১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সৈয়দপুরে পেট্রোলের আগুনে ঝলসানো বৃদ্ধের মৃত্যুর ৩ দিনেও মামলা না নেওয়ায় লাশসহ বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানো এক নাশকতার ঘটনায় ঝলসে যাওয়া ষাটোর্ধ বৃদ্ধ ৪ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছেন। মৃত্যুর ৩ দিনেও মামলা না নেওয়ায় লাশসহ বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে খাতামধুপুর ইউনিয়ন থেকে ৭ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে লোকজন লাশসহ শহরে ঢুকে বিক্ষোভ মিছিল করে থানার প্রধান গেটে এসে সড়কে অবস্থান নেয়। এতে থানা ও সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সৈয়দপুর-নীলফামারীগামী শেরে বাংলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২ ঘন্টা পর এজাহার নথিভুক্ত করে পুলিশ।

এরপরও অবরোধ তুলে না নেওয়ায় সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সড়কে অবস্থানকালে বিক্ষুব্ধ আত্মীয় স্বজন থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং এজন্য ওসির অপসারণ ও শান্তি দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত থানা ভবনের গেটে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। প্রায় ৩ ঘন্টা এই পরিস্থিতি বিরাজ করে।

গত বুধবার (৩ জুন) ভোর ৪ টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিন (৬২) বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে পেট্রোল আগুনের শিকার হয়ে ঝলসে যায়। ঘটনার পরেই তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তাঁর অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেদিন বিকেলেই তাঁকে ঢাকায় বার্ণ ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলা অবস্থায় গত শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১ টায় মারা যান।

আফাজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রায় ৫ মাস আগে পাতা কুড়ানো নিয়ে একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চল আমার ভাইকে মারধর করে মোবাইল ভেঙ্গে দেয়। এরই জেরে মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে তারাগঞ্জ বাজারে আমার ভাইকে আটক করে মারধর করে।

সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই চঞ্চলসহ তার পরিবারের লোকজন আমার ভাইকে পুড়িয়ে মারতে ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে ভাই পুরাতন বাড়িতে থাকায় আমার বৃদ্ধ বাবা নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি ৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঢাকার বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু ৩ দিনেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তাছাড়া ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও করেছি। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।

এব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার পরই এসআই ঋষিকেশ চন্দ্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করেছেন। কিন্তু নিহতের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় কেউ আসতে না পারায় লিখিত অভিযোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল রোববার তারা একটা এজাহার আনলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধন করতে বলি। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এমনকি আমরা সংশোধন করে দিতে চাইলেও সম্মত না হওয়ায় এই বিলম্ব। আজ সকাল ৯ টায় আসার জন্য বললে তারা লাশ ও লোকজন নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে প্রতিপক্ষের মন্তব্য আক্রোশ বশত: মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে হেনস্তা করতে নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষ কোন সাক্ষী নাই এবং প্রতিপক্ষের কেউ জড়িত নয়। কিন্তু ঘটনাটাকে নিয়ে একটা চক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিযান লোক দেখানো ও পক্ষপাত মুলক অভিযোগ সৈয়দপুর রেলওয়ের জমিতে গড়া অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদ

সৈয়দপুরে পেট্রোলের আগুনে ঝলসানো বৃদ্ধের মৃত্যুর ৩ দিনেও মামলা না নেওয়ায় লাশসহ বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও, সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত ০৮:৫৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানো এক নাশকতার ঘটনায় ঝলসে যাওয়া ষাটোর্ধ বৃদ্ধ ৪ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মারা গেছেন। মৃত্যুর ৩ দিনেও মামলা না নেওয়ায় লাশসহ বিক্ষোভ মিছিল করে থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী।

সোমবার (৮ জুন) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে খাতামধুপুর ইউনিয়ন থেকে ৭ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে লোকজন লাশসহ শহরে ঢুকে বিক্ষোভ মিছিল করে থানার প্রধান গেটে এসে সড়কে অবস্থান নেয়। এতে থানা ও সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সৈয়দপুর-নীলফামারীগামী শেরে বাংলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ ২ ঘন্টা পর এজাহার নথিভুক্ত করে পুলিশ।

এরপরও অবরোধ তুলে না নেওয়ায় সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সড়কে অবস্থানকালে বিক্ষুব্ধ আত্মীয় স্বজন থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ তোলেন এবং এজন্য ওসির অপসারণ ও শান্তি দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত থানা ভবনের গেটে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। প্রায় ৩ ঘন্টা এই পরিস্থিতি বিরাজ করে।

গত বুধবার (৩ জুন) ভোর ৪ টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিন (৬২) বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে পেট্রোল আগুনের শিকার হয়ে ঝলসে যায়। ঘটনার পরেই তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তাঁর অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেদিন বিকেলেই তাঁকে ঢাকায় বার্ণ ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা চলা অবস্থায় গত শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১ টায় মারা যান।

আফাজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, প্রায় ৫ মাস আগে পাতা কুড়ানো নিয়ে একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চল আমার ভাইকে মারধর করে মোবাইল ভেঙ্গে দেয়। এরই জেরে মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে তারাগঞ্জ বাজারে আমার ভাইকে আটক করে মারধর করে।

সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই চঞ্চলসহ তার পরিবারের লোকজন আমার ভাইকে পুড়িয়ে মারতে ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে ভাই পুরাতন বাড়িতে থাকায় আমার বৃদ্ধ বাবা নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি ৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ঢাকার বার্ণ ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু ৩ দিনেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তাছাড়া ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও করেছি। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।

এব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার পরই এসআই ঋষিকেশ চন্দ্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করেছেন। কিন্তু নিহতের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় কেউ আসতে না পারায় লিখিত অভিযোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল রোববার তারা একটা এজাহার আনলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধন করতে বলি। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এমনকি আমরা সংশোধন করে দিতে চাইলেও সম্মত না হওয়ায় এই বিলম্ব। আজ সকাল ৯ টায় আসার জন্য বললে তারা লাশ ও লোকজন নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে এই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে প্রতিপক্ষের মন্তব্য আক্রোশ বশত: মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে হেনস্তা করতে নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষ কোন সাক্ষী নাই এবং প্রতিপক্ষের কেউ জড়িত নয়। কিন্তু ঘটনাটাকে নিয়ে একটা চক্র ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।