০১:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সৈয়দপুরে ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার, আটক ৭ জনের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায়

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা প্রায় ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অভিনব কৌশলে কাভার্ড ভ্যান ও এম্বুলেন্স সদৃশ্য মাইক্রোবাসে বড় বড় জারকিনে করে পাচারের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়েছে চালান। এর সাথে জড়িত ৭ জনকে আটকের পর ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১০ টায় সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ধলাগাছ সুখিপাড়া ম্যাচ ফ্যাক্টরী এলাকায় বাইপাস সড়ক সংলগ্ন রোকেয়া এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে। গ্যাস পাম্পের আড়ালে জ্বালানি তেলের বিশাল মজুদ গড়ে তুলে অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছিল বিভিন্ন তেল পাম্প থেকে সিন্ডিকেট করে সংগৃহিত অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল।

এই ঘটনায় অর্থদন্ডে দন্ডিত ব্যক্তিরা হলেন মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), কর্মচারী মেরাজ (২৫), সাগর (২২), আইনুদ্দিন (৩০), জাহাঙ্গীর (২৩), আলমিস (২৬) ও সিরাজ (২০)। এছাড়াও একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় ৫ টি লরি, ১ টি কাভার্ড ভ্যান, ১ টি মাইক্রোবাসসহ বড় বড় প্লাস্টিকের ড্রাম জব্দ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাভার্ড ভ্যান, তেলের লরি, বড় বড় ড্রাম এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে গোপনে তেল মজুদ করে আসছিল। পরে এসব তেল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হতো। যখন সাধারণ মানুষ তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে, তখনই আড়ালে চলছিল এই অবৈধ বাণিজ্য।

সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির হোসেন-এর নেতৃত্বে পুলিশসহ একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়। অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে অস্থায়ী গুদাম তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

এসময় ওই গ্যাসপাম্পে অবস্থানরত একটা কাভার্ড ভ্যানের ভিতরে অভিনব কায়দায় তৈরি তেল ট্যাংকারসহ মিনি তেল পাম্প দেখা যায়। এছাড়া একটা মাইক্রোবাস যা দেখতে এম্বুলেন্সের মত, তার ভিতরেও প্লাস্টিকের বড় বড় জারকিনে করে তেল পাচারের জন্য নেয়া হয়েছে। একইসাথে ৩ টি তেল ট্যাংকার লরিও রাখা ছিল।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন শনিবার মুঠোফোনে জানান, উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে পেট্রোল ছিল ৩৯ হাজার ১৭ লিটার, ডিজেল ৩৩৮ লিটার ও অকটেন ২৪০ লিটার। যার সর্বমোট মূল্য ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকা। যা বিভিন্ন তেল পাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলামের ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও ৬ জনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে তারা সকলেই অর্থদন্ড দিয়েছে। তাই তাদের ছেড়ে দিয়ে জব্দকৃত গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট মালামাল ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, তেল নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সৈয়দপুরবাসীকে। প্রতিদিন তেলের জন্য পাম্পগুলোতে মোটর সাইকেলসহ যানবাহন চালকদের দীর্ঘ সময় ধরে লম্বা লাইনে অপেক্ষার দৃশ্য করুন আকার ধারণ করে। তার উপর কাড়াকাড়ি মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তুলছে গ্রীন ভয়েস

সৈয়দপুরে ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার, আটক ৭ জনের ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদন্ড আদায়

প্রকাশিত ০১:১২:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা প্রায় ৪০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। অভিনব কৌশলে কাভার্ড ভ্যান ও এম্বুলেন্স সদৃশ্য মাইক্রোবাসে বড় বড় জারকিনে করে পাচারের সময় হাতেনাতে আটক করা হয়েছে চালান। এর সাথে জড়িত ৭ জনকে আটকের পর ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১০ টায় সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ধলাগাছ সুখিপাড়া ম্যাচ ফ্যাক্টরী এলাকায় বাইপাস সড়ক সংলগ্ন রোকেয়া এলপিজি গ্যাস ফিলিং স্টেশনে। গ্যাস পাম্পের আড়ালে জ্বালানি তেলের বিশাল মজুদ গড়ে তুলে অবৈধভাবে পাচার করা হচ্ছিল বিভিন্ন তেল পাম্প থেকে সিন্ডিকেট করে সংগৃহিত অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল।

এই ঘটনায় অর্থদন্ডে দন্ডিত ব্যক্তিরা হলেন মেসার্স রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩৫), কর্মচারী মেরাজ (২৫), সাগর (২২), আইনুদ্দিন (৩০), জাহাঙ্গীর (২৩), আলমিস (২৬) ও সিরাজ (২০)। এছাড়াও একজন এসএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তাকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় ৫ টি লরি, ১ টি কাভার্ড ভ্যান, ১ টি মাইক্রোবাসসহ বড় বড় প্লাস্টিকের ড্রাম জব্দ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাভার্ড ভ্যান, তেলের লরি, বড় বড় ড্রাম এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে গোপনে তেল মজুদ করে আসছিল। পরে এসব তেল কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা হতো। যখন সাধারণ মানুষ তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে, তখনই আড়ালে চলছিল এই অবৈধ বাণিজ্য।

সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির হোসেন-এর নেতৃত্বে পুলিশসহ একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালায়। অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে অস্থায়ী গুদাম তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।

এসময় ওই গ্যাসপাম্পে অবস্থানরত একটা কাভার্ড ভ্যানের ভিতরে অভিনব কায়দায় তৈরি তেল ট্যাংকারসহ মিনি তেল পাম্প দেখা যায়। এছাড়া একটা মাইক্রোবাস যা দেখতে এম্বুলেন্সের মত, তার ভিতরেও প্লাস্টিকের বড় বড় জারকিনে করে তেল পাচারের জন্য নেয়া হয়েছে। একইসাথে ৩ টি তেল ট্যাংকার লরিও রাখা ছিল।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেন শনিবার মুঠোফোনে জানান, উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে পেট্রোল ছিল ৩৯ হাজার ১৭ লিটার, ডিজেল ৩৩৮ লিটার ও অকটেন ২৪০ লিটার। যার সর্বমোট মূল্য ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪০৭ টাকা। যা বিভিন্ন তেল পাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় রোকেয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুর রহমানের ছেলে রফিকুল ইসলামের ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং আরও ৬ জনকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে তারা সকলেই অর্থদন্ড দিয়েছে। তাই তাদের ছেড়ে দিয়ে জব্দকৃত গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট মালামাল ফেরত দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, তেল নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সৈয়দপুরবাসীকে। প্রতিদিন তেলের জন্য পাম্পগুলোতে মোটর সাইকেলসহ যানবাহন চালকদের দীর্ঘ সময় ধরে লম্বা লাইনে অপেক্ষার দৃশ্য করুন আকার ধারণ করে। তার উপর কাড়াকাড়ি মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে এই ঘটনার পর এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।