০৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয়ে ডিএসের সাথে দেখা করতে এসে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ২ জন আটক

নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ডিএস এর সাথে দেখা করতে আসা ২ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রেলওয়ে কারখানার ২ নং গেটের সামনে ওয়েলফেয়ার কার্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়। বর্তমানে সৈয়দপুর থানায় অবস্থান করছেন তারা।

আটক দুইজন হলেন, রাজবাড়ী জেলার ঝড়– মন্ডলের ছেলে আনন্দ মন্ডল (৪৫) এব্ং বরিশালের সামসুল হকের ছেলে মাসুম বিল্লাহ সাজিদ (৩০)। আটকের পর আনন্দ মন্ডল নিজেকে ঠিকাদারী কোম্পানী অথৈ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ও সাজিদ মেসার্স এম নুরুদ্দিন কোম্পানীর একাউন্টস ম্যানেজার পরিচয় দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আটক দুইজন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ এর মোবাইলে কল করে নিজেদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসেছেন বলে জানান। এর প্রেক্ষিতে ডিএস দ্রুত কার কার্যালয় থেকে বের হয়ে এসে তাদের রিসিভ করে গেটের পাশেই ওয়েলফেয়ার অফিসে বসেন। কারণ কারখানায় তখন শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি নির্বাচন চলছিল। তাই তিনি তার নিজ অফিসে নিয়ে যাননি।

এরপর ঘটনাস্থলে নির্বাচন উপলক্ষ্যে উপস্থিত লোকজন ওয়েলফেয়ার অফিসে ডিএস এর সাথে তাদের দেখে। এর মধ্যে স্থানীয় উপজেলা তাঁতী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুড়ি ব্যবসায়ী সাহেবকে দেখে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজনের সন্দেহ হয়। এর প্রেক্ষিতে তারা কৌতুহল বশত তাদের পরিচয় জানতে চান। এতে ডিএস ও ওই দুইজন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে এবং তখন নিজেদের ব্যবসায়ী পরিচয় দেয়। তাহলে তাঁতীলীগের নেতার সাথে আপনারা কেন এসেছেন জানতে চাওয়া মাত্রই সাহেব দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে।

এতে সন্দেহ আরও দানা বাধে। ফলে একটা বসচার সৃষ্টি হয়। এতে বাইরের আরও লোকজন সেখানে উপস্থিত হয় এবং আটক দুইজন আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত বলে চাউর হয়। খবর পেয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু ও সামসুল আলম, কোষাধ্যক্ষ আবিদ হোসেন ল্ড্ডাান, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া, শহর জামায়াতের আমীর আলহাজ্ব শরফুদ্দিন খান, সহ সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল মোমেন, শহর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুয়িদ আলাল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরমান হোসেনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন।

তাদের জেরার প্রেক্ষিতে আনন্দ মন্ডল নিজেকে অথৈ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান পরিচয় দেন। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে ডিএস এর সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাত করতে এসেছেন। এসময় তিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়কের সাথে মুঠোফোনে কথা বলিয়ে দেন নেতৃবৃন্দকে। কিন্তু আহ্বায়ক তাকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে চিনলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেউ নন বলে জানান। তবে তারা ঢাকায় থাকেন বলেও জানান তিনি।

এসময় জেলা ছাত্রদল সভাপতি আরমান হোসেন বলেন, কয়েকমাস আগে পার্বতীপুর কেলোকাতে এই আনন্দ মন্ডল নিজেকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ভাই পরিচয় দিয়েছিলেন এবং এ পরিচয়েই তার মোবাইল নম্বর আমার মোবাইলে সেভ করা আছে। এতে আনন্দ মন্ডলের প্রতারণা ধরা পড়ে। তখন কেন এমন পরিচয় দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আনন্দ মন্ডল ভুল স্বীকার করেন।এর প্রেক্ষিতে নেতৃবৃন্দ ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ এসে তাদের সৈয়দপুর থানায় নিয়ে যান।

আনন্দ মন্ডল জানান, তিনি ব্যবসায়ী কাজে পার্বতীপুর ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এসেছেন। ইতোপূর্বেও তিনি সৈয়দপুর কারখানায় নিজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ করেছেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই বরং বিএনপি’র অনেক নেতাই তাকে চেনে এবং জানেন। সেই সুবাদে বিএনপি নেতাদের পরিচয় দিয়ে থাকি। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিষয়ে বলেন, মুলত: সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নতুন ক্যারেজ সপ স্থাপন বিষয়ে প্রধান কাজ তারাই পেয়েছেন এবং সেই কাজের বিষয়েই আলোচনার জন্য ডিএস এর কাছে আসা।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি ইতোপূর্বে কখনো সৈয়দপুরে আসিনি। আমার কোম্পানীর নির্দেশে আনন্দ বাবুর সাথে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য আসা। আর আমাদের সাথে সাহেব নামে যে ব্যক্তি এসেছিলেন তাকেই আমি চিনিনা। তিনি যে, তাঁতীলীগের সাথে সম্পৃক্ত তাও জানা নাই।

জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম বলেন, আটক দুই ব্যক্তি মূলত: আওয়ামীলীগের দোসর। ইতোপূর্বে তারা রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সব ঠিকাদারী করেছেন। এখন আবার বিএনপির পরিচয় দিয়ে প্রতারণামূলকভাবে সব কাজ বাগিয়ে নিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তারা আজ ডিএস এর সাথে দেখা করতে এসেছেন। ডিএস এরও তাদের সাথে পূর্ব থেকে সখ্যতা। গত ২০২৪ ও্র ২০২৫ অর্থ বছরের সব কাজ আওয়ামীলীগের ঠিকাদাররাই করেছেন। তাহলে কেন এত আন্দোলন সংগ্রাম আর রক্ত ও জীবন বিসর্জন। এখনও কোন পরিবর্তন নেই। সৈয়দপুর রেলওয়েকে ঘিরে সরকারের বড় ধরণের

উন্নয়ন পরিকল্পনা আছে। কিন্তু এই ডিএস থাকলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এই ডিএস এখনও আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করতে সচেষ্ট।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ বলেন, আনন্দ মন্ডল আমার পূর্ব পরিচিত। কারণ তিনি রেলওয়ের ঠিকাদার হিসেবে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ইতোপূর্বে অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি আজ প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয়ে কল করেন এবং কারখানায় শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি নির্বাচন চলমান থাকায় তাকে আমার অফিসে না নিয়ে গেটের পাশে ওয়েলফেয়ার অফিসে বসি। যাতে দ্রুত কথা শেষ করে তাদের সেখান থেকেই বিদায় করতে পারি। কিন্তু লোকজন তাদের আওয়ামী দোসর হিসেবে আটক করেন এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তাই তাদের বিষয়ে আমার আর কোন কথা নেই।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা থেকে আটক করে আনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মূলত: কি ধরণের অভিযোগ তা আমার জানা নেই। শুধুমাত্র পরিস্থিতি শান্ত করতেই পুলিশ তাদের থানায় এনেছেন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত কারণ জেনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজ সরকারি করণের দাবী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয়ে ডিএসের সাথে দেখা করতে এসে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ২ জন আটক

প্রকাশিত ১২:২৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ডিএস এর সাথে দেখা করতে আসা ২ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে রেলওয়ে কারখানার ২ নং গেটের সামনে ওয়েলফেয়ার কার্যালয় থেকে তাদের আটক করা হয়। বর্তমানে সৈয়দপুর থানায় অবস্থান করছেন তারা।

আটক দুইজন হলেন, রাজবাড়ী জেলার ঝড়– মন্ডলের ছেলে আনন্দ মন্ডল (৪৫) এব্ং বরিশালের সামসুল হকের ছেলে মাসুম বিল্লাহ সাজিদ (৩০)। আটকের পর আনন্দ মন্ডল নিজেকে ঠিকাদারী কোম্পানী অথৈ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ও সাজিদ মেসার্স এম নুরুদ্দিন কোম্পানীর একাউন্টস ম্যানেজার পরিচয় দিয়েছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আটক দুইজন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ এর মোবাইলে কল করে নিজেদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এসেছেন বলে জানান। এর প্রেক্ষিতে ডিএস দ্রুত কার কার্যালয় থেকে বের হয়ে এসে তাদের রিসিভ করে গেটের পাশেই ওয়েলফেয়ার অফিসে বসেন। কারণ কারখানায় তখন শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি নির্বাচন চলছিল। তাই তিনি তার নিজ অফিসে নিয়ে যাননি।

এরপর ঘটনাস্থলে নির্বাচন উপলক্ষ্যে উপস্থিত লোকজন ওয়েলফেয়ার অফিসে ডিএস এর সাথে তাদের দেখে। এর মধ্যে স্থানীয় উপজেলা তাঁতী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুড়ি ব্যবসায়ী সাহেবকে দেখে বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজনের সন্দেহ হয়। এর প্রেক্ষিতে তারা কৌতুহল বশত তাদের পরিচয় জানতে চান। এতে ডিএস ও ওই দুইজন বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে এবং তখন নিজেদের ব্যবসায়ী পরিচয় দেয়। তাহলে তাঁতীলীগের নেতার সাথে আপনারা কেন এসেছেন জানতে চাওয়া মাত্রই সাহেব দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়ে।

এতে সন্দেহ আরও দানা বাধে। ফলে একটা বসচার সৃষ্টি হয়। এতে বাইরের আরও লোকজন সেখানে উপস্থিত হয় এবং আটক দুইজন আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত বলে চাউর হয়। খবর পেয়ে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু ও সামসুল আলম, কোষাধ্যক্ষ আবিদ হোসেন ল্ড্ডাান, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া, শহর জামায়াতের আমীর আলহাজ্ব শরফুদ্দিন খান, সহ সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল মোমেন, শহর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুয়িদ আলাল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরমান হোসেনসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন।

তাদের জেরার প্রেক্ষিতে আনন্দ মন্ডল নিজেকে অথৈ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান পরিচয় দেন। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে ডিএস এর সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাত করতে এসেছেন। এসময় তিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়কের সাথে মুঠোফোনে কথা বলিয়ে দেন নেতৃবৃন্দকে। কিন্তু আহ্বায়ক তাকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে চিনলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কেউ নন বলে জানান। তবে তারা ঢাকায় থাকেন বলেও জানান তিনি।

এসময় জেলা ছাত্রদল সভাপতি আরমান হোসেন বলেন, কয়েকমাস আগে পার্বতীপুর কেলোকাতে এই আনন্দ মন্ডল নিজেকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ভাই পরিচয় দিয়েছিলেন এবং এ পরিচয়েই তার মোবাইল নম্বর আমার মোবাইলে সেভ করা আছে। এতে আনন্দ মন্ডলের প্রতারণা ধরা পড়ে। তখন কেন এমন পরিচয় দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আনন্দ মন্ডল ভুল স্বীকার করেন।এর প্রেক্ষিতে নেতৃবৃন্দ ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ এসে তাদের সৈয়দপুর থানায় নিয়ে যান।

আনন্দ মন্ডল জানান, তিনি ব্যবসায়ী কাজে পার্বতীপুর ও সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এসেছেন। ইতোপূর্বেও তিনি সৈয়দপুর কারখানায় নিজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ করেছেন। কিন্তু আওয়ামীলীগের সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই বরং বিএনপি’র অনেক নেতাই তাকে চেনে এবং জানেন। সেই সুবাদে বিএনপি নেতাদের পরিচয় দিয়ে থাকি। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিষয়ে বলেন, মুলত: সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নতুন ক্যারেজ সপ স্থাপন বিষয়ে প্রধান কাজ তারাই পেয়েছেন এবং সেই কাজের বিষয়েই আলোচনার জন্য ডিএস এর কাছে আসা।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি ইতোপূর্বে কখনো সৈয়দপুরে আসিনি। আমার কোম্পানীর নির্দেশে আনন্দ বাবুর সাথে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের জন্য আসা। আর আমাদের সাথে সাহেব নামে যে ব্যক্তি এসেছিলেন তাকেই আমি চিনিনা। তিনি যে, তাঁতীলীগের সাথে সম্পৃক্ত তাও জানা নাই।

জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম বলেন, আটক দুই ব্যক্তি মূলত: আওয়ামীলীগের দোসর। ইতোপূর্বে তারা রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সব ঠিকাদারী করেছেন। এখন আবার বিএনপির পরিচয় দিয়ে প্রতারণামূলকভাবে সব কাজ বাগিয়ে নিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে তারা আজ ডিএস এর সাথে দেখা করতে এসেছেন। ডিএস এরও তাদের সাথে পূর্ব থেকে সখ্যতা। গত ২০২৪ ও্র ২০২৫ অর্থ বছরের সব কাজ আওয়ামীলীগের ঠিকাদাররাই করেছেন। তাহলে কেন এত আন্দোলন সংগ্রাম আর রক্ত ও জীবন বিসর্জন। এখনও কোন পরিবর্তন নেই। সৈয়দপুর রেলওয়েকে ঘিরে সরকারের বড় ধরণের

উন্নয়ন পরিকল্পনা আছে। কিন্তু এই ডিএস থাকলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এই ডিএস এখনও আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করতে সচেষ্ট।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মুহাম্মদ বলেন, আনন্দ মন্ডল আমার পূর্ব পরিচিত। কারণ তিনি রেলওয়ের ঠিকাদার হিসেবে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ইতোপূর্বে অনেক কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি আজ প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক পরিচয়ে কল করেন এবং কারখানায় শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধি নির্বাচন চলমান থাকায় তাকে আমার অফিসে না নিয়ে গেটের পাশে ওয়েলফেয়ার অফিসে বসি। যাতে দ্রুত কথা শেষ করে তাদের সেখান থেকেই বিদায় করতে পারি। কিন্তু লোকজন তাদের আওয়ামী দোসর হিসেবে আটক করেন এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। তাই তাদের বিষয়ে আমার আর কোন কথা নেই।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা থেকে আটক করে আনা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মূলত: কি ধরণের অভিযোগ তা আমার জানা নেই। শুধুমাত্র পরিস্থিতি শান্ত করতেই পুলিশ তাদের থানায় এনেছেন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত কারণ জেনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।