০৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীতে এটিএম বুথ ডাকাতির ঘটনায় শোন এরেস্ট দুইজন

নীলফামারীর সদর উপজেলার কাজীরহাট বাজারে ডাচ বাংলা ব্যাংক-এর ফাস্ট ট্র্যাক এটিএম বুথে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার অবশেষে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এঘটনায় জড়িত আন্তঃডাকাত চক্রের দুইজন সদস্যকে শোন এরেস্ট করা হয়েছে। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার রামদেবপুর এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মো. ইউসুফ নবী (৪৮) এবং কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার শাকতলী ভুইয়াবাড়ি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মোদাচ্ছের হোসেন (২৯)। বর্তমানে তারা অপর ডাকাতি মামলায় বগুড়া জেলা কারাগারে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে।

রবিবার(১৯ এপ্রিল) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান।

জেলা পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫) ২৩ ডিসেম্বর ভোর আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাজীরহাট বাজারে অবস্থিত ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ২৪ ডিসেম্বর নীলফামারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করা হয়।

সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মুখোশধারী ডাকাতদল বগুড়া শহরের বারোপুর এলাকায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও এমআর ব্রাদার্স ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে ডাকাতি করে। এসময় তারা সেখানে থাকা গার্ড ও কর্মচারীদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ক্যাশে থাকা ৪৩ হাজার টাকা, একটি বারবোর শটগান ও ১০ রাউন্ড কার্তুজ লুট করে নেয়। ডাকাতির সময় পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌছালে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ সদস্যরা ডাকাতদল বহনকারী মিনি ট্রাকের পিছু ধাওয়া করে এবং বিষয়টি থানার সব টহল পার্টিকে সতর্ক করা হয়। এক পর্যায়ে তারা মিনি ট্রাক রেখে পালিয়ে যায়। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ৩০ ডিসেম্বর অভিযানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ থেকে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুঠোফোনে কথা হলে বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও নীলফামারী জেলা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা মঞ্জুর জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা সহযোগীদের সঙ্গে মিলে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে ১ জানুয়ারি আসামি ইউসুফ নবী ও মোদাচ্ছের হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য এবং অন্যান্য জড়িতদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও জানান, তাদের গ্রেপ্তারের সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি জ্যাক গাড়ি, দুটি সিলিন্ডার, তালা কাটার সংযুক্ত লোহার পাইপ, শর্টগানের চারটি গুলি, একটি হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, জেলার ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে একটি লোহার তৈরি মিনি ভল্ট, ৪৪২টি ডিবিবিএল এটিএম কার্ড, একটি সিডিএম এইচডিডি, ১০টি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্ড, ৮ বক্স স্টার প্লাগ পিন এবং ৬টি বলপেন উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ডাকাতির মামলায় রবিবার দুপুরে তাদের শোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় শিক্ষকের উপর হামলার প্রতিবাদে নীলফামারীতে মানববন্ধন

নীলফামারীতে এটিএম বুথ ডাকাতির ঘটনায় শোন এরেস্ট দুইজন

প্রকাশিত ০৮:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীর সদর উপজেলার কাজীরহাট বাজারে ডাচ বাংলা ব্যাংক-এর ফাস্ট ট্র্যাক এটিএম বুথে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার অবশেষে রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এঘটনায় জড়িত আন্তঃডাকাত চক্রের দুইজন সদস্যকে শোন এরেস্ট করা হয়েছে। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার রামদেবপুর এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মো. ইউসুফ নবী (৪৮) এবং কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার শাকতলী ভুইয়াবাড়ি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মোদাচ্ছের হোসেন (২৯)। বর্তমানে তারা অপর ডাকাতি মামলায় বগুড়া জেলা কারাগারে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে।

রবিবার(১৯ এপ্রিল) বিকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান।

জেলা পুলিশের সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫) ২৩ ডিসেম্বর ভোর আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নের কাজীরহাট বাজারে অবস্থিত ডাচ বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ২৪ ডিসেম্বর নীলফামারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে শনাক্ত করা হয়।

সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মুখোশধারী ডাকাতদল বগুড়া শহরের বারোপুর এলাকায় একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও এমআর ব্রাদার্স ডিস্ট্রিবিউশন হাউজে ডাকাতি করে। এসময় তারা সেখানে থাকা গার্ড ও কর্মচারীদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ক্যাশে থাকা ৪৩ হাজার টাকা, একটি বারবোর শটগান ও ১০ রাউন্ড কার্তুজ লুট করে নেয়। ডাকাতির সময় পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌছালে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ সদস্যরা ডাকাতদল বহনকারী মিনি ট্রাকের পিছু ধাওয়া করে এবং বিষয়টি থানার সব টহল পার্টিকে সতর্ক করা হয়। এক পর্যায়ে তারা মিনি ট্রাক রেখে পালিয়ে যায়। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ৩০ ডিসেম্বর অভিযানের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ থেকে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুঠোফোনে কথা হলে বগুড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও নীলফামারী জেলা সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা মঞ্জুর জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা সহযোগীদের সঙ্গে মিলে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে ১ জানুয়ারি আসামি ইউসুফ নবী ও মোদাচ্ছের হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিস্তারিত তথ্য এবং অন্যান্য জড়িতদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও জানান, তাদের গ্রেপ্তারের সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি জ্যাক গাড়ি, দুটি সিলিন্ডার, তালা কাটার সংযুক্ত লোহার পাইপ, শর্টগানের চারটি গুলি, একটি হাসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

নীলফামারী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, জেলার ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে একটি লোহার তৈরি মিনি ভল্ট, ৪৪২টি ডিবিবিএল এটিএম কার্ড, একটি সিডিএম এইচডিডি, ১০টি এজেন্ট ব্যাংকিং কার্ড, ৮ বক্স স্টার প্লাগ পিন এবং ৬টি বলপেন উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ডাকাতির মামলায় রবিবার দুপুরে তাদের শোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।