১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার, ভাই আব্দুল গাফফার, বোন জিন্নাত আরা, ভগ্নিপতি হাফিজুল ইসলাম, নিহতের প্রথম স্বামীর ছেলে নিয়ামুল হক সিমরান সহ পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর নাছরিনকে সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের সময় জামাইকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। পরে আরো তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নাছরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।

নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার অভিযোগ করেন, গত ২৬ আগস্ট বাবার বাড়ি থেকে আরো তিন লাখ টাকা আনার জন্য নাছরিনকে চাপ দেন তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন।

নাছরিনের ভাই আব্দুল গাফফার বলেন, ‘আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আব্দুল মান্নানের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে বলে আমরা ধারণা করছি। যে ঘরে মরদেহ ঝুলছিল, সেই ঘরের ভেতরে আরো একটি দরজা রয়েছে। ওই দরজা ব্যবহার করে তাঁকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’

নাছরিনের একমাত্র ছেলে নিয়ামুল হক সিমরান বলেন, ‘আমি যখন প্রায় এক বছর বয়সী, তখন অসুস্থতার কারণে আমার বাবা মারা যান। এরপর থেকে আমার মা-ই আমাকে একাই বড় করেছেন। তিনি কখনো বাবার অভাব বুঝতে দেননি। আমার মা-ই ছিলেন আমার বাবা ও মা সবকিছু। আজ আমি সেই মাকে হারিয়েছি। যারা আমার মায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী, আমি তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, আমার মতো একজন এতিম সন্তানের কথা বিবেচনা করে হলেও আমার মায়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন।’

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা পর্যালোচনা এবং তদন্তে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যাতে হস্তক্ষেপ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘নাছরিনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় জামাতা আব্দুল মান্নান, তাঁর পুত্রবধূ আরিফা বেগম এবং দুই ছেলে আলমগীর হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিরা বাড়িতে নেই। ঘটনার পর থেকে তারা প্রলাতক রয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

নীলফামারীতে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত ০৮:৪৯:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারীতে নাছরিন নাহার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার, ভাই আব্দুল গাফফার, বোন জিন্নাত আরা, ভগ্নিপতি হাফিজুল ইসলাম, নিহতের প্রথম স্বামীর ছেলে নিয়ামুল হক সিমরান সহ পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর নাছরিনকে সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের সময় জামাইকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়। পরে আরো তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নাছরিনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।

নাছরিনের বাবা আব্দুল জব্বার অভিযোগ করেন, গত ২৬ আগস্ট বাবার বাড়ি থেকে আরো তিন লাখ টাকা আনার জন্য নাছরিনকে চাপ দেন তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়। পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন।

নাছরিনের ভাই আব্দুল গাফফার বলেন, ‘আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আব্দুল মান্নানের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে বলে আমরা ধারণা করছি। যে ঘরে মরদেহ ঝুলছিল, সেই ঘরের ভেতরে আরো একটি দরজা রয়েছে। ওই দরজা ব্যবহার করে তাঁকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’

নাছরিনের একমাত্র ছেলে নিয়ামুল হক সিমরান বলেন, ‘আমি যখন প্রায় এক বছর বয়সী, তখন অসুস্থতার কারণে আমার বাবা মারা যান। এরপর থেকে আমার মা-ই আমাকে একাই বড় করেছেন। তিনি কখনো বাবার অভাব বুঝতে দেননি। আমার মা-ই ছিলেন আমার বাবা ও মা সবকিছু। আজ আমি সেই মাকে হারিয়েছি। যারা আমার মায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী, আমি তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, আমার মতো একজন এতিম সন্তানের কথা বিবেচনা করে হলেও আমার মায়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন।’

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা পর্যালোচনা এবং তদন্তে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যাতে হস্তক্ষেপ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, ‘নাছরিনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় জামাতা আব্দুল মান্নান, তাঁর পুত্রবধূ আরিফা বেগম এবং দুই ছেলে আলমগীর হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিরা বাড়িতে নেই। ঘটনার পর থেকে তারা প্রলাতক রয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’