০৪:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোরগঞ্জে নজরুল চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরলেন বক্তারা

জাতীয় জীবনে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও আদর্শ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ‘জাতীয় জীবনে নজরুল চর্চার অপরিহার্যতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কবি, নজরুল গবেষক, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আবদুল হাই শিকদার।

আলোচনায় আবদুল হাই শিকদার কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও জাতীয় জীবনে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও কাজী নজরুল ইসলাম পরস্পরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়ে বাঙালি মুসলমানসহ পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের নবজাগরণ ঘটেছিল।

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন এবং ধানমন্ডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের নাম ‘কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ’ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বসাহিত্যে নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার বলেন, কবিতা, গান, উপন্যাসসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদান অনন্য। তাঁর ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও দ্রোহের চিরন্তন প্রতীক হয়ে আছে। সংগীতেও নজরুলের অবদান বাংলা গানের জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, ১৯২৯ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে নজরুলকে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে জাতীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনসহ নানা সংগ্রামে নজরুলের কবিতা মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, নজরুল সর্বজনীন কবি। তিনি শ্যামাসঙ্গীত, ভজন ও কীর্তনের পাশাপাশি হামদ-নাত ও ইসলামী গান রচনা করেছেন। মানবতা, নারী মুক্তি, সাম্য, স্বাধীনতা ও শোষণবিরোধী চেতনা তাঁর সৃষ্টিকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছে। জাতীয় সংহতি ও রাষ্ট্রীয় ঐক্য রক্ষায় নজরুলের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা চর্চার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, নজরুল চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। তাঁর সাহিত্য ও গান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে নজরুলের সৃষ্টির নির্যাস ধারণ করে তরুণরা নিজেদের জীবন গঠন করতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যমুনা টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো প্রধান ও বৃহত্তর রংপুরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ডালিম ও জাসাস নেতা সাইফুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. আরিফুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও সমাজচেতনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে নজরুল চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরলেন বক্তারা

কিশোরগঞ্জে নজরুল চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরলেন বক্তারা

প্রকাশিত ০৯:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় জীবনে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও আদর্শ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ‘জাতীয় জীবনে নজরুল চর্চার অপরিহার্যতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কবি, নজরুল গবেষক, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক আবদুল হাই শিকদার।

আলোচনায় আবদুল হাই শিকদার কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও জাতীয় জীবনে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও কাজী নজরুল ইসলাম পরস্পরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। তাঁর লেখনীর মধ্য দিয়ে বাঙালি মুসলমানসহ পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের নবজাগরণ ঘটেছিল।

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন এবং ধানমন্ডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত সড়কের নাম ‘কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ’ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্বসাহিত্যে নজরুলের বহুমুখী প্রতিভার গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল হাই শিকদার বলেন, কবিতা, গান, উপন্যাসসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদান অনন্য। তাঁর ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও দ্রোহের চিরন্তন প্রতীক হয়ে আছে। সংগীতেও নজরুলের অবদান বাংলা গানের জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, ১৯২৯ সালে মাত্র ৩০ বছর বয়সে কলকাতার অ্যালবার্ট হলে নজরুলকে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে জাতীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ও শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনসহ নানা সংগ্রামে নজরুলের কবিতা মানুষকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবদুল হাই শিকদার আরও বলেন, নজরুল সর্বজনীন কবি। তিনি শ্যামাসঙ্গীত, ভজন ও কীর্তনের পাশাপাশি হামদ-নাত ও ইসলামী গান রচনা করেছেন। মানবতা, নারী মুক্তি, সাম্য, স্বাধীনতা ও শোষণবিরোধী চেতনা তাঁর সৃষ্টিকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করেছে। জাতীয় সংহতি ও রাষ্ট্রীয় ঐক্য রক্ষায় নজরুলের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চেতনা চর্চার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, নজরুল চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। তাঁর সাহিত্য ও গান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে নজরুলের সৃষ্টির নির্যাস ধারণ করে তরুণরা নিজেদের জীবন গঠন করতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যমুনা টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো প্রধান ও বৃহত্তর রংপুরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম ডালিম ও জাসাস নেতা সাইফুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মো. আরিফুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও সমাজচেতনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।