০৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে তিস্তার পানি, লোকালয় প্লাবিত

রূদ্ধমুর্তির রূপ ধারন করতে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা তিস্তা নদীর বন্যা। মঙ্গলবার(২৩ জুন) সকাল থেকে বাড়া কমার মধ্যে পানি প্রবাহ থাকলেও দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টায় এসে হুট করে তিস্তা গর্জে উঠে।

এতে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার (৫২.১৫) এক সেন্টিমিটার (৫২.১৬) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন। পাশাপাশি দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে এমন পরিস্থিতি সৃস্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে নিম্নাঞ্চলে ঢুকছে পানি। তিস্তাপাড়ের শতশত চরের ফসলি জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ও সকাল ৯টায় ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টায় সেই পানি আরও কমে আসে ৫ সেন্টিমিটার। এরপর দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত হঠাৎ করে উজানের ঢল বৃদ্ধি পেতে থাকে বলে ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়,নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর গঙ্গাচরা মহিপুর ও কুড়িগ্রামে চর ও নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টের পানির পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তার নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন নিম্নাঞ্চলে তিস্তার পানি প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিস্তা নদীর পানি হু-হু করে বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

তারা আরও জানান, উজান থেকে যে ঢল নামছে সেখানে প্রচন্ড ঘোলা পানি আসছে। বড়ধরণের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
ডালিয়া চর এলাকার রাসেল কাজী বলেন, ডিমলার বাইশপুকুর নিম্নাঞ্চল এলাকায় তিস্তার পানি প্রবেশ করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারীতে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে তিস্তার পানি, লোকালয় প্লাবিত

প্রকাশিত ০৫:১৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

রূদ্ধমুর্তির রূপ ধারন করতে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের জীবনরেখা তিস্তা নদীর বন্যা। মঙ্গলবার(২৩ জুন) সকাল থেকে বাড়া কমার মধ্যে পানি প্রবাহ থাকলেও দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টায় এসে হুট করে তিস্তা গর্জে উঠে।

এতে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার (৫২.১৫) এক সেন্টিমিটার (৫২.১৬) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন। পাশাপাশি দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে এমন পরিস্থিতি সৃস্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে নিম্নাঞ্চলে ঢুকছে পানি। তিস্তাপাড়ের শতশত চরের ফসলি জমিগুলো তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ও সকাল ৯টায় ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। দুপুর ১২টায় সেই পানি আরও কমে আসে ৫ সেন্টিমিটার। এরপর দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত হঠাৎ করে উজানের ঢল বৃদ্ধি পেতে থাকে বলে ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপ নুরুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়,নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর গঙ্গাচরা মহিপুর ও কুড়িগ্রামে চর ও নিম্নাঞ্চলের এলাকাগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টের পানির পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তার নিম্নাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।

ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন নিম্নাঞ্চলে তিস্তার পানি প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিস্তা নদীর পানি হু-হু করে বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

তারা আরও জানান, উজান থেকে যে ঢল নামছে সেখানে প্রচন্ড ঘোলা পানি আসছে। বড়ধরণের বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
ডালিয়া চর এলাকার রাসেল কাজী বলেন, ডিমলার বাইশপুকুর নিম্নাঞ্চল এলাকায় তিস্তার পানি প্রবেশ করেছে।