বাংলাদেশ সরকারের রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সৈয়দপুর কারখানা পরিদর্শনে এসে কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মানহীন কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ টায় কারখানার ক্যারেজ সপে কোচ তৈরীর কার্যক্রমে অসঙ্গতী দেখে এমন মন্তব্য করেন।
এসময় তিনি ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের শাসান। বলেন, আপনারা কাজের তদারকি করেন না, কাজ বুঝেও নেন না। এমনকি ভালো কাজও দেখেন না। নিজেরাও বোঝেন না বলেই এমন অবহেলা। দক্ষ জনশক্তি দিয়ে মান নিশ্চিত করে কাজ করতে পারলে করেন নয়তো সব কাজ বন্ধ রাখেন।
এর আগে তিনি ঢাকা থেকে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে পৌছান। এসময় তার সাথে ছিলেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম ও রেলওয়ের ডিজি আফজাল হোসেন, এডিজি মহিউদ্দিন, জিএম আহমেদ মাসুম। সেখানে ভিআইপি লাউঞ্জে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
এরপর তারা কারখানায় এসে পৌছলে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ ও কর্ম ব্যবস্থাপক (ডাব্লু এম) মমতাজুল ইসলাম। এসময় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি সভাপতি আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সেক্রেটারী শাহীন আকতার শাহীনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে তারা ক্যারেজ সপ, ওয়াগন সপ, মেশিন টুল সপ, সিএন্ডএইচ সপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ক্যারেজ সপে রেলওয়ে কোচ তৈরীর ক্ষেত্রে জানালার ফিনিশিং ও ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়ে সংক্ষুব্ধ হন। তিনি বলেন, এইসবের মান আরও বৃদ্ধি করতে হবে এবং এগুলো চলবেনা। এর চেয়ে বাসাবাড়ির কাজও অনেক ভালো। আপনাদের চোখ নাই, আর থাকলেও তদারকির অভাব। একারণেই এমন হচ্ছে। এভাবে আর চলতে দেওয়া হবেনা।
পরিদর্শন শেষে বেলা ২ টার দিকে ডিএস কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে কর্মকর্তা ও শ্রমিক নেতাদের সাথে পৃথক পৃথম মতবিনিময় করেন এবং সর্বশেষে প্রধান ফটকের সামনে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে ব্রিফিং করেন। এসময় মন্ত্রী বলেন, এই কারখানা অত্যন্ত প্রাচীন এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে কারখানার উদপানক কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে। তার ধারাবাহিকতায় কাজের মানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অসঙ্গতি তৈরী হয়েছে।
অথচ আমাদের সক্ষমতা অনেক ভালো। কিন্তুৃ সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর ইচ্ছে ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব আছে। আমরা চাই এসব দূর্বলতা দূর করে কারখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে রেলওয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরীর ক্ষেত্র আরও বৃদ্ধি করাসহ সার্বিক উন্নতি করা। এজন্য সব ধরণের প্রস্তুতি নিতে চায় সরকার। আর সেই সম্ভাব্যতা যাচাই করতেই এই সফর।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুরে জনবল সংকট দূর করা হবে। আবাসন সংকট নেই। তবে বাংলো ও কোয়াটারগুলো অনেক পুরাতন হয়ে পড়ায় তা সংস্কার প্রয়োজন। আর রেলওয়ের ৯টি হাসপাতালই বেশ খারাপ অবস্থায় আছে। এগুলোর ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। পরে পরিদর্শন দল পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিক কারখানা পরিদর্শনে যান।

























