০১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

সৈয়দপুরে শীষ পঁচা রোগে দুইশ’ একর জমির ইরি ধান নষ্ট, কৃষকের মাথায় হাত

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক একর জমির ইরি ধান নেক ব্লাস্ট (শীষ পঁচা) রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটা এলাকাতেই প্রায় একশ’ একর জমির ফসলে এই রোগ বেশি দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত জমির প্রায় সত্তর শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৮ কোটি টাকার ফসলহানী হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে  সরেজমিনে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল খিয়ারপাড়ায় গেলে দেখা যায়, সেখানে আলিম মাদরাসা এলাকায় বিশাল দোলা (চরা) জুড়ে ধানের আবাদ করা হয়েছে। প্রায় একশ’ একর জায়গার ধানক্ষেতগুলোর প্রতিটাই কম বেশি ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত। কোন কোন জমি শতভাগ ক্ষতিগ্রস্থ।

এসময় এলাকার মৃত মনিফুল হোসেনের ছেলে গেরস্ত কৃষক মুকুল হোসেন বলেন, বাড়ির পাশে ৫ বিঘা জমিতে প্রতিবছরের মতো এবারও ইরি ধান আবাদ করেছি। গত প্রায় ১৫ দিন হলো পুরো ক্ষেত নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ইতোপূর্বে যেখানে এই জমিতে ৩শ’ মন ইরি ধান পেয়েছি এবার সেখানে ৩০ মনও মিলবে না।

তিনি বলেন, এই আবাদ দিয়েই আমার সংসার চলে। কিন্তু এবার চরম দূরাবস্থায় পড়লাম। জানিনা এ বিপর্যয় কিভাবে কাটিয়ে উঠবো। কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টির পর এই রোগ দেখা যায়। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে এমনটা হলেও উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কোন সহযোগিতা বা পরামর্শ পাইনি। এমন বিপদে কৃষি অফিসের কেউ আসেনি।

একই এলাকার সলিম হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন বলেন, আমরা কৃষকরা কত কষ্ট করে ফসল ফলাই। অথচ আমরা কারো কোনো সহযোগিতা পাইনা। কোনদিন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের কাছে আসেন না। আমার ৫৫ শতক জমির ইরি ২৮ জাতের ধানে শীষ পঁচা রোগ দেখা দিলে দিশেহারা হয়ে পড়ি।

এমন সমস্যায় কারো পরামর্শ মেলেনি। নিজ বুদ্ধিতে কয়েকবার ওষুধ দিয়েও রক্ষা হয়নি। সম্পূর্ণ ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। পুরো দোলাতেই এভাবে শীষ পঁচে ধানগুলো পাতানে পরিণত হয়েছে। ২৮ জাতের ধানই বেশি ক্ষতি হয়েছে। অন্য জাতের ইরিও আক্রান্ত হয়েছে। এলাকার প্রায় প্রতিটা কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। সবারই মাথায় হাত।

প্রবীণ কৃষক একরামুল হক বলেন, এই শীষ পঁচা রোগের প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকেই যদি কৃষি কর্মকর্তারা এসে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সঠিক ওষুধ ব্যবহার ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতো তাহলে হয়তো এতো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হতোনা। কিন্তু বিএস’রাতো এলাকায় আসেইনা। এখন কেমন করে যে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠবো তা আল্লাহই ভালো জানেন।

উপজেলার বোতলাগাড়ী, খাতামধুপুর, বাঙ্গালীপুর, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নসহ পৌর এলাকাতেও এই নেকব্লাস্ট রোগের ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। এসব এলাকায় সব মিলে প্রায় আরও একশ’ একর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের খামাতপাড়ার কৃষক মসজিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাতেও অনেক ক্ষেতই এবার ব্লাস্ট আক্রান্ত হয়েছে।

খাতামধুপুর ইউনিয়নের শাল্টিবাড়ি এলাকার কৃষক সালাহউদ্দিন বলেন, ব্লাস্ট আক্রান্ত জমির কৃষকরা কৃষি অফিসের সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কোন কৃষকের কাছে যাননা। ফিল্ডে তাদের পাওয়াই যায়না। হাট বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রির দোকানগুলোতেই তাদের আড্ডা। তাদের ভাব এমন যে, ক্ষতি হলে কৃষকের হবে, তাতে তাদের কি!

এব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণের প্রশিক্ষণ জনিত অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্বরত অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমীন সুলতানার কাছে গেলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে কিছু জানতে হলে রোববার আসার জন্য বলেন।

অথচ ক্ষতিগ্রস্ত কামারপুকুর আইসঢাল খিয়ারপাড়া এলাকার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেরিনা আক্তারকে তার ফিল্ডেই দেখেছেন বলে সাফাই গান। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ মেরিনা আক্তার কখনই তাদের এলাকায় জাননা এবং বৃহস্পতিবারও তিনি জাননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্বামীর দেওয়া পেট্রোল আগুনে নিহত বীথি হত্যার বিচার দাবীতে সৈয়দপুরে মানববন্ধন

সৈয়দপুরে শীষ পঁচা রোগে দুইশ’ একর জমির ইরি ধান নষ্ট, কৃষকের মাথায় হাত

প্রকাশিত ১২:৫৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক একর জমির ইরি ধান নেক ব্লাস্ট (শীষ পঁচা) রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটা এলাকাতেই প্রায় একশ’ একর জমির ফসলে এই রোগ বেশি দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত জমির প্রায় সত্তর শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৮ কোটি টাকার ফসলহানী হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে  সরেজমিনে উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল খিয়ারপাড়ায় গেলে দেখা যায়, সেখানে আলিম মাদরাসা এলাকায় বিশাল দোলা (চরা) জুড়ে ধানের আবাদ করা হয়েছে। প্রায় একশ’ একর জায়গার ধানক্ষেতগুলোর প্রতিটাই কম বেশি ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত। কোন কোন জমি শতভাগ ক্ষতিগ্রস্থ।

এসময় এলাকার মৃত মনিফুল হোসেনের ছেলে গেরস্ত কৃষক মুকুল হোসেন বলেন, বাড়ির পাশে ৫ বিঘা জমিতে প্রতিবছরের মতো এবারও ইরি ধান আবাদ করেছি। গত প্রায় ১৫ দিন হলো পুরো ক্ষেত নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ইতোপূর্বে যেখানে এই জমিতে ৩শ’ মন ইরি ধান পেয়েছি এবার সেখানে ৩০ মনও মিলবে না।

তিনি বলেন, এই আবাদ দিয়েই আমার সংসার চলে। কিন্তু এবার চরম দূরাবস্থায় পড়লাম। জানিনা এ বিপর্যয় কিভাবে কাটিয়ে উঠবো। কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টির পর এই রোগ দেখা যায়। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে এমনটা হলেও উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কোন সহযোগিতা বা পরামর্শ পাইনি। এমন বিপদে কৃষি অফিসের কেউ আসেনি।

একই এলাকার সলিম হোসেনের ছেলে আরাফাত হোসেন বলেন, আমরা কৃষকরা কত কষ্ট করে ফসল ফলাই। অথচ আমরা কারো কোনো সহযোগিতা পাইনা। কোনদিন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের কাছে আসেন না। আমার ৫৫ শতক জমির ইরি ২৮ জাতের ধানে শীষ পঁচা রোগ দেখা দিলে দিশেহারা হয়ে পড়ি।

এমন সমস্যায় কারো পরামর্শ মেলেনি। নিজ বুদ্ধিতে কয়েকবার ওষুধ দিয়েও রক্ষা হয়নি। সম্পূর্ণ ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। পুরো দোলাতেই এভাবে শীষ পঁচে ধানগুলো পাতানে পরিণত হয়েছে। ২৮ জাতের ধানই বেশি ক্ষতি হয়েছে। অন্য জাতের ইরিও আক্রান্ত হয়েছে। এলাকার প্রায় প্রতিটা কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। সবারই মাথায় হাত।

প্রবীণ কৃষক একরামুল হক বলেন, এই শীষ পঁচা রোগের প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকেই যদি কৃষি কর্মকর্তারা এসে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে সঠিক ওষুধ ব্যবহার ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিতো তাহলে হয়তো এতো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হতোনা। কিন্তু বিএস’রাতো এলাকায় আসেইনা। এখন কেমন করে যে এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠবো তা আল্লাহই ভালো জানেন।

উপজেলার বোতলাগাড়ী, খাতামধুপুর, বাঙ্গালীপুর, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নসহ পৌর এলাকাতেও এই নেকব্লাস্ট রোগের ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। এসব এলাকায় সব মিলে প্রায় আরও একশ’ একর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের খামাতপাড়ার কৃষক মসজিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকাতেও অনেক ক্ষেতই এবার ব্লাস্ট আক্রান্ত হয়েছে।

খাতামধুপুর ইউনিয়নের শাল্টিবাড়ি এলাকার কৃষক সালাহউদ্দিন বলেন, ব্লাস্ট আক্রান্ত জমির কৃষকরা কৃষি অফিসের সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কোন কৃষকের কাছে যাননা। ফিল্ডে তাদের পাওয়াই যায়না। হাট বাজারের সার ও কীটনাশক বিক্রির দোকানগুলোতেই তাদের আড্ডা। তাদের ভাব এমন যে, ক্ষতি হলে কৃষকের হবে, তাতে তাদের কি!

এব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণের প্রশিক্ষণ জনিত অনুপস্থিতির কারণে দায়িত্বরত অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শারমীন সুলতানার কাছে গেলে তিনি ছুটিতে আছেন বলে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে কিছু জানতে হলে রোববার আসার জন্য বলেন।

অথচ ক্ষতিগ্রস্ত কামারপুকুর আইসঢাল খিয়ারপাড়া এলাকার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেরিনা আক্তারকে তার ফিল্ডেই দেখেছেন বলে সাফাই গান। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ মেরিনা আক্তার কখনই তাদের এলাকায় জাননা এবং বৃহস্পতিবারও তিনি জাননি।