০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজন ইংরেজি শিক্ষক দিয়ে চলছে তিন হাজারের অধিক ছাত্রীর পাঠদান

‘উত্তর বাংলার প্রত্যন্ত মহকুমা শহর নীলফামারী’ শিক্ষা-সংষ্কৃতির উৎস ভূমি হলেও স্বাধীনতা পূর্ব কোন মহিলা মহাবিদ্যালয় স্থাপিত হয়নি নীলফামারীতে। তখন নারী শিক্ষার সম্প্রসারনে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হয় একমাত্র নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ।

সুনামের সহিত নারীদের আলাদা ভাবে শিক্ষাদানে ও নারী শিক্ষার মান উন্নয়নে সুনাম অর্জিত হওয়ায় ১৯৮৪ ইং সালে সরকারিকরণ হয় কলেজটি। জাতীয়করনে পর নারী শিক্ষার্থীরা কম খরচে এখানে পড়ালেখা করে দেশ ও বিদেশে অনেকেই আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ সূত্রমতে, জানা যায় কলেজটি নারীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য ১৯৭২ইং সালে স্থাপিত হয়। স্থাপিত হওয়ার পর থেকে নারী উচ্চ শিক্ষায় কলেজটির সুনাম রয়েছে জেলায়। সেই কলেজটিতে আজ দেখা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট। আর এই শিক্ষক সংকটের মধ্য দিয়ে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক না হয়েও চাপ সামলিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন অন্যান্য শিক্ষকগন।

বর্তমানে কলেজটিতে এইচএসসি(বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা), বিএ/বিএসএস(সম্মান) ও ৬টি বিষয়ে স্নাতক(সম্মান কোর্স) চালু রয়েছে, যার ছাত্রী সংখ্যা প্রায় তিন হাজারের অধিক। আর এই বিপুল পরিমান ছাত্রীদের জন্য ইংরেজি বিষয়ে পদ অনুযায়ী ৪জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন ইংরেজি শিক্ষক। অপর দিকে গণিত ও হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে ২জন করে কর্মরত থাকার কথা থাকলেও এ ২টি বিষয়ে একজনও কর্মরত নেই। এছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে একজন করে কর্মরত আছেন। অপরদিকে অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক সাজিয়া আফরিন (৩৪তম বিসিএস) ২০২২ সালে থেকে অদ্যাবধি অনুপস্থিত আছেন।

জেলার ঐতিহ্যবাহী সেই নারী উচ্চ শিক্ষার এই কলেজটিতে বর্তমানে দেখা দিয়েছে তীব্র শিক্ষক সংকট ও পর্যাপ্ত জমির অভাব। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে চাহিদার তুলনায় শিক্ষক সংকটতো রয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার সময় স্বল্প জায়গা নিয়ে শুরু হলেও নারী শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য এখন স্নাতক ডিগ্রী ও স্নাতক সম্মান পর্যন্ত শিক্ষাপাঠদান কার্যক্রম চলমান থাকায় জমি স্বল্পতাও দেখা দিয়েছে তীব্র। যে পরিমানে ছাত্রী বৃদ্ধি পেয়েছে সে তুলনায় জমি রয়েছে অনেক কম। এক সময় ভবন সংকট থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে কলেজটিতে দৃষ্টিনন্দন একটি আধুনিক ভবনের কাজ শেষ হওয়ায় এ সংকট এখন নেই।

তীব্র সংকটে ইংরেজি বিষয়ে কর্মরত একমাত্র সহযোগী অধ্যাপক তহমিন আরা আলম বলেন একাদশ, দ্বাদশ, বিএ(সম্মান) ও স্নাতক সম্মান কোর্সে ছাত্রীদের ইংরেজি ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একজনের পক্ষে এতগুলো ক্লাস পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর। আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত কলেজটিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য।

বহিঃক্রীড়া প্রতিযোগীর বিষয়ে শরীর চর্চা শিক্ষক আবু জাফর মোহাম্মদ মুহসিনুল করিম বলেন ক্যাম্পাসটিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আউটডোর প্রতিযোগীতা অনুশীলন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। পড়ালেখার পাশা পাশা নারী শিক্ষার্থীদেরও মানসিক বিকাশে খেলার গুরুত্ব অপরিসীম। এদিকে বর্তমান সরকারও খেলাধুলার প্রতি বিষেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বল্প পরিসরের মাঠে কোনরকম হ্যান্ডবল অনুশীলন করানো যায়। অন্যান্য খেলাধুলার প্রতি ছাত্রীদের আগ্রহ থাকলেও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তাদের প্রতিভা প্রসার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান কলেজের পাশে যে জমিটি আছে তা কলেজ কে দেওয়া হলে খেলা ধুলার মাঠের অভাব পূরন সহ কলেজ ক্যাম্পাস ফিরে পাবে প্রসস্থ মাঠ।

নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাজেরুল ইসলাম বলেন দৃষ্টি নন্দন আধুনিক এ ভবনটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুত নব নির্মিত আধুনিক দৃষ্টি নন্দন এ ভবনটিতে আসবাবপত্র চলে আসবে।

এ সকল বিষয়ে নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ফিরোজুল ইসলাম বলেন সবচেয়ে বেশি তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে ইংরেজিতে। এছাড়াও গণিত ও হিসাব বিজ্ঞানে কোন শিক্ষক নেই। আমরা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটের চাহিদা পাঠিয়েছি। আপনাদের মাধ্যমেও কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরছি যেন অতিদ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কলেজটি নারী শিক্ষার মান উন্নয়নে এগিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন আধুনিক ভবনের পাশাপাশি শ্রেনি কক্ষে ডিজিটাল বোর্ড ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও পাঠদানে আগ্রহ বাড়বে শিক্ষার্থীদের। সব শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ সকলের সহযোগিতায় নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাম্পাসের জায়গা সম্প্রসারনে পাশের জমিটির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। এ জমিটি কলেজকে দেওয়া হলে হলে পর্যাপ্ত আলো বাতাস খেলাধুলার চর্চা সহ একটি আলোকিত ক্যাম্পাস হয়ে গড়ে উঠবে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি আশা করেন সকলের প্রচেষ্টায় নারী বান্ধব এই প্রতিষ্ঠানটি একটি আলোকিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে ।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে বিএনপির মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যানমন্ত্রী

একজন ইংরেজি শিক্ষক দিয়ে চলছে তিন হাজারের অধিক ছাত্রীর পাঠদান

প্রকাশিত ০৩:০০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘উত্তর বাংলার প্রত্যন্ত মহকুমা শহর নীলফামারী’ শিক্ষা-সংষ্কৃতির উৎস ভূমি হলেও স্বাধীনতা পূর্ব কোন মহিলা মহাবিদ্যালয় স্থাপিত হয়নি নীলফামারীতে। তখন নারী শিক্ষার সম্প্রসারনে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হয় একমাত্র নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ।

সুনামের সহিত নারীদের আলাদা ভাবে শিক্ষাদানে ও নারী শিক্ষার মান উন্নয়নে সুনাম অর্জিত হওয়ায় ১৯৮৪ ইং সালে সরকারিকরণ হয় কলেজটি। জাতীয়করনে পর নারী শিক্ষার্থীরা কম খরচে এখানে পড়ালেখা করে দেশ ও বিদেশে অনেকেই আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ সূত্রমতে, জানা যায় কলেজটি নারীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য ১৯৭২ইং সালে স্থাপিত হয়। স্থাপিত হওয়ার পর থেকে নারী উচ্চ শিক্ষায় কলেজটির সুনাম রয়েছে জেলায়। সেই কলেজটিতে আজ দেখা দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট। আর এই শিক্ষক সংকটের মধ্য দিয়ে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষক না হয়েও চাপ সামলিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন অন্যান্য শিক্ষকগন।

বর্তমানে কলেজটিতে এইচএসসি(বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা), বিএ/বিএসএস(সম্মান) ও ৬টি বিষয়ে স্নাতক(সম্মান কোর্স) চালু রয়েছে, যার ছাত্রী সংখ্যা প্রায় তিন হাজারের অধিক। আর এই বিপুল পরিমান ছাত্রীদের জন্য ইংরেজি বিষয়ে পদ অনুযায়ী ৪জন কর্মরত থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন ইংরেজি শিক্ষক। অপর দিকে গণিত ও হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে ২জন করে কর্মরত থাকার কথা থাকলেও এ ২টি বিষয়ে একজনও কর্মরত নেই। এছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে একজন করে কর্মরত আছেন। অপরদিকে অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক সাজিয়া আফরিন (৩৪তম বিসিএস) ২০২২ সালে থেকে অদ্যাবধি অনুপস্থিত আছেন।

জেলার ঐতিহ্যবাহী সেই নারী উচ্চ শিক্ষার এই কলেজটিতে বর্তমানে দেখা দিয়েছে তীব্র শিক্ষক সংকট ও পর্যাপ্ত জমির অভাব। এছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে চাহিদার তুলনায় শিক্ষক সংকটতো রয়েছে। শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার সময় স্বল্প জায়গা নিয়ে শুরু হলেও নারী শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রীর জন্য এখন স্নাতক ডিগ্রী ও স্নাতক সম্মান পর্যন্ত শিক্ষাপাঠদান কার্যক্রম চলমান থাকায় জমি স্বল্পতাও দেখা দিয়েছে তীব্র। যে পরিমানে ছাত্রী বৃদ্ধি পেয়েছে সে তুলনায় জমি রয়েছে অনেক কম। এক সময় ভবন সংকট থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে কলেজটিতে দৃষ্টিনন্দন একটি আধুনিক ভবনের কাজ শেষ হওয়ায় এ সংকট এখন নেই।

তীব্র সংকটে ইংরেজি বিষয়ে কর্মরত একমাত্র সহযোগী অধ্যাপক তহমিন আরা আলম বলেন একাদশ, দ্বাদশ, বিএ(সম্মান) ও স্নাতক সম্মান কোর্সে ছাত্রীদের ইংরেজি ক্লাস নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একজনের পক্ষে এতগুলো ক্লাস পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর। আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই শিক্ষার মান উন্নয়নে দ্রুত কলেজটিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য।

বহিঃক্রীড়া প্রতিযোগীর বিষয়ে শরীর চর্চা শিক্ষক আবু জাফর মোহাম্মদ মুহসিনুল করিম বলেন ক্যাম্পাসটিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় আউটডোর প্রতিযোগীতা অনুশীলন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। পড়ালেখার পাশা পাশা নারী শিক্ষার্থীদেরও মানসিক বিকাশে খেলার গুরুত্ব অপরিসীম। এদিকে বর্তমান সরকারও খেলাধুলার প্রতি বিষেশ গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বল্প পরিসরের মাঠে কোনরকম হ্যান্ডবল অনুশীলন করানো যায়। অন্যান্য খেলাধুলার প্রতি ছাত্রীদের আগ্রহ থাকলেও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তাদের প্রতিভা প্রসার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান কলেজের পাশে যে জমিটি আছে তা কলেজ কে দেওয়া হলে খেলা ধুলার মাঠের অভাব পূরন সহ কলেজ ক্যাম্পাস ফিরে পাবে প্রসস্থ মাঠ।

নীলফামারী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাজেরুল ইসলাম বলেন দৃষ্টি নন্দন আধুনিক এ ভবনটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খুব দ্রুত নব নির্মিত আধুনিক দৃষ্টি নন্দন এ ভবনটিতে আসবাবপত্র চলে আসবে।

এ সকল বিষয়ে নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ ফিরোজুল ইসলাম বলেন সবচেয়ে বেশি তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে ইংরেজিতে। এছাড়াও গণিত ও হিসাব বিজ্ঞানে কোন শিক্ষক নেই। আমরা এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকটের চাহিদা পাঠিয়েছি। আপনাদের মাধ্যমেও কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরছি যেন অতিদ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কলেজটি নারী শিক্ষার মান উন্নয়নে এগিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন আধুনিক ভবনের পাশাপাশি শ্রেনি কক্ষে ডিজিটাল বোর্ড ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পদক্ষেপ নেওয়া হলে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও পাঠদানে আগ্রহ বাড়বে শিক্ষার্থীদের। সব শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ সকলের সহযোগিতায় নীলফামারী সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাম্পাসের জায়গা সম্প্রসারনে পাশের জমিটির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। এ জমিটি কলেজকে দেওয়া হলে হলে পর্যাপ্ত আলো বাতাস খেলাধুলার চর্চা সহ একটি আলোকিত ক্যাম্পাস হয়ে গড়ে উঠবে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি আশা করেন সকলের প্রচেষ্টায় নারী বান্ধব এই প্রতিষ্ঠানটি একটি আলোকিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে ।