নীলফামারীতে দায়ের করা আলোচিত অপহরণ, ছিনতাইসহ হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর মামলায় এগার জনের মধ্যে তিন আসামিকে জামিন প্রদান করেছেন সদর আমলী আদালত। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও তার পরিবার।
গত রবিবার ১৫ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেছে আদালত। আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে ওইদিন মামলার অন্যান্য আসামিদের জামিন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার। আগামী রবিবার নির্ধারিত শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, সে বিষয়ে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছেন।এরআগে গত বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারী সদর থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী আবু সাঈদের পিতা বাবুল হোসেন। যার মামলা নং- ২২/৬৫।
আসামিরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের খালিশা চৌধুরীপাড়া এলাকার মোঃ কালা মামুদের ছেলে তাওহীদ (২৫) ও সাকিল (২৩), বারো ঘরিয়া ডাঙ্গাপাড়া এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে জাদু মিয়া ( ৪০) ও সাজু মিয়া, মোঃ জেয়ারুল ইসলামের ছেলে আব্দুল হান্নান (৩৫), সুটিপাড়া চৌধুরীপাড়া এলাকার পকু লালের ছেলে আলামিন (৩২), সৈয়দ আলীর ছেলে মোঃ লাবলু (৩৬), মৃত কাল্টু মামুদের ছেলে মোঃ কালা মামুদ (৫০), মোঃ সামিউল (৩৮), চড়াইখোলা টেক্সটাইল এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে সুমন ইসলাম (৩৭) ও নগর দারোয়ানী এলাকার রাব্বি ইসলাম (৩৭) সহ অজ্ঞাত আরো বেশ কয়েকজন। গত সপ্তাহে রবিবার এবং বৃহস্পতিবার আসামী লাবলু, কালা মামুদ এবং সাকিলকে জামিন দেয় আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চাপড়া সরমজানী এলাকার বাবুল হোসেনের প্রাইভেট কার ভাড়ায় চালান টেক্সটাইল এলাকার মোঃ কালা মামুদের ছেলে তাওহীদ। গত ১৮ই ফেব্রুয়ারী রাতে টেক্সটাইল বাজারে কার ভাড়ার টাকা দেওয়ার কথা বলে বাবুল হোসেনের ছেলে আবু সাঈদকে ডাকেন তাওহীদ। আবু সাঈদ বাজারের ভাই ভাই অটো ট্রেডার্সের সামনে যাওয়া মাত্রেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে টেনে হিচড়ে দোকানের পিছনে নিয়ে যায়।
এরপর চর থাপ্পর মারতে থাকে এবং তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। ভুক্তভোগী চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আসামিরা লাঠি দিয়ে এলোপাথারি মারধোর সহ কিল-ঘুসি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেলাফোলা কালশিরা জখম করে। একপর্যায়ে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে কাঠ দিয়ে ভুক্তভোগীর কোমড় ও পিঠে আগাত করে মেরুদন্ডে গুরুতর হাড় ভাঙ্গা জখম করে এবং তার হাতে থাকা প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্ট ফোন এবং পকেটে থাকা ব্যাবসায়িক ৯০ হাজার পাঁচশত টাকা ছিনিয়ে নেয়। সেখানে ভুক্তভোগীর চিৎকার করলে আসামিরা মটরসাইকেল যোগে তাকে অপহরণ করে অন্যত্র নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী অপহরণের বিষয়টি বুঝতে পেরে বারোঘরিয়া এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে অজ্ঞাত একজনের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ওই এলাকাবাসীর সহযোগীতায় প্রাণে বেঁচে যায়। পরে স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সহযোগীতায় তার পরিবারকে জানালে তারা গিয়ে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নীলফামারী আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করান।
এমন ঘটনায় টেক্সটাইল এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী নেয়াজ সহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন বলেন, প্রাইভেট কার থেকে নামা মাত্রই কারসহ ভুক্তভোগীকে টেনে হিচড়ে ভাই-ভাই অটো ট্রেডার্সের পিছনে ফাঁকা মাঠে নিয়ে যায় তাওহীদ, সাকিল, জাদু মিয়া ও সাজু মিয়াসহ বেশ কয়েকজন। তারপর শুরু করে মারধর। তার চিৎকারে টেক্সটাইল এলাকার লোকজন জড়ো হলে আসামিরা মাঠ থেকে তাকে অন্যত্র নিয়ে যায়। বিষয়টি খুবেই দুঃক্ষজনক। আসামিরা এর আগেও এধরনের আরও বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা চাই তাদের উপর্যুক্ত শাস্তি হোক।
এদিকে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার জানান, মামলাটি এখনও বিচারাধীন এবং তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তারা বলেন, আমরা আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও সম্মান রেখে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি; মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যেন অন্য আসামিদের জামিন প্রদান না করা হয়।”
ভুক্তভোগীর দাবি, আসামিরা জামিনে মুক্ত হলে আমাদের পরিবার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়তে পারেন। তাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে বিষয়টি আদালতের সদয় বিবেচনার জন্য জোর আবেদন জানাই।
বাদী পক্ষের আইনজীবী নীলফামারী জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোঃ জুলফিকারা আলী ভুট্টু বলেন, এই মামলার তিন আসামিকে জামিন দেয়ায় আমি সংক্ষুব্ধ হয়েছি। তবে পরবর্তীতে আসামিরা যেন জামিন না পায় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।



















