০২:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

সৈয়দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২টি ব্যাংক ভষ্মিভূত, পানির অভাবে উদ্ধার কাজ বিঘ্ন

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে আগুন লেগে একটি বহুতল ভবনে থাকা ২ টি ব্যাংকের শাখাসহ ৪ টি আধাপাকা দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। পানির অভাবে উদ্ধার কাজ ব্যহত হওয়ায় আগুন প্রায় ঘন্টাব্যাপী বহাল থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২ টার সময় শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির অফিসের বিপরীত পাশে একটি লেপ তোষকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তুলা ও কাপড়ের মত দায্য পদার্থ থাকায় মূহুর্তে তা ভয়াবহ রুপ নেয়। এসময় খবর পেয়ে সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি এসে পৌঁছলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে উদ্ধার কাজ থমকে যায়।

পরে রংপুরের তারাগঞ্জ, দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও ৩টি ইউনিট আসে। দমকল বাহিনী ও সাধারণ মানুষ যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে এক ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুরো সড়ক জুড়ে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।

এর মধ্যে আগুনে ফেরদৌস কটন হাউজ, আকবর কটন সপের টিনসেট আধাপাকা দোকানের মালামালসহ সর্বস্ব পুড়ে যায়। আর উত্তর পাশের রাজা বেডিং স্টোর ও একরামুল হক কটন সপের মালামাল সরানো সম্ভব হলেও রাস্তায় রাখায় উপচেপড়া মানুষের পায়ের চাপায় নষ্ট হয়েছে। দোকানের এই আগুনের লেলিহান শিখায় পাশেই থাকা ৬ তলা ভবনে (গৌরি প্লাজা) ছড়িয়ে পড়ে।

এতে ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা ঢাকা ব্যাংকের শাখায় ও তৃতীয় তলায় ঢাকা মার্কেন্টাইল এন্ড কো-অপারেটিভ ব্যাংকের শাখায় লাগে। এসময় পানি না থাকায় ব্যাংক দুটিতেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে সব পুড়ে যায়। এখন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে নিচ তলায় থাকা বেস্ট বাই শোরুম অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

আগুনের সূত্রপাত নিয়ে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকবর কটন সপের পিছন থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুন্ডলি দেখতে পাওয়া যায়। যা দ্রুত ভয়ংকর হয়ে উঠে। লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আসলেও পানির অভাবে আগুন নেভাতে চরম বেগ পেতে হয়। ওই সড়কের আশপাশসহ সবগুলো সড়ক তথা পুরো বাণিজ্যিক এরিয়ার কোথাও পানির উৎস নেই।

তাদের অভিযোগ সৈয়দপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড যেমন মানা হয়না, তেমনি রেলওয়ের যে পানির হাউজগুলো ছিল তা দখল করেও বহুতল ভবন করা হয়েছে। একারণে পানির উৎসশুন্য হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকা। পৌর প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ উপজেলা কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে নির্বিকার। যে কারণে এই মার্কেট এলাকায় এই নিয়ে ৪ বার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা ব্যাংক সৈয়দপুর শাখা ম্যানেজার (এসএভিপি) সালাহ উদ্দিন খান বলেন, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ডেকোরেশনসহ, কম্পিউটার, এসি, মানি কাউন্ট মেশিন ও ভল্টসহ সর্বস্বই পুড়ে গেছে। বাইরে সাইনবোর্ড ও বিদ্যুতের ওয়ারিংও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু হাশেম বলেন, প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরুপন করা যায়নি। তবে ২ টি দোকান সম্পূর্ণভাবে, ২ টি আংশিক এবং ব্যাংকের শাখা দুটির ভিতরের সবই ভস্ম হয়েছে। পানি সংকটের কারণে এত ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে।

ডোমারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন: সন্তোষী মুড়ি মিলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

সৈয়দপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২টি ব্যাংক ভষ্মিভূত, পানির অভাবে উদ্ধার কাজ বিঘ্ন

প্রকাশিত ০৩:৫৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে আগুন লেগে একটি বহুতল ভবনে থাকা ২ টি ব্যাংকের শাখাসহ ৪ টি আধাপাকা দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। পানির অভাবে উদ্ধার কাজ ব্যহত হওয়ায় আগুন প্রায় ঘন্টাব্যাপী বহাল থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার (২ মার্চ) বেলা ১২ টার সময় শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির অফিসের বিপরীত পাশে একটি লেপ তোষকের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তুলা ও কাপড়ের মত দায্য পদার্থ থাকায় মূহুর্তে তা ভয়াবহ রুপ নেয়। এসময় খবর পেয়ে সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি গাড়ি এসে পৌঁছলেও পর্যাপ্ত পানির অভাবে উদ্ধার কাজ থমকে যায়।

পরে রংপুরের তারাগঞ্জ, দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেড থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও ৩টি ইউনিট আসে। দমকল বাহিনী ও সাধারণ মানুষ যৌথভাবে চেষ্টা চালিয়ে এক ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় পুরো সড়ক জুড়ে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।

এর মধ্যে আগুনে ফেরদৌস কটন হাউজ, আকবর কটন সপের টিনসেট আধাপাকা দোকানের মালামালসহ সর্বস্ব পুড়ে যায়। আর উত্তর পাশের রাজা বেডিং স্টোর ও একরামুল হক কটন সপের মালামাল সরানো সম্ভব হলেও রাস্তায় রাখায় উপচেপড়া মানুষের পায়ের চাপায় নষ্ট হয়েছে। দোকানের এই আগুনের লেলিহান শিখায় পাশেই থাকা ৬ তলা ভবনে (গৌরি প্লাজা) ছড়িয়ে পড়ে।

এতে ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা ঢাকা ব্যাংকের শাখায় ও তৃতীয় তলায় ঢাকা মার্কেন্টাইল এন্ড কো-অপারেটিভ ব্যাংকের শাখায় লাগে। এসময় পানি না থাকায় ব্যাংক দুটিতেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে সব পুড়ে যায়। এখন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে নিচ তলায় থাকা বেস্ট বাই শোরুম অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।

আগুনের সূত্রপাত নিয়ে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকবর কটন সপের পিছন থেকে আগুন ও ধোঁয়ার কুন্ডলি দেখতে পাওয়া যায়। যা দ্রুত ভয়ংকর হয়ে উঠে। লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আসলেও পানির অভাবে আগুন নেভাতে চরম বেগ পেতে হয়। ওই সড়কের আশপাশসহ সবগুলো সড়ক তথা পুরো বাণিজ্যিক এরিয়ার কোথাও পানির উৎস নেই।

তাদের অভিযোগ সৈয়দপুরে বহুতল ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড যেমন মানা হয়না, তেমনি রেলওয়ের যে পানির হাউজগুলো ছিল তা দখল করেও বহুতল ভবন করা হয়েছে। একারণে পানির উৎসশুন্য হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকা। পৌর প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ উপজেলা কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে নির্বিকার। যে কারণে এই মার্কেট এলাকায় এই নিয়ে ৪ বার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা ব্যাংক সৈয়দপুর শাখা ম্যানেজার (এসএভিপি) সালাহ উদ্দিন খান বলেন, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে ডেকোরেশনসহ, কম্পিউটার, এসি, মানি কাউন্ট মেশিন ও ভল্টসহ সর্বস্বই পুড়ে গেছে। বাইরে সাইনবোর্ড ও বিদ্যুতের ওয়ারিংও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু হাশেম বলেন, প্রায় ২ ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরুপন করা যায়নি। তবে ২ টি দোকান সম্পূর্ণভাবে, ২ টি আংশিক এবং ব্যাংকের শাখা দুটির ভিতরের সবই ভস্ম হয়েছে। পানি সংকটের কারণে এত ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে।