উত্তরবঙ্গের বাতিঘর খ্যাত ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুর’ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে বরাবরের মতোই সাফল্যের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। শুধু পাসের হারের দিক থেকেই নয় জিপিএ-৫ পাওয়ার নজিরবিহীন সাফল্যে মেধার সাক্ষর রেখেছে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে বাংলা ও ইংলিশ ভার্সন মিলিয়ে মোট ২৭৪ জন শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৯৯.৬৪% শিক্ষার্থী কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। জিপিএ-৫ অর্জনের হারেও প্রতিষ্ঠানটি অভাবনীয় রেকর্ড গড়েছে। দুই ভার্সন মিলিয়ে মোট ২১৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে যার সার্বিক হার ৭৯.৫৬%।

প্রতিষ্ঠানটির ভার্সনভিত্তিক ফলাফলের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে দেখা যায়- বাংলা ভার্সনে মোট ২৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০২ জনই জিপিএ-৫ লাভ করেছে। বাংলা ভার্সনে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৮০.৮%। উল্লেখ্য, এর মধ্যে A অর্জন করেছে ৪৬ জন এবং A- অর্জন করেছে ০২ জন। অন্যদিকে ইংরেজি ভার্সনে ২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন জিপিএ-৫ এবং ৭ জন A অর্জন করেছে। স্বীকার্য যে, জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ৬৬.৬৭% এবং মোট পাশের হার ৯৫.৮৩%।
ফলাফলের এই ধারাবাহিক উৎকর্ষ সাধন ও গুণগত মানোন্নয়ন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা উচ্ছ্বসিত। এটি কেবল একটি সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল নয় বরং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির সুদূরপ্রসারী দূরদর্শিতা ও সুপরিকল্পিত একাডেমিক কার্যক্রমের উজ্জ্বল প্রতিফলন।

এই ঈর্ষণীয় সাফল্যের নেপথ্য কারিগর সুযোগ্য অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সৈয়দ শাফিউল ইসলাম মেরাজ, পিএসসি, জি, আর্টিলারি মহোদয়। যার গতিশীল নেতৃত্ব ও দক্ষ দিক-নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিক সুনাম ও সাফল্য অর্জন করে চলেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মাদ মাসউদুর রাহমান, পিএসসি মহোদয়ের নিবিড় পৃষ্ঠপোষকতা, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের কঠোর তত্ত্বাবধান, শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত অধ্যবসায় এবং অভিভাবকবৃন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার এক অপূর্ব মেলবন্ধনে এই গৌরবময় সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজ, সৈয়দপুর কেবল একাডেমিক সাফল্যের মধ্যেই থেমে নেই বরং শিক্ষার্থীদের সার্বিক মেধা ও মননের বিকাশে সহ-শিক্ষা (Co-curricular) ও অতিরিক্ত শিক্ষা কার্যক্রমে (Extra-curricular) প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিয়ত সুনামের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। ফলাফলের উত্তরোত্তর গুণগত মান বৃদ্ধি এবং আলোকিত মানুষ গড়ার এই মহতী ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

















