১০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬

সৈয়দপুরে নালা দখল করে রানু ইন্ডাস্ট্রিজ পানি নিষ্কাশন বন্ধ, দুষণে ফসলের ক্ষতি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শতবর্ষী নালা দখল করে বহুমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান রানু এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রতিষ্ঠার কারণে বিশাল এলাকার পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও শিল্প বর্জের দুষনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জমি মালিক ও কৃষকরা।

দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর যাবত এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১২-১৫ দোন (সাড়ে ৩ থেকে ৫ একর) জমির ফলন একেবারেই পাওয়া যাচ্ছেনা। এতে প্রতিবছর প্রায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। কিন্তু তারপরও নির্বিকার ওই শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষসহ কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন।

সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের সাথে কামারপুকুর কলাবাগান এলাকায় এক যুগ আগে বিশাল কৃষিজমি ও কয়েক গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র নালা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে রানু এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ। প্রথম দিকে এখানে শুধু পাটজাত পন্য তৈরী করা হতো। এতে প্রাথমিকভাবে সুতলি ফ্যাক্টরীর ডাস্ট উড়ে গিয়ে আশেপাশের জমির ফসলে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষকরা। সেই সাথে বর্ষকালে বৃষ্টির পানি ও ফ্যাক্টরীর পানি জমে তলিয়ে যায় পুড়ো দোলার ফসল। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা বার বার বলার পরও ইন্ডাষ্ট্রিজের মালিক সুশীল কুমার দাস কোন কর্ণপাত করেনি। এমনকি এব্রাপারে প্রশাসনকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এলাকার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং প্রতিরোধে মাঠে নামার পর সকলের টনক নড়ে। এতে ফ্যাক্টরীর পিছনের সীমানা প্রাচীরের সাথে ছোট আকারে নালা খুড়ে দেয়া হয়।

কিন্তু গত ২ বছর হলো ওই সুতলি ফ্যাক্টরীর সাথে নির্মাণ করা হয়েছে শ্যামলী সিমেন্ট ঢেউটিন ফ্যাক্টরী। এই ফ্যাক্টরীর ক্যামিকেল যুক্ত বর্জ ও পানি সেই নালা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে পুরো নালা সিমেন্ট ও পাথর চুনের গাদ দিয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। এতে শক্ত স্তরের সৃষ্টি হওয়ায় ফ্যাক্টরীর পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে নালা উপচে দূষিত পানি পাশের জমিতে পড়ায় উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়ে পড়েছে। শুকনো মৌসুমেই জমিতে হাটু পানি জমে থাকছে। আর বর্ষাকালে আশেপাশের গ্রাম থেকে ধেয়ে আসা পানিতে পুরো ফসল ডুবে যাচ্ছে। এতে ধান লাগানো হলেও আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাচ্ছেনা। এমনকি অনেক জমির চারা একটু বড় হয়েই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে কোন ফসলই মিলছেনা।

কামারপুকুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল জলিল জানান, রানু এগ্রোর উত্তর-পশ্চিম পাশের দেয়াল ঘেষেই আমার সাড়ে ৩ দোন জমি রয়েছে। এই জমি থেকে গত ২ বছর যাবত কোন ফসলই পাচ্ছিনা। কারণ সেখানে সারা বছরই পানি জমে থাকছে। তার উপর ফ্যাক্টরীর ক্যামিকেল যুক্ত পানি ঢুকে সব ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এমনকি ফ্যাক্টরীর উক্তর-পূর্ব দেয়াল ঘেষে থাকা আমার একটি পুকুর ফ্যাক্টরীর বর্জ দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। পুকুরটি খনন করাসহ জমির পানি নিষ্কাশনের নালাটি পরিষ্কার করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে বার বার বলার পরও তারা কোন ভ্রুক্ষেপ করছেন না। যে কারণে গত শীত মৌসুমেও আমার জমিতে পানি জমে থাকায় আমি কোন ফলন পাইনি।

তিনি আরও বলেন, উত্তর ও পশ্চিম দিকের প্রায় ৫টি গ্রামের পানি নিষ্কাষিত হয়ে এই নালা দিয়ে পাশের খালে পড়তো। সেই নালার উপর ইন্ডাষ্ট্রিজ করায় এখন পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে প্রতিবছর বর্ষার সময় পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অথচ নালাটি স্থায়ীভাবে চওড়া করে খুড়ে দিলে এবং নিয়মিত ফ্যাক্টরীর বর্জে ভরাট হওয়া ময়লা পরিষ্কার করলে পানি যথাযথভাবে নিষ্কাষিত হতে পারতো। এতে আমরা ফসলহানী থেকে রক্ষা পেতাম। কিন্তু ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ কেন যে আমাদের সমস্যা সমাধানে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না তা বুঝে আসেনা। হয়তো টাকার গরমে আমাদেরকে তারা মানুষই মনে করছেন না। আমরা এর প্রতিকার চাই।

একই দাবি জানিয়ে আরেক জমির মালিক জামান মাস্টার জানান, আমার প্রায় ৫ দোন জমির ফসল প্রতিবারই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে দোন প্রতি ২০ মন করে ধান পেতাম সেখানে এখন মাত্র ৫ মন ধানও পাইনা। আর বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়ায় একেবারেই কোন ফসল পাইনা। দিনে দিনে ফ্যাক্টরীর দুষিত পানি ও ময়লায় জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আগামীতে আর কোন ফসলই ফলানো সম্ভব হবেনা। তাছাড়া শতবষী এই নালাটিতে আগে দেশীয় নানা জাতের মাছ পাওয়া যেতো। এলাকার লোকজন সেই মাছ ধরে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু এখন নালাটি বিলিন হয়ে পড়েছে এবং ফ্যাক্টরীর বিষাক্ত বর্জপানি পাশের নদীতে পড়ায় সেই নদীর মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণিও ধ্বংষের মুখে পড়েছে। এই ক্ষতি থেকে এখনই উত্তরণ প্রয়োজন। তাই প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ দাবি করছি।

ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২ টায় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ দোন জমির ধান ক্ষেতের মাঝে মাঝেই বড় বড় অংশ জুড়ে ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া পানি প্রবাহের নালাটি সিমেন্ট ও পাথরী চুনের বর্জ দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। তার উপর দিয়ে কোনক্রমে ফ্যাক্টরীর পানি অত্যন্ত ধীর গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোপুর্বে ভরাট নালা থেকে বর্জ তুলে নালার পাশের স্তুপ করে রাখা হয়েছে। সেই ময়লাও জমিতে গড়িয়ে পড়ে পানির সাথে মিশে ফসলের ক্ষতি করছে। এই পরিদর্শনের সময় ফ্যাক্টরীর সেফটি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় তিনি বলেন, আমরা ফ্যাক্টরীর ভিতরে বর্জ পরিশোধন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। কিন্তু তারপরও কেন বর্জ দিয়ে নালা ভরাট হয়েছে এবং পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। জিএম এর মুঠোফোন নম্বর চাইলে তা দিতে অসম্মতি জানান তিনি।

পরে ফ্যাক্টরীর জেনারেল ম্যানেজার জিএম প্রকাশ চন্দ্র দাস এর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে কল দিয়ে তাকেও একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন আমাদের সিমেন্ট সিটের কোন পানিই বাইরের নালায় যায়না। তারপরও যদি নালা ভরাট হয়ে থাকে তাহলে দ্রুতই আমরা সেগুলো খনন করে দিবো। তবে ফসলের ক্ষতির বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য মন্তব্য করেননি।

বিষয়

ডোমারে অবৈধভাবে জ্বালানী তেল বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড

সৈয়দপুরে নালা দখল করে রানু ইন্ডাস্ট্রিজ পানি নিষ্কাশন বন্ধ, দুষণে ফসলের ক্ষতি

প্রকাশিত ০৮:১১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শতবর্ষী নালা দখল করে বহুমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান রানু এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ প্রতিষ্ঠার কারণে বিশাল এলাকার পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও শিল্প বর্জের দুষনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জমি মালিক ও কৃষকরা।

দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর যাবত এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১২-১৫ দোন (সাড়ে ৩ থেকে ৫ একর) জমির ফলন একেবারেই পাওয়া যাচ্ছেনা। এতে প্রতিবছর প্রায় লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন তারা। কিন্তু তারপরও নির্বিকার ওই শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষসহ কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন।

সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়কের সাথে কামারপুকুর কলাবাগান এলাকায় এক যুগ আগে বিশাল কৃষিজমি ও কয়েক গ্রামের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র নালা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে রানু এগ্রো ইন্ডাষ্ট্রিজ। প্রথম দিকে এখানে শুধু পাটজাত পন্য তৈরী করা হতো। এতে প্রাথমিকভাবে সুতলি ফ্যাক্টরীর ডাস্ট উড়ে গিয়ে আশেপাশের জমির ফসলে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষকরা। সেই সাথে বর্ষকালে বৃষ্টির পানি ও ফ্যাক্টরীর পানি জমে তলিয়ে যায় পুড়ো দোলার ফসল। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকরা বার বার বলার পরও ইন্ডাষ্ট্রিজের মালিক সুশীল কুমার দাস কোন কর্ণপাত করেনি। এমনকি এব্রাপারে প্রশাসনকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে এলাকার লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানায় এবং প্রতিরোধে মাঠে নামার পর সকলের টনক নড়ে। এতে ফ্যাক্টরীর পিছনের সীমানা প্রাচীরের সাথে ছোট আকারে নালা খুড়ে দেয়া হয়।

কিন্তু গত ২ বছর হলো ওই সুতলি ফ্যাক্টরীর সাথে নির্মাণ করা হয়েছে শ্যামলী সিমেন্ট ঢেউটিন ফ্যাক্টরী। এই ফ্যাক্টরীর ক্যামিকেল যুক্ত বর্জ ও পানি সেই নালা দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে পুরো নালা সিমেন্ট ও পাথর চুনের গাদ দিয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। এতে শক্ত স্তরের সৃষ্টি হওয়ায় ফ্যাক্টরীর পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। ফলে নালা উপচে দূষিত পানি পাশের জমিতে পড়ায় উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়ে পড়েছে। শুকনো মৌসুমেই জমিতে হাটু পানি জমে থাকছে। আর বর্ষাকালে আশেপাশের গ্রাম থেকে ধেয়ে আসা পানিতে পুরো ফসল ডুবে যাচ্ছে। এতে ধান লাগানো হলেও আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাচ্ছেনা। এমনকি অনেক জমির চারা একটু বড় হয়েই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে কোন ফসলই মিলছেনা।

কামারপুকুর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল জলিল জানান, রানু এগ্রোর উত্তর-পশ্চিম পাশের দেয়াল ঘেষেই আমার সাড়ে ৩ দোন জমি রয়েছে। এই জমি থেকে গত ২ বছর যাবত কোন ফসলই পাচ্ছিনা। কারণ সেখানে সারা বছরই পানি জমে থাকছে। তার উপর ফ্যাক্টরীর ক্যামিকেল যুক্ত পানি ঢুকে সব ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে। এমনকি ফ্যাক্টরীর উক্তর-পূর্ব দেয়াল ঘেষে থাকা আমার একটি পুকুর ফ্যাক্টরীর বর্জ দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। পুকুরটি খনন করাসহ জমির পানি নিষ্কাশনের নালাটি পরিষ্কার করে দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে বার বার বলার পরও তারা কোন ভ্রুক্ষেপ করছেন না। যে কারণে গত শীত মৌসুমেও আমার জমিতে পানি জমে থাকায় আমি কোন ফলন পাইনি।

তিনি আরও বলেন, উত্তর ও পশ্চিম দিকের প্রায় ৫টি গ্রামের পানি নিষ্কাষিত হয়ে এই নালা দিয়ে পাশের খালে পড়তো। সেই নালার উপর ইন্ডাষ্ট্রিজ করায় এখন পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। যে কারণে প্রতিবছর বর্ষার সময় পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অথচ নালাটি স্থায়ীভাবে চওড়া করে খুড়ে দিলে এবং নিয়মিত ফ্যাক্টরীর বর্জে ভরাট হওয়া ময়লা পরিষ্কার করলে পানি যথাযথভাবে নিষ্কাষিত হতে পারতো। এতে আমরা ফসলহানী থেকে রক্ষা পেতাম। কিন্তু ফ্যাক্টরী কর্তৃপক্ষ কেন যে আমাদের সমস্যা সমাধানে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না তা বুঝে আসেনা। হয়তো টাকার গরমে আমাদেরকে তারা মানুষই মনে করছেন না। আমরা এর প্রতিকার চাই।

একই দাবি জানিয়ে আরেক জমির মালিক জামান মাস্টার জানান, আমার প্রায় ৫ দোন জমির ফসল প্রতিবারই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে যেখানে দোন প্রতি ২০ মন করে ধান পেতাম সেখানে এখন মাত্র ৫ মন ধানও পাইনা। আর বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি জমে যাওয়ায় একেবারেই কোন ফসল পাইনা। দিনে দিনে ফ্যাক্টরীর দুষিত পানি ও ময়লায় জমির উর্বরা শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আগামীতে আর কোন ফসলই ফলানো সম্ভব হবেনা। তাছাড়া শতবষী এই নালাটিতে আগে দেশীয় নানা জাতের মাছ পাওয়া যেতো। এলাকার লোকজন সেই মাছ ধরে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু এখন নালাটি বিলিন হয়ে পড়েছে এবং ফ্যাক্টরীর বিষাক্ত বর্জপানি পাশের নদীতে পড়ায় সেই নদীর মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণিও ধ্বংষের মুখে পড়েছে। এই ক্ষতি থেকে এখনই উত্তরণ প্রয়োজন। তাই প্রশাসনসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ দাবি করছি।

ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২ টায় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে দেখা যায় প্রায় ১২ থেকে ১৫ দোন জমির ধান ক্ষেতের মাঝে মাঝেই বড় বড় অংশ জুড়ে ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া পানি প্রবাহের নালাটি সিমেন্ট ও পাথরী চুনের বর্জ দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। তার উপর দিয়ে কোনক্রমে ফ্যাক্টরীর পানি অত্যন্ত ধীর গতিতে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোপুর্বে ভরাট নালা থেকে বর্জ তুলে নালার পাশের স্তুপ করে রাখা হয়েছে। সেই ময়লাও জমিতে গড়িয়ে পড়ে পানির সাথে মিশে ফসলের ক্ষতি করছে। এই পরিদর্শনের সময় ফ্যাক্টরীর সেফটি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। এসময় তিনি বলেন, আমরা ফ্যাক্টরীর ভিতরে বর্জ পরিশোধন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি। কিন্তু তারপরও কেন বর্জ দিয়ে নালা ভরাট হয়েছে এবং পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। জিএম এর মুঠোফোন নম্বর চাইলে তা দিতে অসম্মতি জানান তিনি।

পরে ফ্যাক্টরীর জেনারেল ম্যানেজার জিএম প্রকাশ চন্দ্র দাস এর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে কল দিয়ে তাকেও একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন আমাদের সিমেন্ট সিটের কোন পানিই বাইরের নালায় যায়না। তারপরও যদি নালা ভরাট হয়ে থাকে তাহলে দ্রুতই আমরা সেগুলো খনন করে দিবো। তবে ফসলের ক্ষতির বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য মন্তব্য করেননি।