বিয়ের দিনই ভোট কিংবা ভোটের দিনেই বিয়ে। যেভাবেই কথাটা বলা হোক না কেন, দিনটি যে গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝিয়ে দিলেন নীলফামারী-০৪ আসনের সৈয়দপুর পৌরসভার এলাকার ভোটার সামিউল নামের এক যুবক। পরনে বিয়ের শেরওয়ানি, মাথায় পাগড়ি পরা ওই যুবক সপরিবারে ভোট দিয়ে ব্যাপারটি রীতিমতো উদযাপন করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলছিল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। বেলা ১২টার দিকে পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট ছিল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (বাংলা স্কুল)। এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটার ছিল ৩ হাজার ৫৩৯। ভোটকেন্দ্রে বিয়ের সাজে ভোট দেন ওই যুবক। নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনেও নাগরিক দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের মোঃ সামিউল ইসলাম (২৮)।
সৈয়দপুর উপজেলার নিয়ামতপুর সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামিউল ইসলাম মোঃ মনজুরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিয়ের দিনেও ভোট দিতে আসার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি তরুণ ও যুব সমাজের কাছে দায়িত্বশীল নাগরিকতার এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন।
ভোট দেওয়ার পর সামিউল ইসলাম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমার প্রথম ভোট ছিল ২০১৮ সালের। সেদিন প্রথম ভোট প্রদান করতে এসে জানতে পারি আমার ভোট কে বা কারা প্রদান করে চলে গেছে। হায়রে কপাল জীবনের প্রথম ভোট দিতে এসেও নিজে ভোট দিতে পারিনি। সেই ক্ষোভে ২০২৪ সালেও আর ভোটদিতে কেন্দ্রে যাইনি। তিনি বলেন অন্তর্বর্তী সরকার যখন ত্রয়োদশ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে বলেছিল বাংলাদেশের নির্বাচন এবার ইতিহাস সৃষ্টি করবে। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছি জীবনের প্রথম ভোটটি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রদান করবো ও ভোটের দিন ধুমধামে বিয়ে করে ঘরে নতুন বউ আনবো। পরিবারের সকলের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আজ আমার জীবনের স্বপ্ন পুরণ করলাম।
সামিউল আর জানান ‘ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি আমাদের দায়িত্ব। জীবনের যেকোনো ব্যস্ত সময়ে, এমনকি আজকের মতো ব্যক্তিগত আনন্দের দিনেও আমি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পেরে ধন্য মনে করছি। তাই আগে ভোট পরে বিয়ে।’ কেন্দ্রে উপস্থিত স্থানীয় ভোটার ও প্রতিবেশীরা তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘সামিউল ভাই সত্যিই অনুপ্রেরণার উদাহরণ। আজ তার মতো যুবককে দেখে আমাদেরও উৎসাহ বাড়লো, যাতে আমরা সকলে দায়িত্বের সঙ্গে ভোট দিতে আসি।’
পরে জানা গেলো। ভোট প্রদান শেষে সামিউল বরযাত্রীর বহর নিয়ে বিয়ের জন্য রংপুরের তারাগঞ্জে রওনা দেন কনের বাড়িতে।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নীলফামারীর চারটি আসনেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোট কেন্দ্রের বাইরে ছোটখাটো জটলা আর প্রার্থীদের পক্ষে-বিপক্ষে সমর্থকদের মধ্যে রসিকতা, ঠেলাঠেলি ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত নীলফামারীর ৫৬২টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট চলছিল।





















