১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

অভিযান লোক দেখানো ও পক্ষপাত মুলক অভিযোগ সৈয়দপুর রেলওয়ের জমিতে গড়া অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদ

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও কোয়ার্টারগুলো থেকে দখলদার উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০ টায় শহরের গোলাহাট এলাকা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে রেলওয়ে সুত্রে জানা গেছে।

অভিযানে, শহরের গোলাহাট এলাকার বিশাল এক জলাশয় দখল করে গড়ে ওঠা ৬ টি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় ১০ টি দোকান, রাসুলপুর ও গার্ডপাড়া এলাকার কয়েকটি কোয়ার্টার থেকে দখলদার উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু এই অভিযানকে লোক দেখানো ও পক্ষপাত মুলক বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ। কারণ বেছে বেছে দূর্বল লোকদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

রেলওয়ে সূত্রমতে, সৈয়দপুর রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৮০০ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে। যার ৮০ শতাংশেরও বেশি চলে গেছে অবৈধ দখলে। জলাশয় দখল করা কয়েকজন ব্যাক্তি জানায়, জলাশয়টি রেলওয়ের কাছে লিজ নিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত রাজস্ব পরিশোধ করেছেন। কিন্তু উচ্ছেদে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা তাঁর জলাশয় সংলগ্ন ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেন।

একই অভিযোগ করেন ষ্টেশন এলাকার পান দোকানদার মজনু সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা নোটিশ পাইনি। রেলের লোকজন জোর করে আমার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন কিন্তু শহরের কাজিপাড়া হঠাৎ বস্তি এলাকায় বিএনপির নেতা পরিচয়ে ২ ব্যাক্তি রেলওয়ের প্রায় সারে ৩ একর ভুসম্পত্তি কৃষি লিজ নেয়ার কথা বলে প্লট আকারে বিক্রি করেছেন।

এনিয়ে অভিযোগ দেয়ার পরও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে না। একই সাথে রেলওয়ের ফিদালী ইনস্টিটিউট সংলগ্ন রেলওয়ের পুকুর ঘেষে শতাধিক ঘরবাড়ি নির্মাণ হলেও সেখানেও উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে না। তাছাড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে বিশাল বিশাল অট্টালিকা হলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছেনা। কারণ সেগুলো বৃত্তশালী ও প্রভাবশালীদের।

উচ্ছেদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাকশী রেল বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) সফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সৈয়দপুরে যত জলাশয়, রেলওয়ের কোয়ার্টার দখল ও পতিত জমি দখল বা কৃষি লিজ নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন, সেগুলি পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। এ নিয়ে রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলদারদের নোটিশও করা হয়েছে। একই সাথে অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়ম মেনেই উচ্ছেদ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ সময় উচ্ছেদের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে আভাস দেন তিনি।

উচ্ছেদ অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তোহিদুল ইসলাম, পার্বতীপুর রেলওয়ে কানুনগো মহসিন আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলাম ও পার্বতীপুর রেলওয়ের আরএনবি প্রধান আহসান হাবিব। এ ছাড়া অভিযানে অংশ নেন দুই শতাধিক রেলওয়ে শ্রমিক।

সৈয়দপুরের ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষ বলেন, এ উচ্ছেদ অভিযান হলো লোক দেখানো। রেলওয়ের কর্মকর্তারা মদদ না করলে সৈয়দপুরে সাড়ে ৮শ একর ভুসম্পত্তির মধ্যে সাড়ে ৪শ একর ভুসম্পত্তি বেদখল হয়ে যেতো না এবং সেখানে নির্মান হতো না মার্কেট ও বহুতল ভবন। যেসব ব্যাক্তি রেলওয়ের কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নাই, শুধু তাদেরই ঘরবাড়ি ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

তারা বলেন, যেসব দোকানপাট ও ঘরবাড়ি রেলওয়ের জমিতে রয়েছে, তা উচ্ছেদ না করে বৈধ ইজারা দেওয়া হোক। তবে রেলওয়ের যেসব জমি প্রয়োজন সেসব জমিতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হোক। রেল চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী উচ্ছেদ হলে ব্যবসায়ী সহ সাধারন মানুষ রেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবেন বলে জানান তারা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ জানান, উচ্ছেদ অভিযানে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের যেসব জমি প্রয়োজন সেসব জমি উদ্ধার করা হবে এবং রেলওয়ের প্রয়োজন নেই এমন ভুসম্পত্তি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

বিষয়
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিযান লোক দেখানো ও পক্ষপাত মুলক অভিযোগ সৈয়দপুর রেলওয়ের জমিতে গড়া অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদ

অভিযান লোক দেখানো ও পক্ষপাত মুলক অভিযোগ সৈয়দপুর রেলওয়ের জমিতে গড়া অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদ

প্রকাশিত ০৯:১৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও কোয়ার্টারগুলো থেকে দখলদার উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০ টায় শহরের গোলাহাট এলাকা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে রেলওয়ে সুত্রে জানা গেছে।

অভিযানে, শহরের গোলাহাট এলাকার বিশাল এক জলাশয় দখল করে গড়ে ওঠা ৬ টি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রেলওয়ে ষ্টেশন এলাকায় ১০ টি দোকান, রাসুলপুর ও গার্ডপাড়া এলাকার কয়েকটি কোয়ার্টার থেকে দখলদার উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু এই অভিযানকে লোক দেখানো ও পক্ষপাত মুলক বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ। কারণ বেছে বেছে দূর্বল লোকদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

রেলওয়ে সূত্রমতে, সৈয়দপুর রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৮০০ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে। যার ৮০ শতাংশেরও বেশি চলে গেছে অবৈধ দখলে। জলাশয় দখল করা কয়েকজন ব্যাক্তি জানায়, জলাশয়টি রেলওয়ের কাছে লিজ নিয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত রাজস্ব পরিশোধ করেছেন। কিন্তু উচ্ছেদে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা তাঁর জলাশয় সংলগ্ন ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেন।

একই অভিযোগ করেন ষ্টেশন এলাকার পান দোকানদার মজনু সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা নোটিশ পাইনি। রেলের লোকজন জোর করে আমার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন কিন্তু শহরের কাজিপাড়া হঠাৎ বস্তি এলাকায় বিএনপির নেতা পরিচয়ে ২ ব্যাক্তি রেলওয়ের প্রায় সারে ৩ একর ভুসম্পত্তি কৃষি লিজ নেয়ার কথা বলে প্লট আকারে বিক্রি করেছেন।

এনিয়ে অভিযোগ দেয়ার পরও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে না। একই সাথে রেলওয়ের ফিদালী ইনস্টিটিউট সংলগ্ন রেলওয়ের পুকুর ঘেষে শতাধিক ঘরবাড়ি নির্মাণ হলেও সেখানেও উচ্ছেদ চালানো হচ্ছে না। তাছাড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পাশে বিশাল বিশাল অট্টালিকা হলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপই নেওয়া হচ্ছেনা। কারণ সেগুলো বৃত্তশালী ও প্রভাবশালীদের।

উচ্ছেদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পাকশী রেল বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) সফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সৈয়দপুরে যত জলাশয়, রেলওয়ের কোয়ার্টার দখল ও পতিত জমি দখল বা কৃষি লিজ নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন, সেগুলি পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। এ নিয়ে রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলদারদের নোটিশও করা হয়েছে। একই সাথে অবৈধ স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। নিয়ম মেনেই উচ্ছেদ তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এ সময় উচ্ছেদের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে আভাস দেন তিনি।

উচ্ছেদ অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তোহিদুল ইসলাম, পার্বতীপুর রেলওয়ে কানুনগো মহসিন আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলাম ও পার্বতীপুর রেলওয়ের আরএনবি প্রধান আহসান হাবিব। এ ছাড়া অভিযানে অংশ নেন দুই শতাধিক রেলওয়ে শ্রমিক।

সৈয়দপুরের ব্যবসায়ী সহ সাধারণ মানুষ বলেন, এ উচ্ছেদ অভিযান হলো লোক দেখানো। রেলওয়ের কর্মকর্তারা মদদ না করলে সৈয়দপুরে সাড়ে ৮শ একর ভুসম্পত্তির মধ্যে সাড়ে ৪শ একর ভুসম্পত্তি বেদখল হয়ে যেতো না এবং সেখানে নির্মান হতো না মার্কেট ও বহুতল ভবন। যেসব ব্যাক্তি রেলওয়ের কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নাই, শুধু তাদেরই ঘরবাড়ি ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হচ্ছে।

তারা বলেন, যেসব দোকানপাট ও ঘরবাড়ি রেলওয়ের জমিতে রয়েছে, তা উচ্ছেদ না করে বৈধ ইজারা দেওয়া হোক। তবে রেলওয়ের যেসব জমি প্রয়োজন সেসব জমিতে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হোক। রেল চলাচল নির্বিঘ্ন করতে যা প্রয়োজন, সে অনুযায়ী উচ্ছেদ হলে ব্যবসায়ী সহ সাধারন মানুষ রেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবেন বলে জানান তারা।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ জানান, উচ্ছেদ অভিযানে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি বলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের যেসব জমি প্রয়োজন সেসব জমি উদ্ধার করা হবে এবং রেলওয়ের প্রয়োজন নেই এমন ভুসম্পত্তি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।