শীঘ্রই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে উল্লেখ করে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন,“আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদেরকে বলেছেন, ‘আমি (প্রধানমন্ত্রী) খুব শীঘ্রই এই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হাতে নেব। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতির অংশ’।
শুক্রবার(১৯ জুন) সকাল হতে বিকেল পর্যন্ত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ কমা- এলাকা ও তিস্তা নদী অববাহিকা পরিদর্শন শেষে ডালিয়াস্থ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভিআইপি রেস্ট হাউস অবসরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা ও সাংবাাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে একথা বলেন তিনি।
এসময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. আসাদুল হাবীব দুলু, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন আজাদ। পানি সম্পদমন্ত্রী এ্যানি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একত্রিত হয়ে আজকে এই এলাকায় এসেছি। সরেজমিনে দেখেছি। পদ্মা ব্যারেজ যেভাবে একনেকে পাস হয়েছে, খুব শীঘ্রই আমাদের টেকনিক্যাল টিম কাজ শেষে রিপোর্ট দিলে তিস্তা মহপরিকল্পনা একনেকে পাশ হবে ইনশাআল্লাহ’।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কেউ এই প্রকল্প গ্রহণ করার আগে-পিছনে অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু একটা কথাই আমি বলার চেষ্টা করছি যে, পরিকল্পিত প্ল্যান ওয়াইজ যদি আমরা না আগাই, তাহলে আমরা হোঁচট খেতে পারি। যার কারণে বিশেষজ্ঞ টিম আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস এবং বিদেশী দুই-চারটার মতামত গ্রহণ করব। পাশাপশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ যাঁরা আছেন ওনারাও একটা সেমিনারের আয়োজন করবেন বলে আমাকে বলেছেন। সবাই মিলে আলোচনা করে খুব অল্প সময়ে, দ্রুততার মধ্য দিয়ে আমরা এই প্রকল্পটা একনেকে পাস করানোর উদ্যোগ গ্রহণ করব ইনশাল্লাহ’।
তিস্তার ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা শুধু এ এলাকার দুঃখ না, এটা সারা বাংলাদেশের দুঃখ। আমরা যখনই এই কাজগুলো দৃশ্যমান করে প্রকল্প সমাপ্ত করতে পারবো এর সুফল এই অঞ্চলের মানুষ পেতে শুরু করলে, সারা বাংলাদেশের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন খুব শীঘ্রই উদ্বোধন করতে পারেন, সেই কাজটাও আমরা সম্পন্ন করব ইনশাল্লাহ’। এর আগে মন্ত্রী তিস্তা প্রধান সেচ খাল, নীলফামারীর জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও নীলফামারী জেলা সদরে দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন।
এসময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মো. আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী মোা. ফরহাদ হোসেন আজাদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা) ব্যারিস্টার রাজিব হাসান প্রধান, লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন সহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ সদস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (উত্তরাঞ্চল) ড. মোহাঃ সরফরাজ বান্দা, নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
























