১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কৃষককে অজ্ঞান করে টাকা ছিনতাই

সৈয়দপুরে চালককে ফেলে রেখে অটো রিকশা নিয়ে চম্পট প্রতারক

নীলফামারীর সৈয়দপুরে চেতনা নাশক খাইয়ে একই দিনে দুইটা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে অটো রিকশাসহ মোট সাড়ে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারকরা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ও রাতে এসব ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার শিকার দুইজনের একজন সৈয়দপুরের অটো রিকশা চালক সামসুল হক (৪৫) এবং অপরজন ডোমারের কৃষক নজরুল ইসলাম (৫০)। তারা সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের কাজীপাড়া এলাকার মৃত রোস্তম আলীর ছেলে অটো রিকশা চালক সামসুল হক। তার স্ত্রী আক্তারা বেগম বলেন, গতকাল বুধবার রাত ১০ টার দিকে একজন রিকশা চালক আমার স্বামীকে অজ্ঞান অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যায়।

ওই রিকশা চালক জানান, সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। অজ্ঞান পার্টির লোকজন চেতনানাশক মিশানো কিছু খাওয়ায়ে অটো রিকশা নিয়ে পালিয়েছে এবং তাকে সেখানে রেখে গেছে। পরে আমরা বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। প্রতারকরা আমার স্বামীর কাছে থাকা ১১ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে।

অপরদিকে ডোমারের জোরাবাড়ি ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে কৃষক নজরুল ইসলাম। তার মেয়ে রুমি বলেন, বুধবার ১১ টার সময় আমার বাবা জমি সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে নীলফামারী জেলা জজকোর্টে এসেছিলেন। কিন্তু দিন শেষে রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফেরেন নাই। এতে আমরা চরম উৎকন্ঠায় ছিলাম।

এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে ডোমারের সাংবাদিক ও আরটিভির নীলফামারীর জেলা প্রতিনিধি মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাবা সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে। ফেসবুকে সৈয়দপুরের নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রতিনিধি জাকির হোসেন বাবার ভিডিও ছেড়েছেন। সেখান থেকে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা সাংবাদিক জাকিরের সহযোগিতায় হাসপাতালে এসে বাবাকে পেয়েছি। এজন্য তাদেরকে অসংখ্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদা বলেন, দু’জনকেই চেতনানাশক কোন দ্রব্য মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়েছে। এখন তারা সুস্থ তবে পূর্ণ স্বাভাবিক হতে ২৪-৪৮ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। আগামীকাল তাদেরকে বাসায় নেওয়া যাবে।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অটো চালক ও কৃষকের টাকা খোওয়ানোর খবর জানা নাই। কেউ কোন অভিযোগও দেয়নি। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমেই জানতে পারলাম। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য, বিগত এক সপ্তাহে সৈয়দপুরে এভাবে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ছাড়াও চলন্ত অবস্থায় মোবাইল কেড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি রেল লাইনের পাড়ে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা ও কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের অস্ত্র নিয়ে পাল্টা পাল্টি হামলার ঘটনায় আরেক যুবক মৃত্যুশয্যায়। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বিএড কোর্সে অনিয়মের অভিযোগ: শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি, নেই নিজস্ব শিক্ষক-কর্মচারী

কৃষককে অজ্ঞান করে টাকা ছিনতাই

সৈয়দপুরে চালককে ফেলে রেখে অটো রিকশা নিয়ে চম্পট প্রতারক

প্রকাশিত ০৭:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে চেতনা নাশক খাইয়ে একই দিনে দুইটা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এতে অটো রিকশাসহ মোট সাড়ে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে প্রতারকরা। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ও রাতে এসব ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার শিকার দুইজনের একজন সৈয়দপুরের অটো রিকশা চালক সামসুল হক (৪৫) এবং অপরজন ডোমারের কৃষক নজরুল ইসলাম (৫০)। তারা সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের কাজীপাড়া এলাকার মৃত রোস্তম আলীর ছেলে অটো রিকশা চালক সামসুল হক। তার স্ত্রী আক্তারা বেগম বলেন, গতকাল বুধবার রাত ১০ টার দিকে একজন রিকশা চালক আমার স্বামীকে অজ্ঞান অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে যায়।

ওই রিকশা চালক জানান, সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিল। সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। অজ্ঞান পার্টির লোকজন চেতনানাশক মিশানো কিছু খাওয়ায়ে অটো রিকশা নিয়ে পালিয়েছে এবং তাকে সেখানে রেখে গেছে। পরে আমরা বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। প্রতারকরা আমার স্বামীর কাছে থাকা ১১ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে।

অপরদিকে ডোমারের জোরাবাড়ি ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে কৃষক নজরুল ইসলাম। তার মেয়ে রুমি বলেন, বুধবার ১১ টার সময় আমার বাবা জমি সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে নীলফামারী জেলা জজকোর্টে এসেছিলেন। কিন্তু দিন শেষে রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফেরেন নাই। এতে আমরা চরম উৎকন্ঠায় ছিলাম।

এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে ডোমারের সাংবাদিক ও আরটিভির নীলফামারীর জেলা প্রতিনিধি মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাবা সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে। ফেসবুকে সৈয়দপুরের নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রতিনিধি জাকির হোসেন বাবার ভিডিও ছেড়েছেন। সেখান থেকে জানা গেছে। এর প্রেক্ষিতে আমরা সাংবাদিক জাকিরের সহযোগিতায় হাসপাতালে এসে বাবাকে পেয়েছি। এজন্য তাদেরকে অসংখ্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নাজমুল হুদা বলেন, দু’জনকেই চেতনানাশক কোন দ্রব্য মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়েছে। এখন তারা সুস্থ তবে পূর্ণ স্বাভাবিক হতে ২৪-৪৮ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। আগামীকাল তাদেরকে বাসায় নেওয়া যাবে।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অটো চালক ও কৃষকের টাকা খোওয়ানোর খবর জানা নাই। কেউ কোন অভিযোগও দেয়নি। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমেই জানতে পারলাম। লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য, বিগত এক সপ্তাহে সৈয়দপুরে এভাবে একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ছাড়াও চলন্ত অবস্থায় মোবাইল কেড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি রেল লাইনের পাড়ে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করা ও কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের অস্ত্র নিয়ে পাল্টা পাল্টি হামলার ঘটনায় আরেক যুবক মৃত্যুশয্যায়। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন মহল।