১১:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংক শাখার ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নৈশ প্রহরী ফিরোজ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহকের ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে লাপাত্তা নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়া। এ ঘটনায় ব্যাংক পাড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনালী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপক জানান এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে। জিডি নম্বর ১৪৯১।

গ্রাহকদের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসমাইল গ্রামের কছির উদ্দিনের পুত্র ফিরোজ মিয়া গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে সোনালী ব্যাংক শাখার নৈশ প্রহরী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। নৈশ প্রহরী পদে থাকলেও ফিরোজ মিয়া অফিস চলাকালিন সময়ে ব্যাংকের গ্রাহকদের একাউন্ট খোলা, লোনের ফাইল সাজানো, টাকা জমা ও উত্তোলন করা সহ যাবতীয় কাজে গ্রাহকদের সহযোগিতা করতেন।

এভাবে দিনের পর দিন কাজ করার ফলে সে গ্রাহকদের বিশ্বস্ত হয়ে উঠে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকে কর্মরত অলস ফাঁকিবাজ ও দুর্নীতিবাজ ব্যাংকাররা নিজের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে ফিরোজকে দিয়ে ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ কাজ করিয়ে নেন। সেই থেকে নৈশ প্রহরী ফিরোজ হয়ে উঠেন গ্রাহকদের আস্তার প্রতীক। গ্রাহকদের ধারনা ছিল ফিরোজ যা করবে তাই হবে। সে কারনেই গ্রাহকরা সময় ব্যায় না করে ফিরোজের মাধ্যমে অভ্যান্তরীন লেনদেন করে থাকতেন।

সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী ফিরোজের আলিসান বাড়ি

ব্যাংকে সেবা নিতে আসা গ্রাহক ছাদিকুল মিয়া বলেন, সোনালী ব্যাংকে লোন করতে আসলে আগে ফিরোজের সাথে কথা বললে হত। ফিরোজ যার বিষয়ে ম্যানেজার বা অন্যান্য কর্মকর্তাদের সুপারিশ করতেন তাঁর কাজ আগে হত। এমনকি ফিরোজ ব্যাংকে লোন করতে আসা শিক্ষক, ব্যাবসায়ী, ঠিকাদার, কৃষক সহ সকলের কাছ থেকে ব্যাংকে লোন করে দেয়ার কথা বলে ফাঁকা চেক বইয়ের পাতা, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অলিখিত ষ্ট্যাম ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে রাখত ।

পরবর্তীতে সেই সকল গ্রাহকের নামে মোটা অংকের লোন পাশ করে নিয়ে তাদেরকে নাম মাত্র টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিদায় দিতেন। কয়েক বছর পর ব্যাংক থেকে নোটিশ গেলে তারা লোনের পরিমান দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। কিন্তু তাদের আর কিছুই করার থাকেনা। বাধ্য হয়ে জমি জায়গা ঘরবাড়ি বিক্রি করে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে বাধ্য হন গ্রাহকরা। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। শুধু নৈশ প্রহরী ফিরোজ নয় ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা এর সাথে জড়িত। এটাকেই বলে ডিজিটাল দুর্নীতি।

সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক তহুরা(তহুজা) বেগম বলেন, আমি সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখায় একটি এফডিআর করেছিলাম। এফডিআরের মেয়াদ পুর্ন হওয়ার পর আমি ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়েছিলাম। নৈশ প্রহরী ফিরোজ আমাকে জানায় আপনি চেকবই দিয়ে যান আমি সবকিছু রেডি করে রাখব আপনি কয়েকদিন পরে এসে টাকা নিয়ে যান। দুই তিনদিন পর ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে জানতে পারি আমার একাউন্ট শুন্য। পরে বিষয়টি ম্যানেজারকে জানালে তিনি আমার টাকার দায়িত্ব নেন। আপনি কত টাকার এফডি আর করেছিলেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তপক্ষ কাউকে তথ্য দিতে নিষেধ করেছে। তারা বলেছে বিষয়টি অন্য কাউকে জানালে আমার টাকা ফেরৎ পাবনা।

ব্যাংকের অপর গ্রাহক আরজিনা বেগম বলেন, আমি মাদ্রাসায় চাকুরী করি। ফিরোজ আমার বেতনের ২৮ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। নৈশ প্রহরী ফিরোজের বাবা কছির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আমার ছেলে ব্যাংকের অনেক গ্রাহকের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে স্বীকার করে বলেন, এর মধ্যে গাড়াগ্রামের তহুড়া বেগমকেসহ কয়েকজনের ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক ম্যানেজার পংকজ কান্তি রায়ের মাধ্যমে ফেরৎ দিয়েছি। এতগুলো টাকা আমার ছেলে কি করেছে তা আমার জানা নেই।

কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যাবস্থাপক পংকজ কান্তি রায়ের কাছে, ব্যাংকের কতজন গ্রাহকের আমানত খোয়া গেছে, খোয়া যাওয়া আমানত কারীর সংখ্যা, টাকার পরিমান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংকের ভাবমৃর্তি নষ্ট হওয়ায় আশংখায় এসব তথ্য এ মুহুত্বে দেয়া যাবেনা। তবে তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়া গত জুলাই মাসের ২০ তারিখ থেকে হঠাৎ করে ব্যাংকে আসা বন্ধ করে দেন। তাঁর বিষয়ে খোঁজ খবর নিলে তাঁর পরিবারের লোকজন জানান, সে জরুরী কাজে ঢাকায় গেছে। তাঁর ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তাঁর বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে এই সংবাদ জানার পর সোনালী ব্যাংকের ১০ থেকে ১৫ জন আমানত কারী ব্যাংকে এসে তাদের একাউন্টে টাকা না পেয়ে বিষয়টি আমরা জানতে পারি। ইতিমধ্যে কয়েকজন গ্রাহককে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়েছি।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর মিয়া সাধারন ডায়েরী (জিডির) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন , কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী গত জুলাই মাসের ২০ তারিখ থেকে নিঁেখাজ রয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি মিসিং ডায়েরী করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংক শাখার ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নৈশ প্রহরী ফিরোজ

কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংক শাখার ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা নৈশ প্রহরী ফিরোজ

প্রকাশিত ০৮:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সোনালী ব্যাংক শাখার ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহকের ৫০ লক্ষ টাকা নিয়ে লাপাত্তা নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়া। এ ঘটনায় ব্যাংক পাড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনালী ব্যাংকের ব্যাবস্থাপক জানান এ ব্যাপারে থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে। জিডি নম্বর ১৪৯১।

গ্রাহকদের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ইসমাইল গ্রামের কছির উদ্দিনের পুত্র ফিরোজ মিয়া গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে সোনালী ব্যাংক শাখার নৈশ প্রহরী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। নৈশ প্রহরী পদে থাকলেও ফিরোজ মিয়া অফিস চলাকালিন সময়ে ব্যাংকের গ্রাহকদের একাউন্ট খোলা, লোনের ফাইল সাজানো, টাকা জমা ও উত্তোলন করা সহ যাবতীয় কাজে গ্রাহকদের সহযোগিতা করতেন।

এভাবে দিনের পর দিন কাজ করার ফলে সে গ্রাহকদের বিশ্বস্ত হয়ে উঠে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকে কর্মরত অলস ফাঁকিবাজ ও দুর্নীতিবাজ ব্যাংকাররা নিজের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে ফিরোজকে দিয়ে ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ কাজ করিয়ে নেন। সেই থেকে নৈশ প্রহরী ফিরোজ হয়ে উঠেন গ্রাহকদের আস্তার প্রতীক। গ্রাহকদের ধারনা ছিল ফিরোজ যা করবে তাই হবে। সে কারনেই গ্রাহকরা সময় ব্যায় না করে ফিরোজের মাধ্যমে অভ্যান্তরীন লেনদেন করে থাকতেন।

সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী ফিরোজের আলিসান বাড়ি

ব্যাংকে সেবা নিতে আসা গ্রাহক ছাদিকুল মিয়া বলেন, সোনালী ব্যাংকে লোন করতে আসলে আগে ফিরোজের সাথে কথা বললে হত। ফিরোজ যার বিষয়ে ম্যানেজার বা অন্যান্য কর্মকর্তাদের সুপারিশ করতেন তাঁর কাজ আগে হত। এমনকি ফিরোজ ব্যাংকে লোন করতে আসা শিক্ষক, ব্যাবসায়ী, ঠিকাদার, কৃষক সহ সকলের কাছ থেকে ব্যাংকে লোন করে দেয়ার কথা বলে ফাঁকা চেক বইয়ের পাতা, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অলিখিত ষ্ট্যাম ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি নিয়ে রাখত ।

পরবর্তীতে সেই সকল গ্রাহকের নামে মোটা অংকের লোন পাশ করে নিয়ে তাদেরকে নাম মাত্র টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে বিদায় দিতেন। কয়েক বছর পর ব্যাংক থেকে নোটিশ গেলে তারা লোনের পরিমান দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন। কিন্তু তাদের আর কিছুই করার থাকেনা। বাধ্য হয়ে জমি জায়গা ঘরবাড়ি বিক্রি করে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করতে বাধ্য হন গ্রাহকরা। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেড়িয়ে আসবে। শুধু নৈশ প্রহরী ফিরোজ নয় ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তা এর সাথে জড়িত। এটাকেই বলে ডিজিটাল দুর্নীতি।

সোনালী ব্যাংকের গ্রাহক তহুরা(তহুজা) বেগম বলেন, আমি সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখায় একটি এফডিআর করেছিলাম। এফডিআরের মেয়াদ পুর্ন হওয়ার পর আমি ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়েছিলাম। নৈশ প্রহরী ফিরোজ আমাকে জানায় আপনি চেকবই দিয়ে যান আমি সবকিছু রেডি করে রাখব আপনি কয়েকদিন পরে এসে টাকা নিয়ে যান। দুই তিনদিন পর ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে জানতে পারি আমার একাউন্ট শুন্য। পরে বিষয়টি ম্যানেজারকে জানালে তিনি আমার টাকার দায়িত্ব নেন। আপনি কত টাকার এফডি আর করেছিলেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তপক্ষ কাউকে তথ্য দিতে নিষেধ করেছে। তারা বলেছে বিষয়টি অন্য কাউকে জানালে আমার টাকা ফেরৎ পাবনা।

ব্যাংকের অপর গ্রাহক আরজিনা বেগম বলেন, আমি মাদ্রাসায় চাকুরী করি। ফিরোজ আমার বেতনের ২৮ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে। নৈশ প্রহরী ফিরোজের বাবা কছির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, আমার ছেলে ব্যাংকের অনেক গ্রাহকের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছে স্বীকার করে বলেন, এর মধ্যে গাড়াগ্রামের তহুড়া বেগমকেসহ কয়েকজনের ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক ম্যানেজার পংকজ কান্তি রায়ের মাধ্যমে ফেরৎ দিয়েছি। এতগুলো টাকা আমার ছেলে কি করেছে তা আমার জানা নেই।

কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ব্যাবস্থাপক পংকজ কান্তি রায়ের কাছে, ব্যাংকের কতজন গ্রাহকের আমানত খোয়া গেছে, খোয়া যাওয়া আমানত কারীর সংখ্যা, টাকার পরিমান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যাংকের ভাবমৃর্তি নষ্ট হওয়ায় আশংখায় এসব তথ্য এ মুহুত্বে দেয়া যাবেনা। তবে তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী ফিরোজ মিয়া গত জুলাই মাসের ২০ তারিখ থেকে হঠাৎ করে ব্যাংকে আসা বন্ধ করে দেন। তাঁর বিষয়ে খোঁজ খবর নিলে তাঁর পরিবারের লোকজন জানান, সে জরুরী কাজে ঢাকায় গেছে। তাঁর ব্যাবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া না যাওয়ায় তাঁর বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে এই সংবাদ জানার পর সোনালী ব্যাংকের ১০ থেকে ১৫ জন আমানত কারী ব্যাংকে এসে তাদের একাউন্টে টাকা না পেয়ে বিষয়টি আমরা জানতে পারি। ইতিমধ্যে কয়েকজন গ্রাহককে ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়েছি।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল গফুর মিয়া সাধারন ডায়েরী (জিডির) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন , কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের নৈশ প্রহরী গত জুলাই মাসের ২০ তারিখ থেকে নিঁেখাজ রয়েছে। সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি মিসিং ডায়েরী করেছেন।