১২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
সৈয়দপুরে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার

জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধী দলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেছেন, জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধী দলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে যেন, জামায়াতকে ভোট দেওয়া লোকজন এদেশের নাগরিক নন। তাই তাদের কোন অধিকার নাই। শুধু বিএনপির ভোটাররাই সরকারের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।

সেকারণে বিএনপির এমপিদের এলাকায় একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হলেও জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করছে সরকার। তাদের প্রাপ্য সাধারণ বরাদ্দও কাটছাট করে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে তারা। আর বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লুটেপুটে খাওয়ার নেশায় মেতে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ৪ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন তিনি। এর আগে তিনি ইউএস বাংলার একটা ফ্লাইটে সৈয়দপুরে এসে পৌঁছেন। সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমিতে অনুষ্ঠিতব্য রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক কর্মপরিষদ সদস্যের দুইদিনব্যাপী কর্মশালা উদ্বোধন করতেই তাঁর এই আগমন।

এসময় তাঁর সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রংপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর অঞ্চল সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন, অন্যতম অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল হাকিম, নীলফামারী জেলা আমির ও নীলফামারী-১ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, নীলফামারী-৪ আসনের এমপি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম।

সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, অনিয়মতান্ত্রিক কাজে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে। যে কারণে ব্যাপক অন্তঃকোন্দল দেখা দিয়েছে সরকার দলে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করাসহ অর্থ গ্রহণ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির নগ্ন নোংরামীও দেখা যাচ্ছে।

শুধু এই ক্ষেত্রে নয় বরং সাংবিধানিক ৮ টি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে বিএনপি সরকার চরম অনিয়ম দূর্নীতি করেছে। এভাবে সারাদেশে জেলা পরিষদ, সিটি ও পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় নেতাদের বসিয়েছে। আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ গ্রহণ নিয়ে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি নির্বাচন কমিশনে। একইসাথে বিভিন্ন স্থানে নিয়োগকৃত সরকার দলীয় লোকদেরও স্থানীয় নির্বাচন অংশ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞার দাবি করেছি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে গোলাম পারোয়ার বলেন, এমপিদের যদি স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু ৭৩ অনুচ্ছেদ তাদের দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য বাধ্য করে রেখেছে। এধরনের নিয়ম পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এজন্যই সংবিধান সংষ্কার করা দরকার। আমরা দাবিও জানিয়েছি। কিন্তু সরকার তা কোনভাবেই বাস্তবায়ন করবেনা। কারণ নিজেরা ভোট দেওয়া গণভোটই তারা মানছেন না।

সাবেক এমপি গোলাম পারোয়ার বলেন, মূলত: সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। ঐক্যমত কমিশনে সম্মত হয়েও তারা সংস্কার কমিশনই অস্বীকার করছে। অথচ একই অধ্যাদেশে নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছেন। অর্থাৎ যেটাতে তাদের সুবিধা হবে সেটা মানবেন আর যেটা করলে দেশ ও জনগণের জন্য ভালো হবে তা করবেননা। এমন দ্বিচারিতার কারণেই আগামীতে ভরাডুবি হবে। স্থানীয় নির্বাচনেই এর প্রতিফলন ঘটবে। তবে তিনি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোসল করতে নেমে আর ফেরা হলো না, নদীতে মিলল তালিবুলের মরদেহ

সৈয়দপুরে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার

জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধী দলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে

প্রকাশিত ০৯:০৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পারোয়ার বলেছেন, জনগণের হক মেরে খাওয়ার জন্যই বিরোধী দলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে যেন, জামায়াতকে ভোট দেওয়া লোকজন এদেশের নাগরিক নন। তাই তাদের কোন অধিকার নাই। শুধু বিএনপির ভোটাররাই সরকারের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।

সেকারণে বিএনপির এমপিদের এলাকায় একের পর এক বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হলেও জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করছে সরকার। তাদের প্রাপ্য সাধারণ বরাদ্দও কাটছাট করে তা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিচ্ছে তারা। আর বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লুটেপুটে খাওয়ার নেশায় মেতে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ৪ টায় নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন তিনি। এর আগে তিনি ইউএস বাংলার একটা ফ্লাইটে সৈয়দপুরে এসে পৌঁছেন। সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমিতে অনুষ্ঠিতব্য রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক কর্মপরিষদ সদস্যের দুইদিনব্যাপী কর্মশালা উদ্বোধন করতেই তাঁর এই আগমন।

এসময় তাঁর সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও রংপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর অঞ্চল সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন, অন্যতম অঞ্চল টিম সদস্য আব্দুল হাকিম, নীলফামারী জেলা আমির ও নীলফামারী-১ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, নীলফামারী-৪ আসনের এমপি হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম।

সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, অনিয়মতান্ত্রিক কাজে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে। যে কারণে ব্যাপক অন্তঃকোন্দল দেখা দিয়েছে সরকার দলে। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনায়। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করাসহ অর্থ গ্রহণ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির নগ্ন নোংরামীও দেখা যাচ্ছে।

শুধু এই ক্ষেত্রে নয় বরং সাংবিধানিক ৮ টি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে বিএনপি সরকার চরম অনিয়ম দূর্নীতি করেছে। এভাবে সারাদেশে জেলা পরিষদ, সিটি ও পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় নেতাদের বসিয়েছে। আবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশ গ্রহণ নিয়ে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি নির্বাচন কমিশনে। একইসাথে বিভিন্ন স্থানে নিয়োগকৃত সরকার দলীয় লোকদেরও স্থানীয় নির্বাচন অংশ গ্রহণে নিষেধাজ্ঞার দাবি করেছি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে গোলাম পারোয়ার বলেন, এমপিদের যদি স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু ৭৩ অনুচ্ছেদ তাদের দলীয় প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য বাধ্য করে রেখেছে। এধরনের নিয়ম পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এজন্যই সংবিধান সংষ্কার করা দরকার। আমরা দাবিও জানিয়েছি। কিন্তু সরকার তা কোনভাবেই বাস্তবায়ন করবেনা। কারণ নিজেরা ভোট দেওয়া গণভোটই তারা মানছেন না।

সাবেক এমপি গোলাম পারোয়ার বলেন, মূলত: সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। ঐক্যমত কমিশনে সম্মত হয়েও তারা সংস্কার কমিশনই অস্বীকার করছে। অথচ একই অধ্যাদেশে নির্বাচন করে সরকার গঠন করেছেন। অর্থাৎ যেটাতে তাদের সুবিধা হবে সেটা মানবেন আর যেটা করলে দেশ ও জনগণের জন্য ভালো হবে তা করবেননা। এমন দ্বিচারিতার কারণেই আগামীতে ভরাডুবি হবে। স্থানীয় নির্বাচনেই এর প্রতিফলন ঘটবে। তবে তিনি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।