০৪:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিয়মিতই দেরিতে আসেন, রোগীদের স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাঘাত

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (লালকুঠি) প্রায় সব কর্মকর্তা কর্মচারীই নিয়মিত দেরি করে আসেন। এতে প্রতিদিনই বহির্বিভাগে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম শুরু করা হয় বিলম্বে। ফলে সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত কোনো রোগীই দেখা হয়না। তাই ১০ টার আগে কোন রোগী আসলে তাকে অপেক্ষা করতে হয় ডাক্তার ও সহযোগীদের জন্য। নয়তো চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়।

দেরিতে আসার এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৭ টা ৫০ মিনিট থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান করে দেখা যায়, অফিস টাইম সকাল ৮ টার আগে কেউই আসেনি। এরপর ২-৩ জন আসলেও বেশির ভাগই আসেন সাড়ে ৮ টার পর। আর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার আসেন ৯.২৭ টায়।

এর আগে অফিস স্টাফ মেহনাজ ৮.৩১, নার্স অমিতাভ রায় ৮.৩২, নার্স আরিফা আক্তার ৮.৩৫, নার্স নাসিমা ৮.৩৬, পরিচ্ছন্নতা কর্মী (প্রধান কর্মকর্তার পিএ) রুবেল ইসলাম ৮.৩৭, কম্পিউটার অপারেটর কমল রায় ৮.৩৮, জরুরি মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ডা. জান্নাত আরা ৮.৩৯, অফিস স্টাফ আসাদুজ্জামান ৮.৫৫, এমএলএসএস মনোরমা ব্যানার্জী ৮.৫৮, মেডিকেল অফিসার ডা. সোহাগী ৯.২, ওয়ার্ড বয় আব্দুল কাদের ৯.১২ টায় আসেন।

সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার সাংবাদিকদের জানান, মূলত: হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সকাল ৮ টা অফিস টাইম। তবে সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত ডিজিটাল হাজিরা মেশিনে (ফিংগার স্ক্যানার) তাদের উপস্থিতি কাউন্ট করা হয়। এরপর লেট হিসেবে ধরা হয়। আর অফিস স্টাফদের জন্য ৯টা অফিস টাইম এবং সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ফিংগার দেওয়া যায়। এই টাইম টেবিল পার হলে অনুপস্থিত হবে। সেই হিসেবে আজ কেউই দেরি করে আসেন নাই।

একটা সূত্রের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার নিজেই নিয়মিত দেরি করে আসেন। সাংবাদিক উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে জানানোর কারণে আজ দ্রুত উপস্থিত হয়েছেন। তাও সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী (প্রধান কর্মকর্তার পিএ) রুবেল ইসলাম মোটর সাইকেলে করে নিয়ে আসে। নয়তো আরও দেরি হতো এবং সাড়ে ৯ টা পার হয়ে যেতো।

এমনকি একদিন সিভিল সার্জন নিজে এসেও তাকে দেরিতে আসার প্রমাণ পেয়েছেন। তারপরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেকারণে উপস্থিতির ব্যাপারে গাফিলতি দেখিয়েই যাচ্ছেন। আর তাঁর কারণে অন্যরাও সুযোগের সৎ ব্যবহার করে যাচ্ছেতাইভাবে অফিসে আসেন। যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। তাছাড়া রোগীরা সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় ওষুধও মিলছেনা নিয়মিত।

নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আপনার অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তথ্য প্রমাণ তথা সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারী কে কে দেরিতে আসেন সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ডকুমেন্টস থাকলে আমাকে পাঠিয়ে দেন। আমি দেখে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ প্রাপ্তির বিষয়ও তদারকি করা হবে।

বিষয়
জনপ্রিয় সংবাদ

ডোমারে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের গোলবার কেটে নিয়ে গেলো প্রধান শিক্ষিকা

সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিয়মিতই দেরিতে আসেন, রোগীদের স্বাস্থ্য সেবায় ব্যাঘাত

প্রকাশিত ০৭:০৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (লালকুঠি) প্রায় সব কর্মকর্তা কর্মচারীই নিয়মিত দেরি করে আসেন। এতে প্রতিদিনই বহির্বিভাগে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম শুরু করা হয় বিলম্বে। ফলে সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত কোনো রোগীই দেখা হয়না। তাই ১০ টার আগে কোন রোগী আসলে তাকে অপেক্ষা করতে হয় ডাক্তার ও সহযোগীদের জন্য। নয়তো চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যেতে হয়।

দেরিতে আসার এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল ৭ টা ৫০ মিনিট থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থান করে দেখা যায়, অফিস টাইম সকাল ৮ টার আগে কেউই আসেনি। এরপর ২-৩ জন আসলেও বেশির ভাগই আসেন সাড়ে ৮ টার পর। আর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার আসেন ৯.২৭ টায়।

এর আগে অফিস স্টাফ মেহনাজ ৮.৩১, নার্স অমিতাভ রায় ৮.৩২, নার্স আরিফা আক্তার ৮.৩৫, নার্স নাসিমা ৮.৩৬, পরিচ্ছন্নতা কর্মী (প্রধান কর্মকর্তার পিএ) রুবেল ইসলাম ৮.৩৭, কম্পিউটার অপারেটর কমল রায় ৮.৩৮, জরুরি মেডিকেল অফিসার (ইএমও) ডা. জান্নাত আরা ৮.৩৯, অফিস স্টাফ আসাদুজ্জামান ৮.৫৫, এমএলএসএস মনোরমা ব্যানার্জী ৮.৫৮, মেডিকেল অফিসার ডা. সোহাগী ৯.২, ওয়ার্ড বয় আব্দুল কাদের ৯.১২ টায় আসেন।

সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার সাংবাদিকদের জানান, মূলত: হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সকাল ৮ টা অফিস টাইম। তবে সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত ডিজিটাল হাজিরা মেশিনে (ফিংগার স্ক্যানার) তাদের উপস্থিতি কাউন্ট করা হয়। এরপর লেট হিসেবে ধরা হয়। আর অফিস স্টাফদের জন্য ৯টা অফিস টাইম এবং সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ফিংগার দেওয়া যায়। এই টাইম টেবিল পার হলে অনুপস্থিত হবে। সেই হিসেবে আজ কেউই দেরি করে আসেন নাই।

একটা সূত্রের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামসুন্নাহার নিজেই নিয়মিত দেরি করে আসেন। সাংবাদিক উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে জানানোর কারণে আজ দ্রুত উপস্থিত হয়েছেন। তাও সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী (প্রধান কর্মকর্তার পিএ) রুবেল ইসলাম মোটর সাইকেলে করে নিয়ে আসে। নয়তো আরও দেরি হতো এবং সাড়ে ৯ টা পার হয়ে যেতো।

এমনকি একদিন সিভিল সার্জন নিজে এসেও তাকে দেরিতে আসার প্রমাণ পেয়েছেন। তারপরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেকারণে উপস্থিতির ব্যাপারে গাফিলতি দেখিয়েই যাচ্ছেন। আর তাঁর কারণে অন্যরাও সুযোগের সৎ ব্যবহার করে যাচ্ছেতাইভাবে অফিসে আসেন। যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। তাছাড়া রোগীরা সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় ওষুধও মিলছেনা নিয়মিত।

নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আপনার অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তথ্য প্রমাণ তথা সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারী কে কে দেরিতে আসেন সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট ডকুমেন্টস থাকলে আমাকে পাঠিয়ে দেন। আমি দেখে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ প্রাপ্তির বিষয়ও তদারকি করা হবে।