতকালে এই অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন।

অথচ সৈয়দপুর পৌরসভার নিজস্ব মানববর্জ পরিশোধন প্লান্ট থাকায় পৌর এলাকার সব ধরনের টয়লেট ট্যাংকি পরিষ্কার করা হয় পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে। পৌরসভার নিয়োজিত কর্মচারীরা ভেকুট্যাগ দিয়ে ময়লা ট্যাংকারে করে তুলে নিয়ে গিয়ে প্লান্টে ফেলে। এক্ষেত্রে ট্যাংকির আকার অনুযায়ী সার্ভিস চার্জ দিয়ে এই সেবা নিচ্ছেন পৌরবাসী।

সেখানে একটা সরকারি প্রতিষ্ঠান তাও আবার স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকারী হয়েও তারা পৌরসভার স্বাস্থ্য সম্মত সেবা না নিয়ে এতটা অস্বাস্থ্যকর ও পরিবেশ দূষণ করা কাজ কিভাবে করতে পারলো? এমন প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

সৈয়দপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কার্যক্রম তদারকি কর্মকর্তা প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন, কোন ভাবেই মানববর্জ্য ড্রেনে ফেলা যাবেনা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যদি এমন করে তা ঠিক করেনি। আমরা ব্যবস্থা নিবো এবং ভেকুট্যাগ দিয়ে পরিষ্কার করে দিবো।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী কমল রায় বলেন, মূলত: স¤প্রতি জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার সদস্যদের ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এই আনসার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ এই কাজ বাস্তবায়ন করছে। সেজন্যই মূলতঃ টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করছে তারা৷ তবে ড্রেনে ফেলা ঠিক হয়নি। আমরা বন্ধ করে দিয়েছি।

এর প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার এর কাছে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এতে তিনি বলেন, আমি একটা ট্রেনিং এর কাজে নীলফামারীতে আছি। বিষয়টা আমার জানা নেই। তবে আমি দ্রæত কাজ বন্ধ করে দিচ্ছি এবং পৌরসভার ভেকুট্যাগ দিয়ে পরিষ্কারের ব্যবস্থা করছি।