১২:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জ খাদ্যগুদামে বোরো ধান সংগ্রহ সিন্ডিকেটের কব্জায়

প্রচারণা ছাড়াই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বোরোধান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে। মধ্যস্বত্বভোগীদের যোগসাজশে তিনি মাইকিং না করে ধান ক্রয়ে অনলাইন আবেদনে মাত্র ১০ দিনের সময় দিয়েছেন কৃষকদেরকে।

এতে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডি দিয়ে ধান বিক্রির আবেদন করে খাদ্য গুদামে ধান দেওয়া কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। ফলে বিগত বছরের ন্যায় এবারও প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত বোরো ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে না পারায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, চলতি মওসুমে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে উপজেলার ৪শ’জন কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ২শ’মে:ট: বোরে ধান সংগ্রহ করবে খাদ্য গুদাম। কিন্ত এবার ধানের পাইকারী ও খুচরা বাজারের চেয়ে সরকারি দর প্রতি কেজি ১৩ হতে ১৪ টাকা বেশী হওয়ায় মধ্যস্বত্ত¡ভোগীরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আঁতাত করেন।

এজন্য তিনি প্রচারণা ছাড়াই অনলাইনে ১১ মে থেকে ২০ মে তারিখের মধ্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান বিক্রির আবেদনের সময় দেন। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা এ স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের স্বজন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও কতিপয় কৃষককের এনআইডি দিয়ে ধান বিক্রির আবেদন করেন। একারণে উপজেলার ৫৩ হাজার ৮৬৬জন কৃষকের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৭৪৫জন কৃষকের ধান বিক্রির আবেদন জমা হয়।

সদর ইউনিয়নের বাজেডুমরিয়া গ্রামের বড় ধরণের কৃষক নাজমুল হোসেন, গদা গ্রামের ফিলিফ মিয়া, নিতাই ইউনিয়নের বারীমধুপুর গ্রামের আবু সায়েম, বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি মাষ্টারপাড়া গ্রামের দুলাল মিয়া ও রণচন্ডি ইউনিয়নের বদি মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক বাছার আলী জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহের কোন মাইকিং শুনি নাই। বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট বড় কৃষক ফজলার রহমান জানান, এবারে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের জন্য হ্যান্ডবিল/লিফলেট বা মাইকিং করে প্রচারণা শুনি নাই, কেউ বলেও নাই।

এদিকে লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাদের নাম ও ঠিকানা তালিকার সঙ্গে কোন নেই, সদর ইউনিয়নের প্রমিলা রানী-এনআইডি- ৪৬১৯৪৬৭৯৪৯ এর ফোন রিসিভ করেন কেশবা বানিয়াপাড়া গ্রামের দুলাল। নিতাই ইউনিয়নের মঞ্জুয়ারা বেগম-এনআইডি- ৩২৭১৬৮৭৩০৭ এর ফোন নম্বর রিসিভ করেন ফরুয়াপাড়া গ্রামের শহীন। বাহাগিলি ইউনিয়নের আবতাফ আলীর এনআইডি- ২৩৭১০৭৪৯৯৪, তার ফোন নম্বর রিসিভ করেন পুটিমারী ইউনিয়নের ফরুয়াপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম। তালিকায় দেওয়া ফোন নম্বর রিসিভকরীগণ জানান, লটারীতে নির্বাচিত ধান বিক্রির তালিকাভুক্ত জিজ্ঞাসিত কৃষক-কৃষাণীকে তারা চেনেন না এবং সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য তারা আবেদন করেন নাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমান জানান, বোরোধন সংগ্রহে প্রচারণার জন্য একদিন মাইকিং করা হয়েছে। ১টা মাইক দিয়ে একদিনে ১টা ইউনিয়ন প্রচার করা যেতে পারে কিন্তু উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন কিভাবে সম্ভব। তিনি এর সদুত্তোর দিতে না পেরে জেলায় মিটিং আছে বলে দ্রæত সিএনজিতে উঠে অফিস ত্যাগ করেন। উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ইকবাল হোসেন জানান, বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে, ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত ধান এ কার্যক্রম চলবে।

কিশোরগঞ্জ খাদ্যগুদামে বোরো ধান সংগ্রহ সিন্ডিকেটের কব্জায়

কিশোরগঞ্জ খাদ্যগুদামে বোরো ধান সংগ্রহ সিন্ডিকেটের কব্জায়

প্রকাশিত ১১:৫৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

প্রচারণা ছাড়াই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বোরোধান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে। মধ্যস্বত্বভোগীদের যোগসাজশে তিনি মাইকিং না করে ধান ক্রয়ে অনলাইন আবেদনে মাত্র ১০ দিনের সময় দিয়েছেন কৃষকদেরকে।

এতে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তির এনআইডি দিয়ে ধান বিক্রির আবেদন করে খাদ্য গুদামে ধান দেওয়া কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। ফলে বিগত বছরের ন্যায় এবারও প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদিত বোরো ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করতে না পারায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, চলতি মওসুমে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে উপজেলার ৪শ’জন কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ২শ’মে:ট: বোরে ধান সংগ্রহ করবে খাদ্য গুদাম। কিন্ত এবার ধানের পাইকারী ও খুচরা বাজারের চেয়ে সরকারি দর প্রতি কেজি ১৩ হতে ১৪ টাকা বেশী হওয়ায় মধ্যস্বত্ত¡ভোগীরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে আঁতাত করেন।

এজন্য তিনি প্রচারণা ছাড়াই অনলাইনে ১১ মে থেকে ২০ মে তারিখের মধ্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান বিক্রির আবেদনের সময় দেন। অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা এ স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের স্বজন, বিভিন্ন ব্যক্তি ও কতিপয় কৃষককের এনআইডি দিয়ে ধান বিক্রির আবেদন করেন। একারণে উপজেলার ৫৩ হাজার ৮৬৬জন কৃষকের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৭৪৫জন কৃষকের ধান বিক্রির আবেদন জমা হয়।

সদর ইউনিয়নের বাজেডুমরিয়া গ্রামের বড় ধরণের কৃষক নাজমুল হোসেন, গদা গ্রামের ফিলিফ মিয়া, নিতাই ইউনিয়নের বারীমধুপুর গ্রামের আবু সায়েম, বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি মাষ্টারপাড়া গ্রামের দুলাল মিয়া ও রণচন্ডি ইউনিয়নের বদি মাঝাপাড়া গ্রামের কৃষক বাছার আলী জানান, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান সংগ্রহের কোন মাইকিং শুনি নাই। বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট বড় কৃষক ফজলার রহমান জানান, এবারে সরকারিভাবে বোরো ধান সংগ্রহের জন্য হ্যান্ডবিল/লিফলেট বা মাইকিং করে প্রচারণা শুনি নাই, কেউ বলেও নাই।

এদিকে লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তাদের নাম ও ঠিকানা তালিকার সঙ্গে কোন নেই, সদর ইউনিয়নের প্রমিলা রানী-এনআইডি- ৪৬১৯৪৬৭৯৪৯ এর ফোন রিসিভ করেন কেশবা বানিয়াপাড়া গ্রামের দুলাল। নিতাই ইউনিয়নের মঞ্জুয়ারা বেগম-এনআইডি- ৩২৭১৬৮৭৩০৭ এর ফোন নম্বর রিসিভ করেন ফরুয়াপাড়া গ্রামের শহীন। বাহাগিলি ইউনিয়নের আবতাফ আলীর এনআইডি- ২৩৭১০৭৪৯৯৪, তার ফোন নম্বর রিসিভ করেন পুটিমারী ইউনিয়নের ফরুয়াপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম। তালিকায় দেওয়া ফোন নম্বর রিসিভকরীগণ জানান, লটারীতে নির্বাচিত ধান বিক্রির তালিকাভুক্ত জিজ্ঞাসিত কৃষক-কৃষাণীকে তারা চেনেন না এবং সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য তারা আবেদন করেন নাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমান জানান, বোরোধন সংগ্রহে প্রচারণার জন্য একদিন মাইকিং করা হয়েছে। ১টা মাইক দিয়ে একদিনে ১টা ইউনিয়ন প্রচার করা যেতে পারে কিন্তু উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন কিভাবে সম্ভব। তিনি এর সদুত্তোর দিতে না পেরে জেলায় মিটিং আছে বলে দ্রæত সিএনজিতে উঠে অফিস ত্যাগ করেন। উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক ইকবাল হোসেন জানান, বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে, ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত ধান এ কার্যক্রম চলবে।