ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নীলফামারী ৪ আসনের সৈয়দপুর উপজেলায় চলছে জমজমাট নির্বাচনী প্রচারণা। প্রচারণায় যোগ হয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বাংলার পাশাপাশি উর্দু ভাষায় মাইকিং, গান ও স্লোগান ব্যবহার করছেন।
সৈয়দপুরে ভোটের মাঠে বরাবরই ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় উর্দুভাষী ৬০ হাজারের অধিক ভোটার। বিশেষ করে পৌর নির্বাচনে তাদের পাল্লা যেদিকে ভারী হয় সেই প্রার্থী জয়লাভ করেন।
২০০৮ সালে ক্যাম্পে বসবাসকারীরা ভোটাধিকার পাওয়ার পর থেকে এই আসনের জয়-পরাজয়ে তারা বড় ভূমিকা পালন করে। এ কারণে প্রার্থীদের কাছে তারা এখন ‘ভোট মেকার’ হিসেবে পরিচিত। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজেদের পক্ষে টানতেই প্রার্থীরা তাদের মাতৃভাষায় প্রচারণার কৌশল নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার বলেন, এ শহরে বিহারি, বাঙালিসহ অন্য ভাষার মানুষ মর্যাদার সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। এখানে বিহারি ও বাঙালির মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। একে অন্যের ভাষাকে তারা মর্যাদা দিয়ে থাকেন। তাই বিহারিদের সম্মান জানিয়ে আমরা উর্দুভাষায় নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছি।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক জানান, উর্দুভাষীরা যেন সহজে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক চিনতে পারে, সে জন্যই এ উদ্যোগ। তাঁর পক্ষে উর্দুতে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে- তারত্রারফ লাঙ্গল মার্কাকা প্রাচার হায়, সিদ্দিক ভাইকা বেড়া পার হায়…’। একইভাবে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল গফুরের পক্ষ থেকেও উর্দুতে মাইকিং করা হচ্ছে।
এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দুই ধরনের মত দেখা দিয়েছে। শহরের অনেক বাসিন্দা মনে করেন, রজেরা বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার দেশে এভাবে উর্দুর ব্যবহার আমাদের ভাষাগত অনুভূতিতে আঘাত দেয়। অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ মনে করছে, উর্দুভাষীরাও এ দেশের নাগরিক। তাদের নিজ ভাষায় প্রচারণা চালানো মানে তাদের ভাষাকে মর্যাদা দেওয়া। এতে দোষের কিছু নেই।
উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, ভোটের সময় প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তাদের জীবনমানের তেমন উন্নতি হয়নি। নাগরিক সুবিধা থেকে তারা এখনও বঞ্চিত। তবে এবারও তারা নতুন কোনো আশায় বুক বেঁধেছে।
এ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার, জামায়াত ইসলামীর হাফেজ আবদুল মুস্তাকিম, জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুল আলম, রিয়াদ আরফান সরকার (স্বতন্ত্র), ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন, বাসদ মার্কসবাদীর মাইদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র এস এম মামুনুর রশিদ ও জোয়াদুর রহমান হীরা।
উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৫১ হাজার ৬১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ২৬ হাজার ৭২৮ জন, নারী ভোটার দুই লাখ ২৫ হাজার এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার পাঁচজন।





















