০৩:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

সৈয়দপুর উপজেলা পঃ পঃ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সময়মত অফিসে না আসা, নিয়মিত অফিস না করা, অধ্যস্তনদের সাথে অসদাচারণ ও ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে নেয়া, অহেতুক শোকজ ও চাকুরীচ্যুতির হুমকি, কর্মচারীদের টিএ বিল আত্মসাৎ করা, অফিসের বিলের টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করাসহ আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয় অফিসসহ জেলা অফিসে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। কিন্তু তারপরও কর্তৃপক্ষ তাকে বহাল রাখায় ক্রমেই যেমন অসন্তোষ বাড়ছে, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সেবা গ্রহিতারা।

জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা ২০২৪ সালের ১৪ মে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত অফিস করেন না। আর আসলেও যথাসময়ে আসেন না। সেই সাথে অফিসে তার অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে রুঢ় আচরণ করেন। কোন কারণ ছাড়াই বকাঝকা করাসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন। এমনকি তাদেরকে দিয়ে তার বাসার কাজ করানোসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেন। তাঁর স্ত্রীও একই ক্যাম্পাসে পাশের অফিসে কর্মরত থাকায় ৯ মাসের শিশু সন্তানকে স্বামীর অফিসের স্ট্যাফদের কাছে দিয়ে যান এবং তাদেরকেই শিশুর দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করেন।

এব্যাপারে কেউ অনিহা প্রকাশ করলে বা প্রতিবাদ জানালে তাকে হেনস্থার শিকার হতে হয়। জুয়েল রানার আত্মীয় বা পরিচিত কেউ আসলে তাকেও অফিসে এনে আপ্যায়নের জন্য অধস্তনদের নির্দেশ দেন এবং খরচ বহনে বাধ্য করেন। এক্ষেত্রে একজন মাঠকর্মীকে মধ্যস্থ হিসেবে ব্যবহার করেন। এসব কারণে অফিসের নারী কর্মচারীরা চরম অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। এনিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় সৈয়দপুর উপজেলায় কর্মরতদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, পাশেই সৈয়দপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার অফিসেই পঃ পঃ কর্মকর্তার স্ত্রী শারমিন আক্তার শিমু অডিটর পদে চাকুরী করেন। তাদের শিশু সন্তানকে প্রায়ই অফিসে এনে আমাদের কাছে রেখে যান। বাধ্য হয়ে শিশুটির দেখাশোনা করতে হয় আমাদের। এমনকি তার স্ত্রী অসুস্থ হলে বাড়িতে গিয়েও কাজ করতে হয়। উধর্বতন কর্তৃপক্ষের কেউ আসলে তাদের জন্য আপ্যায়নের রান্নাও আমাদেরকে দিয়েই করিয়ে নেন। আবার অনেক সময় তাঁর ব্যক্তিগত অতিথির আপ্যায়নের খরচও আমাদেরকেই বহন করতে হয়। আমাদের কোন প্রয়োজনে অফিসিয়াল কাজে তার স্বাক্ষর নিতে গেলে টাকা দাবি করেন। টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না। মাঠ পর্যায়ে তদারকিও তিনি করেন না। তিনি বাসায় বসেই অফিসের কাজ করেন। অফিস সহায়ককে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনতে হয়। অফিস সহায়ক না থাকলে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অন্য কর্মচারীদের দিয়ে হোটেল থেকে খাবার আনা, চা আনা, ব্যাংকে যাওয়া, বাজার করা ইত্যাদি কাজ করান।

তারা আরও বলেন, উপজেলা বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী অনিমেষকে দিয়ে আমাদেরকে ওইসব কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অনিমেষই যেন এই অফিসে কর্মকর্তার মূল পরামর্শক। তার কথামতই আমাদের চলতে হয়। এসব বিষয়ে উধর্বতনদের বার বার জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগ করার কারনে আরও বেশি হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এমতাবস্থায় এখানে চাকুরী করাই যেন দুরুহ হয়ে পড়েছে। আমরা অফিস স্টাফ ও মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা যৌথভাবে মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। যার অনুলিপি পরিচালক (প্রশাসন), রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ও নীলফামারীর উপপরিচালককেও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপজেলা পঃ পঃ কর্মকর্তা জুয়েল রানা অফিসে উপস্থিত কর্মচারীদের ডেকে নিয়ে কে অভিযোগ করেছেন তা জানতে চান। এতে তারা নিরব থাকলে তিনি বড়াই করে বলেন অভিযোগ যে মিথ্যে তার প্রমাণ পেলেন। আমার বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যে অভিযোগ করে কোন লাভ করতে পারবেনা। আমার দিক থেকে আমি স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক আছি। কেউ যদি অভিযোগ করেই থাকে তাহলে তিনিই সমস্যায় পড়বেন।

নীলফামারী জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক মো. এস এম আল কামাল মুঠোফোনে বলেন, উপজেলা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে আমাকে বা রংপুর বিভাগীয় পরিচালককে দিতে বলেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিবো। আর আপনার যদি তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেন তাহলে হয়তো উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৈয়দপুর উপজেলা পঃ পঃ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

সৈয়দপুর উপজেলা পঃ পঃ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত ০২:৫৭:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সময়মত অফিসে না আসা, নিয়মিত অফিস না করা, অধ্যস্তনদের সাথে অসদাচারণ ও ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে নেয়া, অহেতুক শোকজ ও চাকুরীচ্যুতির হুমকি, কর্মচারীদের টিএ বিল আত্মসাৎ করা, অফিসের বিলের টাকা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করাসহ আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয় অফিসসহ জেলা অফিসে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। কিন্তু তারপরও কর্তৃপক্ষ তাকে বহাল রাখায় ক্রমেই যেমন অসন্তোষ বাড়ছে, তেমনি কাজের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন সেবা গ্রহিতারা।

জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা ২০২৪ সালের ১৪ মে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত অফিস করেন না। আর আসলেও যথাসময়ে আসেন না। সেই সাথে অফিসে তার অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে রুঢ় আচরণ করেন। কোন কারণ ছাড়াই বকাঝকা করাসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন। এমনকি তাদেরকে দিয়ে তার বাসার কাজ করানোসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেন। তাঁর স্ত্রীও একই ক্যাম্পাসে পাশের অফিসে কর্মরত থাকায় ৯ মাসের শিশু সন্তানকে স্বামীর অফিসের স্ট্যাফদের কাছে দিয়ে যান এবং তাদেরকেই শিশুর দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করেন।

এব্যাপারে কেউ অনিহা প্রকাশ করলে বা প্রতিবাদ জানালে তাকে হেনস্থার শিকার হতে হয়। জুয়েল রানার আত্মীয় বা পরিচিত কেউ আসলে তাকেও অফিসে এনে আপ্যায়নের জন্য অধস্তনদের নির্দেশ দেন এবং খরচ বহনে বাধ্য করেন। এক্ষেত্রে একজন মাঠকর্মীকে মধ্যস্থ হিসেবে ব্যবহার করেন। এসব কারণে অফিসের নারী কর্মচারীরা চরম অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। এনিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় সৈয়দপুর উপজেলায় কর্মরতদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, পাশেই সৈয়দপুর উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার অফিসেই পঃ পঃ কর্মকর্তার স্ত্রী শারমিন আক্তার শিমু অডিটর পদে চাকুরী করেন। তাদের শিশু সন্তানকে প্রায়ই অফিসে এনে আমাদের কাছে রেখে যান। বাধ্য হয়ে শিশুটির দেখাশোনা করতে হয় আমাদের। এমনকি তার স্ত্রী অসুস্থ হলে বাড়িতে গিয়েও কাজ করতে হয়। উধর্বতন কর্তৃপক্ষের কেউ আসলে তাদের জন্য আপ্যায়নের রান্নাও আমাদেরকে দিয়েই করিয়ে নেন। আবার অনেক সময় তাঁর ব্যক্তিগত অতিথির আপ্যায়নের খরচও আমাদেরকেই বহন করতে হয়। আমাদের কোন প্রয়োজনে অফিসিয়াল কাজে তার স্বাক্ষর নিতে গেলে টাকা দাবি করেন। টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না। মাঠ পর্যায়ে তদারকিও তিনি করেন না। তিনি বাসায় বসেই অফিসের কাজ করেন। অফিস সহায়ককে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনতে হয়। অফিস সহায়ক না থাকলে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অন্য কর্মচারীদের দিয়ে হোটেল থেকে খাবার আনা, চা আনা, ব্যাংকে যাওয়া, বাজার করা ইত্যাদি কাজ করান।

তারা আরও বলেন, উপজেলা বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী অনিমেষকে দিয়ে আমাদেরকে ওইসব কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অনিমেষই যেন এই অফিসে কর্মকর্তার মূল পরামর্শক। তার কথামতই আমাদের চলতে হয়। এসব বিষয়ে উধর্বতনদের বার বার জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগ করার কারনে আরও বেশি হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। এমতাবস্থায় এখানে চাকুরী করাই যেন দুরুহ হয়ে পড়েছে। আমরা অফিস স্টাফ ও মাঠ পর্যায়ের কর্মচারীরা যৌথভাবে মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। যার অনুলিপি পরিচালক (প্রশাসন), রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ও নীলফামারীর উপপরিচালককেও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার দূর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপজেলা পঃ পঃ কর্মকর্তা জুয়েল রানা অফিসে উপস্থিত কর্মচারীদের ডেকে নিয়ে কে অভিযোগ করেছেন তা জানতে চান। এতে তারা নিরব থাকলে তিনি বড়াই করে বলেন অভিযোগ যে মিথ্যে তার প্রমাণ পেলেন। আমার বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যে অভিযোগ করে কোন লাভ করতে পারবেনা। আমার দিক থেকে আমি স্বচ্ছ ও স্বাভাবিক আছি। কেউ যদি অভিযোগ করেই থাকে তাহলে তিনিই সমস্যায় পড়বেন।

নীলফামারী জেলা পরিবার পরিকল্পনা উপ-পরিচালক মো. এস এম আল কামাল মুঠোফোনে বলেন, উপজেলা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা লিখিত আকারে আমাকে বা রংপুর বিভাগীয় পরিচালককে দিতে বলেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিবো। আর আপনার যদি তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেন তাহলে হয়তো উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।