০৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

সৈয়দপুরে শিক্ষিকা কর্তৃক চাকু দিয়ে ফুটবল কেটে ফেলা ও অসদাচরণের প্রতিবাদে, বিচার দাবীতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

মাঠে প্রাকটিস করাকালে খেলার বল শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় এক শিক্ষিকা কর্তৃক ফুটবল চাকু দিয়ে কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণ ও থানায় মিথ্যে অভিযোগের প্রতিবাদে ও বিচার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই কর্মসূচী পালন করে উপজেলার সাতপাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটা স্মারকলিপি দিয়েছে।

জানা যায়, প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল টূর্ণামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য ছেলে ও মেয়েদের দুইটা দল গঠনের লক্ষ্যে সাতপাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুল মাঠে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রাকটিস করছে। গত ১৬ আগস্ট প্রাকটিস করার সময় হঠাৎ করে একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটা শ্রেণীকক্ষে দরজা দিয়ে বল ঢুকে পড়ে।

ওই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছিলেন জয়নব নামে একজন শিক্ষিকা। শিক্ষার্থীরা বল আনতে গেলে ওই শিক্ষিকা তাদের সামনেই নিজের ব্যাগ থেকে চাকু বের করে বলটা কেটে ফেলেন। এতে প্রতিবাদ করে ফুটবল এভাবে নষ্ট করার কারণ জানতে চাইলে ওই শিক্ষিকা ক্ষোভ দেখিয়ে বলেন বল কাটছি ভালো করেছি। তোদের কিছু করার থাকলে কর। এক পর্যায়ে তিনি অনেকটা উদগ্রীব হয়ে বলতে থাকেন মারবি নাকি মার মার এবং গায়ে পড়ার উপক্রম হন।

সেই সাথে পুলিশ দিয়ে শায়েস্তা করার কথাও বলেন এবং তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের চিত্র মোবাইলে ভিডিও করেন। এতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টা হাইস্কুলের শিক্ষক মিহির রায়কে জানালে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই শিক্ষিকার কাছে যান। এসময় মিহির রায়কে বলেন, আপনি বেয়াদব, আপনার সাথে কথা বলবোনা। ফলে মিহির রায় সম্মান বাঁচতে কিছু না বলেই ফিরে আসেন।

পরে ওই শিক্ষিকা থানায় গিয়ে নিজের করা মোবাইলের ভিডিও দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর জীবনের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে একইভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখে, শিক্ষার্থী বর্ষা আখতার, তাসফিকা, নিরব ও জাবের।

অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জয়নবের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মুঠোফোন কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের অফিসে গেলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজনকে তার জীবনের জন্য হুমকি মনে করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন শিক্ষিকা জয়নব। বিষয়টা ইউএনও কে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষক জয়নবের আবেদন আগে পেয়েছি। আজ শিক্ষার্থীরা এসে স্মারকলিপি দিয়েছে। বিষয়টা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিবেন বা সমাধান করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডোমারে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে শিক্ষিকা কর্তৃক চাকু দিয়ে ফুটবল কেটে ফেলা ও অসদাচরণের প্রতিবাদে, বিচার দাবীতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রকাশিত ০৫:৫৪:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

মাঠে প্রাকটিস করাকালে খেলার বল শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় এক শিক্ষিকা কর্তৃক ফুটবল চাকু দিয়ে কেটে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে অসদাচরণ ও থানায় মিথ্যে অভিযোগের প্রতিবাদে ও বিচার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই কর্মসূচী পালন করে উপজেলার সাতপাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটা স্মারকলিপি দিয়েছে।

জানা যায়, প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল টূর্ণামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য ছেলে ও মেয়েদের দুইটা দল গঠনের লক্ষ্যে সাতপাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুল মাঠে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রাকটিস করছে। গত ১৬ আগস্ট প্রাকটিস করার সময় হঠাৎ করে একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত সাতপাই বেলপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটা শ্রেণীকক্ষে দরজা দিয়ে বল ঢুকে পড়ে।

ওই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করছিলেন জয়নব নামে একজন শিক্ষিকা। শিক্ষার্থীরা বল আনতে গেলে ওই শিক্ষিকা তাদের সামনেই নিজের ব্যাগ থেকে চাকু বের করে বলটা কেটে ফেলেন। এতে প্রতিবাদ করে ফুটবল এভাবে নষ্ট করার কারণ জানতে চাইলে ওই শিক্ষিকা ক্ষোভ দেখিয়ে বলেন বল কাটছি ভালো করেছি। তোদের কিছু করার থাকলে কর। এক পর্যায়ে তিনি অনেকটা উদগ্রীব হয়ে বলতে থাকেন মারবি নাকি মার মার এবং গায়ে পড়ার উপক্রম হন।

সেই সাথে পুলিশ দিয়ে শায়েস্তা করার কথাও বলেন এবং তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের চিত্র মোবাইলে ভিডিও করেন। এতে শিক্ষার্থীরা বিষয়টা হাইস্কুলের শিক্ষক মিহির রায়কে জানালে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই শিক্ষিকার কাছে যান। এসময় মিহির রায়কে বলেন, আপনি বেয়াদব, আপনার সাথে কথা বলবোনা। ফলে মিহির রায় সম্মান বাঁচতে কিছু না বলেই ফিরে আসেন।

পরে ওই শিক্ষিকা থানায় গিয়ে নিজের করা মোবাইলের ভিডিও দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর জীবনের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে একইভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরাও মানববন্ধন করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখে, শিক্ষার্থী বর্ষা আখতার, তাসফিকা, নিরব ও জাবের।

অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জয়নবের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মুঠোফোন কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের অফিসে গেলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজনকে তার জীবনের জন্য হুমকি মনে করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য লিখিত আবেদন করেছেন শিক্ষিকা জয়নব। বিষয়টা ইউএনও কে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে সহকারী শিক্ষক জয়নবের আবেদন আগে পেয়েছি। আজ শিক্ষার্থীরা এসে স্মারকলিপি দিয়েছে। বিষয়টা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিবেন বা সমাধান করবেন।