০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

নীলফামারীতে পুরোনো ভোটকেন্দ্র বহালের দাবিতে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধণ

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যে কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ টি গ্রামের মানুষ। হঠাৎ করে সেই কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়ার খবরে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছেন ওই কেন্দ্রের সাধারন ভোটাররা।

ভোটারদের সুবিধাজনক স্থান থেকে ভোট কেন্দ্রটি সরিয়ে দুরের একটি বিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক হাজার ভোটাররা। এ ঘটনায় ওই ভোট কেন্দ্রের সর্বস্তরের ভোটারদের স্বাক্ষরিত একটি স্বারকলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঢাকা বরাবর প্রেরন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার সময় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের ভোটারদের আয়োজনে ওই কেন্দ্রের হাজারো মানুষ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা শহর প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন করে।

এসময় তারা ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের সিদান্ত বাতিল কর করতে হবে। আগের ভোট কেন্দ্র বহাল চাই, চক্রান্ত রুখে দাও আগের ভোট কেন্দ্র ফিরিয়ে দাও, আমাদের ভোটকেন্দ্র আমাদের এলাকাতেই রাখতে হবে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দক্ষিন পুষনা গ্রামের আনারুল ইসলাম, ছকিরবাজারের মিলু মিয়া, রফিকুল ইসলাম, পুষনা গ্রামের হাসমত আলী, ইউনুছ আলী প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৩০ বছর ধরে পুষনা ইউনাইটেড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৬ নং কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহুত হয়ে আসছে। ওই ভোট কেন্দ্র ৮ টি গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত। একটি মহল চক্রান্ত করে ভোট কেন্দ্রটিকে সরিয়ে ওই ওয়ার্ডের সবচেয়ে কর্নারে ওয়ার্ডের শেষ সীমানায় শহীদ শরিফুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের জন্য সুপারিশ করেছে। পুর্বের কেন্দ্রটি থেকে যার দুরুত্ব প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত নতুন কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে যাওয়ার রাস্তাঘাট খুবই নাজুক।

এলাকার বয়স্ক নারী পুরুষ ওই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেনা। তাছাড়া পুষনা শহীদ শরিফুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির চারদিকে পুকুর রয়েছে। বিদ্যালয়টি বর্ষাকালে সব সময় কর্দমাক্ত থাকে। পুর্বের কেন্দ্রটি ওয়ার্ডের মাঝামাঝি হওয়ার কারনে ৮ টি গ্রামের ভোটাররা সাচ্ছন্দে সেখানে গিয়ে ভোট দিতে পারে। যদি ভোট কেন্দ্রটি পুর্বের জায়গায় বহাল রাখা না হয় তাহলে বৃহৎ কর্মসুচী গ্রহন করা হবে বলে হুশিয়ারী দেন বক্তারা।

উপজেলা নির্বাচন কমকর্তা গোলাম মওলা লিটন মিয়া বলেন, আমি এ উপজেলায় যোগদান করার কয়েক মাস হল। বিষয়টি সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানিনা। তাছাড়া এখনো ভোট কেন্দ্র পরিবর্তনের কোন কাগজপত্র আমি পাইনি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ লুৎফুল কবীর সরকার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। এটি বর্তমানে জেলার হাতে নেই। তবে প্রাথমিক ভাবে ৬ নং কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ভোটকেন্দ্রটি পরিবর্তন করে পুষনা শহীদ শরিফুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ফাইনালী কোন কিছুই হয়নি। ওই ওয়ার্ডের ভোটাররা যেটা চায় সেটাই করার চেষ্টা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন, প্রশাসনের দ্বারস্থ প্রায় এক হাজার নাগরিক

নীলফামারীতে পুরোনো ভোটকেন্দ্র বহালের দাবিতে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও মানব বন্ধণ

প্রকাশিত ০৮:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যে কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ টি গ্রামের মানুষ। হঠাৎ করে সেই কেন্দ্র সরিয়ে নেওয়ার খবরে ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছেন ওই কেন্দ্রের সাধারন ভোটাররা।

ভোটারদের সুবিধাজনক স্থান থেকে ভোট কেন্দ্রটি সরিয়ে দুরের একটি বিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েক হাজার ভোটাররা। এ ঘটনায় ওই ভোট কেন্দ্রের সর্বস্তরের ভোটারদের স্বাক্ষরিত একটি স্বারকলিপি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঢাকা বরাবর প্রেরন করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২ টার সময় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের ভোটারদের আয়োজনে ওই কেন্দ্রের হাজারো মানুষ একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা শহর প্রদক্ষিন শেষে উপজেলা নির্বাচন অফিসের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন করে।

এসময় তারা ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের সিদান্ত বাতিল কর করতে হবে। আগের ভোট কেন্দ্র বহাল চাই, চক্রান্ত রুখে দাও আগের ভোট কেন্দ্র ফিরিয়ে দাও, আমাদের ভোটকেন্দ্র আমাদের এলাকাতেই রাখতে হবে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দক্ষিন পুষনা গ্রামের আনারুল ইসলাম, ছকিরবাজারের মিলু মিয়া, রফিকুল ইসলাম, পুষনা গ্রামের হাসমত আলী, ইউনুছ আলী প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৩০ বছর ধরে পুষনা ইউনাইটেড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৬ নং কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহুত হয়ে আসছে। ওই ভোট কেন্দ্র ৮ টি গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত। একটি মহল চক্রান্ত করে ভোট কেন্দ্রটিকে সরিয়ে ওই ওয়ার্ডের সবচেয়ে কর্নারে ওয়ার্ডের শেষ সীমানায় শহীদ শরিফুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের জন্য সুপারিশ করেছে। পুর্বের কেন্দ্রটি থেকে যার দুরুত্ব প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত নতুন কেন্দ্রটিতে ভোট দিতে যাওয়ার রাস্তাঘাট খুবই নাজুক।

এলাকার বয়স্ক নারী পুরুষ ওই কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেনা। তাছাড়া পুষনা শহীদ শরিফুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টির চারদিকে পুকুর রয়েছে। বিদ্যালয়টি বর্ষাকালে সব সময় কর্দমাক্ত থাকে। পুর্বের কেন্দ্রটি ওয়ার্ডের মাঝামাঝি হওয়ার কারনে ৮ টি গ্রামের ভোটাররা সাচ্ছন্দে সেখানে গিয়ে ভোট দিতে পারে। যদি ভোট কেন্দ্রটি পুর্বের জায়গায় বহাল রাখা না হয় তাহলে বৃহৎ কর্মসুচী গ্রহন করা হবে বলে হুশিয়ারী দেন বক্তারা।

উপজেলা নির্বাচন কমকর্তা গোলাম মওলা লিটন মিয়া বলেন, আমি এ উপজেলায় যোগদান করার কয়েক মাস হল। বিষয়টি সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানিনা। তাছাড়া এখনো ভোট কেন্দ্র পরিবর্তনের কোন কাগজপত্র আমি পাইনি।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ লুৎফুল কবীর সরকার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। এটি বর্তমানে জেলার হাতে নেই। তবে প্রাথমিক ভাবে ৬ নং কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ভোটকেন্দ্রটি পরিবর্তন করে পুষনা শহীদ শরিফুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। ফাইনালী কোন কিছুই হয়নি। ওই ওয়ার্ডের ভোটাররা যেটা চায় সেটাই করার চেষ্টা করা হবে।