০৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

‘শিশু শ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার ( ১৪ জুন ) সকালে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ-তরুণী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।

সনাক সভাপতি আকতারুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন ইয়েস দলনেতা সাখাওয়াত হোসেন, সহ-দলনেতা বর্ষা প্রামাণিক, ইয়েস সদস্য আব্দুল কুদ্দুস উৎস ও কুমারী বৃষ্টি রানী রায় এবং টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আকতারুল আলম রাজু অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে নীতিগত অঙ্গীকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবতার নিরিখে এটি এখনো আমাদের সমাজে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে এবং বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের ভয়াবহ উপস্থিতি মূলত আমাদের দারিদ্র্য, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের আধিপত্য এবং সুশাসনের ঘাটতির বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে সমাজ ও প্রশাসনের সামনে তুলে ধরে।

তিনি তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখন দ্রুত কার্যকর ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন কারণ শিশুশ্রম শুধু শিশুদের সুন্দর শৈশবকেই কেড়ে নেয় না, বরং তাদের মৌলিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভবিষ্যতের পথকেও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে, তাই একটি সম্পূর্ণ শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী মহল এবং নাগরিক সমাজসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কর্মসূচিতে টিআইবির পক্ষ থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নির্মূলের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি বিশেষ পাঁচ দফা সুপারিশমালা তুলে ধরা হয় যেখানে বক্তারা শিশুদের সকল প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করা, তাদের বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং একই সাথে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে দিবসের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০২ সালে বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রমিকদের চরম দুর্দশা এবং তাদের সুরক্ষার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে সামনে আনতে ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ চালু করে এবং প্রতি বছর ১২ জুন বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হলেও জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের গঠনমূলক কর্মসূচি আয়োজন করে আসছেন।

পরিশেষে, উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে মুখরিত এই মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে দেশব্যাপী শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে একটি জোরালো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার এবং প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

প্রকাশিত ০৯:৫৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

‘শিশু শ্রমকে লাল কার্ড দেখাই, শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার ( ১৪ জুন ) সকালে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এবং এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ-তরুণী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।

সনাক সভাপতি আকতারুল আলম রাজুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদান করেন ইয়েস দলনেতা সাখাওয়াত হোসেন, সহ-দলনেতা বর্ষা প্রামাণিক, ইয়েস সদস্য আব্দুল কুদ্দুস উৎস ও কুমারী বৃষ্টি রানী রায় এবং টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে আকতারুল আলম রাজু অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে নীতিগত অঙ্গীকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবতার নিরিখে এটি এখনো আমাদের সমাজে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে এবং বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের ভয়াবহ উপস্থিতি মূলত আমাদের দারিদ্র্য, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের আধিপত্য এবং সুশাসনের ঘাটতির বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে সমাজ ও প্রশাসনের সামনে তুলে ধরে।

তিনি তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখন দ্রুত কার্যকর ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন কারণ শিশুশ্রম শুধু শিশুদের সুন্দর শৈশবকেই কেড়ে নেয় না, বরং তাদের মৌলিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভবিষ্যতের পথকেও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে, তাই একটি সম্পূর্ণ শিশুশ্রমমুক্ত সমাজ গঠনে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যবসায়ী মহল এবং নাগরিক সমাজসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

কর্মসূচিতে টিআইবির পক্ষ থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নির্মূলের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি বিশেষ পাঁচ দফা সুপারিশমালা তুলে ধরা হয় যেখানে বক্তারা শিশুদের সকল প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করা, তাদের বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং একই সাথে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আসাদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে দিবসের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০২ সালে বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রমিকদের চরম দুর্দশা এবং তাদের সুরক্ষার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে সামনে আনতে ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ চালু করে এবং প্রতি বছর ১২ জুন বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হলেও জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের গঠনমূলক কর্মসূচি আয়োজন করে আসছেন।

পরিশেষে, উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে মুখরিত এই মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে দেশব্যাপী শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে একটি জোরালো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার এবং প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও মর্যাদাপূর্ণ শৈশব নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।