০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নীলফামারী-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী ও তাঁর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকদের দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম।

‎সোমবার(২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ইকু হেরিটেজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

‎সংবাদ সম্মেলনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম বলেন, নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলা থেকে সৈয়দপুর ফেরার পথে তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের সমর্থকরা এই হামলায় জড়িত।

‎সিদ্দিকুল আলম বলেন, তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি নিজেকে একজন রাজনীতিবিদের পাশাপাশি শিল্পপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, রংপুর অঞ্চলে তিনি একজন শীর্ষ ভ্যাট ও করদাতা। আমি সব সময় এলাকার মানুষের বিপদে বিভিন্ন সমস্যা পাশে দায়েছি এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবো।

‎তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার কারণে তাঁর সঙ্গে একজন গানম্যান রয়েছেন। ওই গানম্যান একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং তাঁর কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে সেই অস্ত্রকে অবৈধ দাবি করে কিশোরীগঞ্জ উপজেলার রণচণ্ডী ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন মব সৃষ্টি করে।

‎সিদ্দিকুল আলমের অভিযোগ, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালায়। এসময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর গানম্যান আব্দুর রাজ্জাকও আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

‎লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাঁদের সহায়তায় তিনি ও তাঁর লোকজন নিরাপদে সেখান থেকে সরে আসতে সক্ষম হন। এজন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

‎তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় কিশোরীগঞ্জ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা (এজাহার) দায়ের করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে ধানের শীষের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার মুঠোফোনে বলেন, আমার কোন কর্মীর সাথে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। যতটুকু জেনেছি তা হলো জামায়াতের কর্মীর সাথে। আর এ হামলার ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়। এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার।

অপরদিকে দাঁড়িপাল্লার জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম মুঠোফোনে বলেন, উক্ত ঘটনার সাথে দলের ও তার অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত না। আমাদের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবে বলে আমি মনে করি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্নের উত্তর দিলেন নীলফামারী-২ আসনের ছয় প্রার্থী

নীলফামারী-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর গাড়িবহরে হামলা অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত ০২:০২:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য প্রার্থী ও তাঁর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকদের দায়ী করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম।

‎সোমবার(২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের ইকু হেরিটেজ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

‎সংবাদ সম্মেলনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম বলেন, নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলা থেকে সৈয়দপুর ফেরার পথে তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকারের সমর্থকরা এই হামলায় জড়িত।

‎সিদ্দিকুল আলম বলেন, তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি নিজেকে একজন রাজনীতিবিদের পাশাপাশি শিল্পপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, রংপুর অঞ্চলে তিনি একজন শীর্ষ ভ্যাট ও করদাতা। আমি সব সময় এলাকার মানুষের বিপদে বিভিন্ন সমস্যা পাশে দায়েছি এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবো।

‎তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার কারণে তাঁর সঙ্গে একজন গানম্যান রয়েছেন। ওই গানম্যান একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য এবং তাঁর কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তবে সেই অস্ত্রকে অবৈধ দাবি করে কিশোরীগঞ্জ উপজেলার রণচণ্ডী ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন মব সৃষ্টি করে।

‎সিদ্দিকুল আলমের অভিযোগ, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যুবক তাঁর গাড়িবহরে হামলা চালায়। এসময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর গানম্যান আব্দুর রাজ্জাকও আহত হন বলে তিনি দাবি করেন।

‎লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাঁদের সহায়তায় তিনি ও তাঁর লোকজন নিরাপদে সেখান থেকে সরে আসতে সক্ষম হন। এজন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

‎তিনি আরও জানান, হামলার ঘটনায় কিশোরীগঞ্জ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা (এজাহার) দায়ের করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে ধানের শীষের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার মুঠোফোনে বলেন, আমার কোন কর্মীর সাথে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি। যতটুকু জেনেছি তা হলো জামায়াতের কর্মীর সাথে। আর এ হামলার ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত নয়। এটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার।

অপরদিকে দাঁড়িপাল্লার জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম মুঠোফোনে বলেন, উক্ত ঘটনার সাথে দলের ও তার অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত না। আমাদের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবে বলে আমি মনে করি।