০১:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

তিস্তায় আবার পানি বৃদ্ধি, বিপদসীমার ১০সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে

তিস্তায় আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। সোমবার(২২ জুন) রাত ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার(৫২.১৫) ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টটা মনে করছেন- তিস্তা যেকোনো মুহুর্তে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এরআগে গত শনিবার (২০ ‍জুন) তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাব চৌধুরী।

এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরবেষ্টিত ফসলি জমিগুলো পুনরায় তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সর্তকীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি গতকাল রবিবার(২১ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ৫১.৯৭ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে। এ পয়েন্টে নদীর বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। আজ সোমবার(২২ জুন) সকাল ৯টায় পানি ৫১ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এদিন দুপুর ১২টায় পানি আরও দুই সেন্টিমিটার কমে ৫১.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল যা বিকাল ৩টা পর্যন্ত একই লেভেলে ছিল।

তিনি আরও জানান, মাত্র ৩ ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় ৫১.৯৮ সেন্টিমিটার (বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা আরও তিন ঘন্টায় ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৯টায় ৫২.০৫ সেন্টিমিটার (বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাত্র ছয় ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে রাত ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার(৮৫.৯৫) ৩৬ সেন্টিমিটার (৮৫.৬৯) নিচ দিয়ে এবং মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার(৬৫.৯৫) দশমিক ২০ সেন্টিমিটার (৬৬.১৫) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

এদিকে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর জন্য কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের উজান এলাকার দোমোহনী পয়েন্টে হলুদ সংকেত এবং মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢলে ৬ ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৯টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর জন্য কমলা সংকেত জারি করেছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। #

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তায় আবার পানি বৃদ্ধি, বিপদসীমার ১০সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে

তিস্তায় আবার পানি বৃদ্ধি, বিপদসীমার ১০সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে

প্রকাশিত ১০:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

তিস্তায় আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে পানি। সোমবার(২২ জুন) রাত ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার(৫২.১৫) ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টটা মনে করছেন- তিস্তা যেকোনো মুহুর্তে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এরআগে গত শনিবার (২০ ‍জুন) তিস্তার পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাব চৌধুরী।

এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরবেষ্টিত ফসলি জমিগুলো পুনরায় তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সর্তকীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি গতকাল রবিবার(২১ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় ছিল ৫১.৯৭ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে। এ পয়েন্টে নদীর বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। আজ সোমবার(২২ জুন) সকাল ৯টায় পানি ৫১ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। এদিন দুপুর ১২টায় পানি আরও দুই সেন্টিমিটার কমে ৫১.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল যা বিকাল ৩টা পর্যন্ত একই লেভেলে ছিল।

তিনি আরও জানান, মাত্র ৩ ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় ৫১.৯৮ সেন্টিমিটার (বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা আরও তিন ঘন্টায় ৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৯টায় ৫২.০৫ সেন্টিমিটার (বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাত্র ছয় ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

অপরদিকে ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে রাত ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার(৮৫.৯৫) ৩৬ সেন্টিমিটার (৮৫.৬৯) নিচ দিয়ে এবং মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার(৬৫.৯৫) দশমিক ২০ সেন্টিমিটার (৬৬.১৫) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

এদিকে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর জন্য কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের উজান এলাকার দোমোহনী পয়েন্টে হলুদ সংকেত এবং মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে কমলা সংকেত জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢলে ৬ ঘন্টার ব্যবধানে তিস্তা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে রাত ৯টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর জন্য কমলা সংকেত জারি করেছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। #