নীলফামারী জেলা তথ্য বাতায়নের আওতাধীন ৭৭টি সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটের মধ্যে মাত্র ১৩টির তথ্য শতভাগ হালনাগাদ রয়েছে। বিপরীতে ১১টি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপোর্টালে নোটিশ বোর্ড, খবর, অফিস প্রধানের তথ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তথ্য, সেবাসমূহের তথ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিও) সংক্রান্ত তথ্য ও যোগাযোগ-এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৫০ শতাংশেরও কম তথ্য হালনাগাদ পাওয়া গেছে। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপোর্টালে কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় টিআইবির অনপ্রেরণায় গঠিত সচেত নাগরিক কমিটি কতৃক একটির পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। জেলার ওই ৭৭টি সরকারি দপ্তরের ওয়েবপোর্টাল পর্যালোচনার ফলাফল উপস্থাপনকালে জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবপোর্টালে আংশিক তথ্য থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
জেলা প্রশাসন ও টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে ওই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। টিআইবি-সনাকের পক্ষে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন টিআইবির এলাকা সম্বয়কারী মো. আসাদুজ্জামান। এসময় তিনি জানান, ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পরিচালিত জেলা তথ্য বাতায়ন পর্যবেক্ষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। সভাপতির বক্তবে তিনি বলেন, “তথ্য জানা দরকার-এটাই বড় তথ্য।” জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে যেসব তথ্য প্রকাশযোগ্য, সেসব তথ্য স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এসময়।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সাধারণ জনগণকে তথ্য জানাতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের মাধ্যমেই অপতথ্য প্রতিরোধ করা সম্ভব। সরকারি দপ্তরের ওয়েবপোর্টাল নিয়মিত হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি সনাক-টিআইবির পরিচালিত পর্যবেক্ষণে উঠে আসা সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুজহাত তাসনীম আওন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তানিয়া তাজনীন মেমী, নীলফামারী প্রেসক্লাবের যুগ্ন-সভাপতি হাসান রাব্বী প্রধান, সহকারী কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান, সনাক সভাপতি মো. আকতারুল আলম, সহসভাপতি আফরোজা বিনতে আজিজ গ্লোরী, সনাক সদস্য মো. মিজানুর রহমান লিটু, রত্না চৌধুরী ও ফওজিয়া ইয়াসমিন জলি, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. আকতারুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধি সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষে সেখানে দিবসটি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।























