০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সৈয়দপুরে সরকারি ডোবা দখলে মাটি ভরাট, ড্রেন উপচে সড়কে পানি, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি ডোবা দখল করে মাটি ভরাট করায় ড্রেন উপচে পানি মহাসড়কে। নোংরা দুর্গন্ধময় ড্রেনের পানিতে মহাসড়ক তলিয়ে গেলেও দুর্ভোগ লাঘবে কোন কর্তৃপক্ষ ভ্রুক্ষেপ না করায় সড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা দেড়টা থেকে সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত সৈয়দপুর ওয়াপদা মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

এতে সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়ক ও সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উভয় সড়কে দুই ঘন্টাব্যাপী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় ২৪ ঘন্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশন ও ডোবা দখলমুক্ত করার দাবি জানান এলাকাবাসী।

জানা যায়, ওয়াপদা মোড়ে (বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র) উত্তর-পশ্চিম কোণে প্রায় ১৫ শতক জায়গা জুড়ে একটা ডোবা আছে। এটার মালিক সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। এলাকার প্রধান ড্রেন দিয়ে এই ডোবাতেই পানি পড়ে। ডোবাটি দখল করে গত একমাস ধরে মাটি ভরাট করছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক প্রকৌশলী আবিদুর রহমান ও পাশের জমির মালিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সৈয়দপুর উপজেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জাভিস্কো।

এর ফলে ওই ডোবা ও ড্রেন উপচে পানি জমেছে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে। গত একমাস ধরে ওই এলাকায় পুরো সড়ক ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে আছে। এর মধ্যেই গাড়ি চলাচলের কারণে ইতোমধ্যে সড়কে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে এবং সড়কের পাশের মাটি দেবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেই সাথে রাস্তার পাশে দোকানসহ সৈয়দপুর-ডোমার রুটে চলাচলকারী বাসের টিকিট কাউন্টারের সামনে নোংরা পানি জমে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে এলাকার দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন দূর্ভোগ লাঘবের জন্য সওজ, পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কোন কর্তৃপক্ষ ভ্রুক্ষেপ করেনি। বিধায় বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি হাতে নেয় ভুক্তভোগীরা। এতে সড়কে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে টনক নড়ে সকল কর্তৃপক্ষের।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজাসহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী। তারা এসময় অবরোধকারীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সাথে মুঠোফোন কথা বলান। এর প্রেক্ষিতে জনদূর্ভোগ দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও। এতে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে মাটি ভরাট করা এবং এর ফলে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি ও সড়কের ক্ষতিসাধনের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও স্যার। তার আগে পানি নিষ্কাশন ও ডোবা থেকে মাটি অপসারণের জন্য ২৪ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে। নয়তো ডোবার মালিক সওজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

সওজ নীলফামারীর উপ-পরিচালক তানিয়া তাসনিম সিন্থিয়া বলেন, আমাদের জায়গা দখল করার কোন সুযোগ নাই। কেউ যদি করে থাকেন এবং ডোবা ভরাটের কারণে পানি জমে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অবশ্যই যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথমত এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেন, আমরা জনদূর্ভোগ নিরসনে আপাততঃ ভেকুট্যাক নিয়ে এসে পানি অপসারণ করছি। এরপর ড্রেনের পানি ডোবায় যেন আগের মতই নিঃসরণ হতে পারে সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। একইসাথে পৌর বিধি লঙ্ঘন করে ডোবা ভরাটের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে

এব্যাপারে অভিযুক্ত পিডিবি প্রকৌশলীর পক্ষে পাশের জমির মালিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সৈয়দপুর উপজেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জালিস্কো বলেন, ডাবায় মাটি ভরাটকারী আমার চাচাতো ভাই। আমরা দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি এবং ডোবা থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া হবে। পরে তিনি এনিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য মুঠোফোনে নিষেধ করেন।

বিষয়
জনপ্রিয় সংবাদ

হারানো ২৮টি মোবাইল ফিরে পেলেন মালিকেরা, কৃতজ্ঞতা নীলফামারী পুলিশের প্রতি

সৈয়দপুরে সরকারি ডোবা দখলে মাটি ভরাট, ড্রেন উপচে সড়কে পানি, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত ০৭:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি ডোবা দখল করে মাটি ভরাট করায় ড্রেন উপচে পানি মহাসড়কে। নোংরা দুর্গন্ধময় ড্রেনের পানিতে মহাসড়ক তলিয়ে গেলেও দুর্ভোগ লাঘবে কোন কর্তৃপক্ষ ভ্রুক্ষেপ না করায় সড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা দেড়টা থেকে সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত সৈয়দপুর ওয়াপদা মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে।

এতে সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়ক ও সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে উভয় সড়কে দুই ঘন্টাব্যাপী শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় ২৪ ঘন্টার মধ্যে পানি নিষ্কাশন ও ডোবা দখলমুক্ত করার দাবি জানান এলাকাবাসী।

জানা যায়, ওয়াপদা মোড়ে (বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র) উত্তর-পশ্চিম কোণে প্রায় ১৫ শতক জায়গা জুড়ে একটা ডোবা আছে। এটার মালিক সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ। এলাকার প্রধান ড্রেন দিয়ে এই ডোবাতেই পানি পড়ে। ডোবাটি দখল করে গত একমাস ধরে মাটি ভরাট করছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক প্রকৌশলী আবিদুর রহমান ও পাশের জমির মালিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সৈয়দপুর উপজেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জাভিস্কো।

এর ফলে ওই ডোবা ও ড্রেন উপচে পানি জমেছে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে। গত একমাস ধরে ওই এলাকায় পুরো সড়ক ময়লা পানিতে সয়লাব হয়ে আছে। এর মধ্যেই গাড়ি চলাচলের কারণে ইতোমধ্যে সড়কে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে এবং সড়কের পাশের মাটি দেবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেই সাথে রাস্তার পাশে দোকানসহ সৈয়দপুর-ডোমার রুটে চলাচলকারী বাসের টিকিট কাউন্টারের সামনে নোংরা পানি জমে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে এলাকার দোকানদার ও স্থানীয় লোকজন দূর্ভোগ লাঘবের জন্য সওজ, পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন, থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কোন কর্তৃপক্ষ ভ্রুক্ষেপ করেনি। বিধায় বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি হাতে নেয় ভুক্তভোগীরা। এতে সড়কে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে টনক নড়ে সকল কর্তৃপক্ষের।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজাসহ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী। তারা এসময় অবরোধকারীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার সাথে মুঠোফোন কথা বলান। এর প্রেক্ষিতে জনদূর্ভোগ দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও। এতে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।

সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে মাটি ভরাট করা এবং এর ফলে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি ও সড়কের ক্ষতিসাধনের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইউএনও স্যার। তার আগে পানি নিষ্কাশন ও ডোবা থেকে মাটি অপসারণের জন্য ২৪ ঘন্টা সময় দেওয়া হয়েছে। নয়তো ডোবার মালিক সওজ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

সওজ নীলফামারীর উপ-পরিচালক তানিয়া তাসনিম সিন্থিয়া বলেন, আমাদের জায়গা দখল করার কোন সুযোগ নাই। কেউ যদি করে থাকেন এবং ডোবা ভরাটের কারণে পানি জমে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অবশ্যই যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথমত এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।

সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আইয়ুব আলী বলেন, আমরা জনদূর্ভোগ নিরসনে আপাততঃ ভেকুট্যাক নিয়ে এসে পানি অপসারণ করছি। এরপর ড্রেনের পানি ডোবায় যেন আগের মতই নিঃসরণ হতে পারে সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে। একইসাথে পৌর বিধি লঙ্ঘন করে ডোবা ভরাটের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে

এব্যাপারে অভিযুক্ত পিডিবি প্রকৌশলীর পক্ষে পাশের জমির মালিক বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সৈয়দপুর উপজেলা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জালিস্কো বলেন, ডাবায় মাটি ভরাটকারী আমার চাচাতো ভাই। আমরা দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি এবং ডোবা থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া হবে। পরে তিনি এনিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য মুঠোফোনে নিষেধ করেন।