০৭:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকদের দেখে ঘুষের টাকা ফেলে পালালেন ভূমি কর্মকর্তা

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের তহশিলদার রেজাউল ইসলাম ঘুষ নেন দালালের মাধ্যমে। এমন একটি ঘটনা উৎঘাটন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও চিত্র।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে আসা ভূমি মালিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ঘুষের লেনদেনের চিত্র ধারন করার সময় তিনি সটকে পড়েন। তবে ওই ভূমি কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন ওই রুমে আমি টাকা নিতে নয় একটি দলিলের তথ্য খুঁজতে গিয়েছিলাম।

জানা যায়, রেজাউল ইসলাম ঘুষ ছাড়া কোন কাজ করেননা। ভূমি অফিসে নামজারি, ভূমির কর প্রদান, আদালত থেকে আসা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান, খতিয়ান খোজা, খাস জমির বন্দোবস্ত করতে আসা জমির মালিকদের তিনি প্রতিনিয়ত হয়রানী করে থাকেন। এমনকি মোটা অংকের টাকা ঘুষ ছাড়া তিনি কোন কাজেই হাত দিতে চাননা। এসব ঘটনায় ভূমি মালিকরা সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে অভিযোগ করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ওই অভিযোগের সুত্র ধরে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাঁর অফিস কক্ষ ফাঁকা দেখা যায়। এসময় রেকর্ড রুমের দরজা খোলা দেখে রুমের পাশে গিয়ে দাড়াতেই দেখা যায় দুইজন ব্যাক্তি ৫শ টাকার একটি বান্ডিল গুনছে। এসময় ওই ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামকে রেকর্ড রুমের আলমিরার পিছনে ঘাপটি মেরে থাকতে দেখা যায়। পরে তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমে ৫শ টাকার বান্ডিল গুনতে থাকা ওই দুই ব্যাক্তির পরিচয় জানতে চাইলে একজন নিজেকে সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বলে দাবি করেন। অন্যজন ভুমির মালিক। তাঁর বাড়ি সদর ইউনিয়নের ছিটরাজীব গ্রামে। তিনি মনোরঞ্জন দ্বিবেদীর ছেলে শ্রী মলয় চন্দ্র। আপনারা এখানে ভূমি কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে কিসের টাকা গুনছেন প্রশ্ন করলে তারা বলেন, আমরা জমির খাজনা দিতে এসেছি।

ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমে গোপনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ঘুষের টাকা গুনার ভিডিও চিত্র তাৎক্ষনিক উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তনিমা জামান তন্বীকে দেখালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ওই ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করব বলে তিনি জানান।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, আমি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে রেকর্ড রুমে টাকা গুনার ভিডিওটি দেখে তাৎক্ষনিক সহকারী কমিশনারকে জানিয়েছি। সেই সাথে তিনি আরো বলেন, হাতে হাতে টাকা নিয়ে জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের কোন সুযোগ নেই। বর্তমান আইনে ভূমি কর্মকর্তা জমির মালিককে খাজনার পরিমান জানাবে আর জমির মালিক বিকাশ/নগদের মাধ্যমে ভূমির কর পরিশোধ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৈয়দপুরে বাস থেকে ১০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার, একজন আটক

কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকদের দেখে ঘুষের টাকা ফেলে পালালেন ভূমি কর্মকর্তা

প্রকাশিত ০৬:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের তহশিলদার রেজাউল ইসলাম ঘুষ নেন দালালের মাধ্যমে। এমন একটি ঘটনা উৎঘাটন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও চিত্র।

ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে আসা ভূমি মালিকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে ঘুষের লেনদেনের চিত্র ধারন করার সময় তিনি সটকে পড়েন। তবে ওই ভূমি কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন ওই রুমে আমি টাকা নিতে নয় একটি দলিলের তথ্য খুঁজতে গিয়েছিলাম।

জানা যায়, রেজাউল ইসলাম ঘুষ ছাড়া কোন কাজ করেননা। ভূমি অফিসে নামজারি, ভূমির কর প্রদান, আদালত থেকে আসা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান, খতিয়ান খোজা, খাস জমির বন্দোবস্ত করতে আসা জমির মালিকদের তিনি প্রতিনিয়ত হয়রানী করে থাকেন। এমনকি মোটা অংকের টাকা ঘুষ ছাড়া তিনি কোন কাজেই হাত দিতে চাননা। এসব ঘটনায় ভূমি মালিকরা সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে অভিযোগ করে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

ওই অভিযোগের সুত্র ধরে বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাঁর অফিস কক্ষ ফাঁকা দেখা যায়। এসময় রেকর্ড রুমের দরজা খোলা দেখে রুমের পাশে গিয়ে দাড়াতেই দেখা যায় দুইজন ব্যাক্তি ৫শ টাকার একটি বান্ডিল গুনছে। এসময় ওই ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামকে রেকর্ড রুমের আলমিরার পিছনে ঘাপটি মেরে থাকতে দেখা যায়। পরে তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন।

ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমে ৫শ টাকার বান্ডিল গুনতে থাকা ওই দুই ব্যাক্তির পরিচয় জানতে চাইলে একজন নিজেকে সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বলে দাবি করেন। অন্যজন ভুমির মালিক। তাঁর বাড়ি সদর ইউনিয়নের ছিটরাজীব গ্রামে। তিনি মনোরঞ্জন দ্বিবেদীর ছেলে শ্রী মলয় চন্দ্র। আপনারা এখানে ভূমি কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে কিসের টাকা গুনছেন প্রশ্ন করলে তারা বলেন, আমরা জমির খাজনা দিতে এসেছি।

ভূমি অফিসের রেকর্ড রুমে গোপনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ঘুষের টাকা গুনার ভিডিও চিত্র তাৎক্ষনিক উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি তনিমা জামান তন্বীকে দেখালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ওই ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করব বলে তিনি জানান।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, আমি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছ থেকে রেকর্ড রুমে টাকা গুনার ভিডিওটি দেখে তাৎক্ষনিক সহকারী কমিশনারকে জানিয়েছি। সেই সাথে তিনি আরো বলেন, হাতে হাতে টাকা নিয়ে জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের কোন সুযোগ নেই। বর্তমান আইনে ভূমি কর্মকর্তা জমির মালিককে খাজনার পরিমান জানাবে আর জমির মালিক বিকাশ/নগদের মাধ্যমে ভূমির কর পরিশোধ করবে।