নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক মতিউর রহমানের ঘুষ বাণিজ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৬ দিন আগে এক মিনিট ৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গোটা উপজেলাজুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। ঘুষ গ্রহনের ভিডিও ছাড়াও কয়েকটি মাদ্রাসার জাল এবং ভুয়া নতুন এমপিও ফাইল সম্প্রর্কিত তথ্য প্রেরনের একটি তদন্ত প্রতিবেদনও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহায়ক মতিউর রহমান অফিসের চেয়ারে বসে বিভিন্ন কাগজপত্র পর্যালোচনা করছেন। তাঁর পাশে চেয়ারে বসে আছেন একজন পাঞ্জাবি পরিহিত ব্যাক্তি। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে ওই পাঞ্জাবী পরিহিত ব্যাক্তিটি পাঞ্জাবির পকেট থেকে টাকা বের করে টেবিলের নিচ দিয়ে অফিস সহায়ক মতিউর রহমানের হাতে দিচ্ছেন।
তিনি তা নিয়ে প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে রাখছেন। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে গিয়ে অফিস সহায়ক মতিউর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয় অস্বিকার করে বলেন ওই ব্যাক্তি আমাকে লেইস প্রকল্প থেকে গাছ লাগানোর রশিদের ভাউচার দিয়েছেন। ভাউচারটি টেবিলের উপরে ফাইলে না রেখে পকেটে রাখছেন কেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ভাউচারটি পরে ফাইলে রেখেছি। পাশের চেয়ারে বসে থাকা ব্যাক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই ব্যাক্তি সিঙ্গেরগাড়ী পুর্বপাড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার সাইফুর রহমান । সুপার সাইফুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি ওনাকে একটি ভাউচার দিয়েছি। সেটি গোপনে কেন প্রশ্ন করলে তিনি মোবাইলের সংযোগ কেঁটে দেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিশোরগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ২০২৪ সালের ১৯৬ নং স্বারকের একটি চিঠি থেকে জানা গেছে, উপজেলার সাবেক মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরুল আমিন শাহ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে কিশোরগঞ্জ কেশবা ফাজিল মাদ্রাসা, ভেড়ভেড়ি কামাল উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা,চাঁদখানা বুড়ির হাট এ ইউ দাখিল মাদ্রাসা, বড়ভিটা আফজালুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকের জাল এবং ভুয়া নতুন এমপিও ফাইল সর্ম্পকিত তথ্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে অত্র উপজেলার ৫ টি মাদ্রাসার নিয়োগকৃত তথ্যাদি জাল ও ভুয়া। উক্ত পদগুলোতে ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে এমপিওভুক্ত করনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মোঃ মোস্তাকিমুজ্জামান বাবু নামে একটি আইডি থেকে বড়ভিটা আফজালুল উলুম মাদ্রাসার নিয়োগের তালিকা দিয়ে কমেন্ট করা হয়েছে, আফজালুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ অহিদুলের নিয়োগের আমলনামা।
আব্দুলল্লাহ আল নিহান নামে আর একটি আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়েছে এর অপসারন চাই নাহলে শিক্ষা ব্যাবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি আরো লেখেন সাংবাদিক ভাইদের দৃষ্টি আর্কশন করছি এই শিক্ষা অফিসার থলের বিড়াল তিনি ঘুষ নিয়ে ওই সমস্ত জাল নিয়োগ ধারীদের এমপিওভুক্ত করে দিয়ে কোটিপতি হয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার অফিসে কোন ঘুষ বাণিজ্য হয়না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেটি ছড়িয়েছে সেটি মিথ্যা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওর সাথে একটি তদন্ত প্রতিবেদন ছড়ানো হয়েছে সেটি কিভাবে বাইরে গেল প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বড়ভিটা এ ইউ ফাজিল মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষকের নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন ও জাল সনদ দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এ ধরনের অভিযোগ আসার পর সেগুলো তদন্ত করে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এ কারনে আমার অফিসের সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল চক্রান্ত করে ভিডিও ধারন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে পারে। প্রাথমিক তদন্তে কি পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থ লেনদেনের কোন প্রমান পাইনি তবে কয়েকজন শিক্ষকের সনদ ও নিয়োগের ক্ষেত্রে জালিয়াতী থাকতে পারে। সনদগুলো পরীক্ষার জন্য উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সাথে ছবি আছে ভিডিওটি ইত্তেফাকের হোয়ার্টস এ্যাপ গ্রুফে পাঠানো হয়েছে।



























