০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নীলফামারীর জনসভায় নায়েবে আমীর আজহারুল দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখিয়ে দেশ থেকে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা ও গণভোটে হ্যাঁ সুচকের ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে জামায়াতের ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আমরা দূর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাতে চাই।

দেশে মানুষ এখন সব বুঝে গেছে। তাই এখন মানুষ কারো চোখ রাঙ্গানিকে ভয় পায় না। কোন দলের লোক কেমন। কোন দলের নেতারা কে কি করেছে। কারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওয়াদা রক্ষা করে না। কারা মানুষের হক নষ্ট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। দেশ থেকে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। এই পারিবারিক শাসন দিয়ে এদেশের জনগণের কোনো কল্যাণ হয়নি। এবিষয়গুলো এখন সকলেরই জানা। তাই মানুষকে লোভ দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার দিন শেষ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) বিকালে নীলফামারী জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জামায়াত আয়োজিত নীলফামারী-২ (সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী এ্যাড. আল ফারুক আব্দুল লতিফের পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে তারা বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়ে দেশের অর্থ পাচার করে আলিশান জীবন যাপন করছেন। তিনি বলেন, আমরা যারা জামায়াতে ইসলামী করি, আমরা কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। অথচ আমরা ফাঁসিতে ঝুলেছি তারপরও বিদেশে পালিয়ে যাইনি। কোন দেশে তারা (পতিত শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা) আশ্রয় নিয়েছে- সেই ভারত। আমাদের দেশকে আক্রমণ করতে পারে, একমাত্র ভারত।

সাবেক মন্ত্রীদের সততার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্রায় সব রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হলেও আমাদের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে একটি টাকার দুর্নীতিও কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা সেই সৎ ও যোগ্য নেতাদেরই উত্তরসূরি।

নায়েবে আমীর আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা কখনো অন্যায় দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল না আগামীতে কখনো দুর্নীতি করবেও না। দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজ অর্থ পাচারকারী আলেম-ওলামা এবং বিরোধী মতাদর্শের নেতাকর্মীদের হত্যাকারী ও ইসলাম বিরোধীদের ২৪শের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা যেভাবে বয়কট করেছে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীই জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে চাঁদাবাজ ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসর এবং সন্ত্রাসী ও জুলুমবাজদের চির জীবনের জন্য বয়কট করার আহবান জানান তিনি।

তিনি উপস্থিত জনগণের প্রতি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ ও দশের কল্যাণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে সবাইকে একই দিনে হ্যাঁ ভোট প্রদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। ‎জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী সদর আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এ্যাড. আল ফারুক আব্দুল লতিফ।

অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা আমীর ও নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, পলিটিক্যাল সেক্রেটারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সালাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা আহবায়ক আব্দুল মজিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) এজিএস ফেরদৌস আল হাসান প্রমুখ। এছাড়া চাকসু ও চকসুর নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিবৃন্দ সহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনগণের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্নের উত্তর দিলেন নীলফামারী-২ আসনের ছয় প্রার্থী

নীলফামারীর জনসভায় নায়েবে আমীর আজহারুল দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখিয়ে দেশ থেকে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে

প্রকাশিত ০২:০০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা ও গণভোটে হ্যাঁ সুচকের ভোট দেয়ার আহবান জানিয়ে জামায়াতের ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আমরা দূর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাতে চাই।

দেশে মানুষ এখন সব বুঝে গেছে। তাই এখন মানুষ কারো চোখ রাঙ্গানিকে ভয় পায় না। কোন দলের লোক কেমন। কোন দলের নেতারা কে কি করেছে। কারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওয়াদা রক্ষা করে না। কারা মানুষের হক নষ্ট করে নিজেদের আখের গুছিয়েছে। দেশ থেকে পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে। এই পারিবারিক শাসন দিয়ে এদেশের জনগণের কোনো কল্যাণ হয়নি। এবিষয়গুলো এখন সকলেরই জানা। তাই মানুষকে লোভ দেখিয়ে ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার দিন শেষ।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) বিকালে নীলফামারী জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে জামায়াত আয়োজিত নীলফামারী-২ (সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী এ্যাড. আল ফারুক আব্দুল লতিফের পক্ষে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে তারা বিদেশে বেগম পাড়া বানিয়ে দেশের অর্থ পাচার করে আলিশান জীবন যাপন করছেন। তিনি বলেন, আমরা যারা জামায়াতে ইসলামী করি, আমরা কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। অথচ আমরা ফাঁসিতে ঝুলেছি তারপরও বিদেশে পালিয়ে যাইনি। কোন দেশে তারা (পতিত শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা) আশ্রয় নিয়েছে- সেই ভারত। আমাদের দেশকে আক্রমণ করতে পারে, একমাত্র ভারত।

সাবেক মন্ত্রীদের সততার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী তিনটি মন্ত্রণালয় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন। পরবর্তী সময়ে প্রায় সব রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হলেও আমাদের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে একটি টাকার দুর্নীতিও কেউ প্রমাণ করতে পারেনি। আমরা সেই সৎ ও যোগ্য নেতাদেরই উত্তরসূরি।

নায়েবে আমীর আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা কখনো অন্যায় দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল না আগামীতে কখনো দুর্নীতি করবেও না। দুর্নীতিবাজ চাঁদাবাজ অর্থ পাচারকারী আলেম-ওলামা এবং বিরোধী মতাদর্শের নেতাকর্মীদের হত্যাকারী ও ইসলাম বিরোধীদের ২৪শের জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা যেভাবে বয়কট করেছে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীই জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে চাঁদাবাজ ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসর এবং সন্ত্রাসী ও জুলুমবাজদের চির জীবনের জন্য বয়কট করার আহবান জানান তিনি।

তিনি উপস্থিত জনগণের প্রতি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে দেশ ও দশের কল্যাণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে সবাইকে একই দিনে হ্যাঁ ভোট প্রদানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। ‎জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন নীলফামারী সদর আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এ্যাড. আল ফারুক আব্দুল লতিফ।

অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল, রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা আমীর ও নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, পলিটিক্যাল সেক্রেটারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সালাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা আহবায়ক আব্দুল মজিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) এজিএস ফেরদৌস আল হাসান প্রমুখ। এছাড়া চাকসু ও চকসুর নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিবৃন্দ সহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।