০২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

সৈয়দপুরে বাজারের সরকারী জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ, প্রশাসন নির্বিকার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাজারের সরকারী জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এক জায়গাতেই একাধিক ভবন তৈরী করা হলেও নির্বিকার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। ফলে কোন রকম বাধা না থাকায় তাদের দেখে অন্যরাও দখলে উদ্বুদ্ধ হওয়াসহ ভবন নির্মাণে ঝুঁকে পড়েছে। সচেতন এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলেও থামছেনা এই অবৈধ কারবার। তাদের অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এভাবে সরকারী সম্পত্তিতে বেআইনী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া বাজার এলাকায় গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের পশ্চিম পাশের সরকারী (খাস) জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণ করছেন ওই বাজারের সাবেক ইজারাদার মৃত. জিকরুল হকের ছেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী বুলবুল। একইসাথে পলাশ নামে আরেক ব্যবসায়ী বিশাল জায়গা দখল করে আরেকটি স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছেন। আর বাজারের মাছের দোকানের সেডের দেওয়াল দখল করে ঘিরছেন গৌতম নামে একজন। আজ রোববার (১ মার্চ) দুপুরেও গিয়ে দেখা যায় তাদের কাজ অব্যাহত আছে।

বাজারের জায়গায় আরসিসি পিলার ও ছাদ পিটানো ঘর করার ব্যাপারে জানতে চাইলে বুলবুল বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে ওই জায়গাসহ তিনটি দোকান লীজ নিয়ে ব্যবসা করে আসছি। এবারও দোকানগুলো বরাদ্দ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছি। এ সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আসার কথা। সেই চিঠির বলেই মূলত: আমরা পাকা স্থাপনা তৈরী করছি। এক্ষেত্রে ওয়ার্ড মেম্বার, চেয়ারম্যান বা তহশিলদারের অনুমতির প্রয়োজন নেই।

তাছাড়া এভাবেই বাজারে অনেক দোকান গড়ে উঠেছে। সেগুলো যদি অবৈধ না হয় তাহলে আমারটা কেন অবৈধ হবে। যদি অবৈধই হয় তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু গত একমাস যাবত ঘরটি তৈরীর কাজ চলছে, কেউ তো আসেনি বাধা দিতে। কর্তৃপক্ষের নলেজে দিয়েই এই কাজ করা হচ্ছে। ঘরটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তা সংস্কার করতেই আরসিসি পিলার ও ছাদ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। আমার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এটি করেছি।

পলাশ রায়ের বিশাল জায়গায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী জানান, সরকারী জমিতে বাড়ি করা যাবেনা এমনতো নয়। বরং যদি নিষেধ থাকতো তাহলে তো বাজারে আরও যে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে তা হতোনা। প্রশাসন এসেই বাধা দিয়ে বন্ধ করে দিতো অথবা আইনগত ব্যবস্থা নিতো। কিন্তু কেউ তো আসেনি এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে। সাংবাদিকদের এখানে কি?

মাছ বাজারের সেডের দেওয়াল দখল করে প্রাচীর তৈরীকারী গৌতম রায়কেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার ছেলে জানান, সেডটি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। এখানে মাদকাসক্তদের উপদ্রব হয়। তাই বাড়ির নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সেডের দেওয়ালেই ইট দিয়ে গেথে প্রাচীর করেছি। এতে কী সমস্যা? মেম্বার চেয়ারম্যান, বাজারের ইজারাদারসহ এলাকার সবাই জানে। তাদের কোন সমস্যা হয়না, শুধু সাংবাদিকদেরই যত আপত্তি।

এ ব্যাপারে কাশিরাম বেলপুক্রু ইউনিয়নের তহশীলদার তাবাস্সুম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে আসতে বলেছি এবং যথানিয়মে এসিল্যান্ড স্যারকেও রিপোর্ট করেছি। টাকার বিনিময়ে মৌখিকভাবে এসব কাজ করার অনুমতি দেওয়ার অভিযেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ এমন করেই বলে। আসলে এরকম কিছু নয়। বরং কাজ বন্ধ করার জন্য উধর্¦তন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় আছি। প্রয়োজনে নোটিশ দিয়ে এবং মামলা করার মত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর বদলী জনিত অনুপস্থিতির কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহা ফাতেমা তাকমিলার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিষয়

ডোমারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন: সন্তোষী মুড়ি মিলকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

সৈয়দপুরে বাজারের সরকারী জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ, প্রশাসন নির্বিকার

প্রকাশিত ০৩:৫৩:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাজারের সরকারী জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এক জায়গাতেই একাধিক ভবন তৈরী করা হলেও নির্বিকার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। ফলে কোন রকম বাধা না থাকায় তাদের দেখে অন্যরাও দখলে উদ্বুদ্ধ হওয়াসহ ভবন নির্মাণে ঝুঁকে পড়েছে। সচেতন এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলেও থামছেনা এই অবৈধ কারবার। তাদের অভিযোগ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এভাবে সরকারী সম্পত্তিতে বেআইনী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া বাজার এলাকায় গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের পশ্চিম পাশের সরকারী (খাস) জমিতে একটি দোকানঘর নির্মাণ করছেন ওই বাজারের সাবেক ইজারাদার মৃত. জিকরুল হকের ছেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী বুলবুল। একইসাথে পলাশ নামে আরেক ব্যবসায়ী বিশাল জায়গা দখল করে আরেকটি স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করছেন। আর বাজারের মাছের দোকানের সেডের দেওয়াল দখল করে ঘিরছেন গৌতম নামে একজন। আজ রোববার (১ মার্চ) দুপুরেও গিয়ে দেখা যায় তাদের কাজ অব্যাহত আছে।

বাজারের জায়গায় আরসিসি পিলার ও ছাদ পিটানো ঘর করার ব্যাপারে জানতে চাইলে বুলবুল বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে ওই জায়গাসহ তিনটি দোকান লীজ নিয়ে ব্যবসা করে আসছি। এবারও দোকানগুলো বরাদ্দ নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেছি। এ সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আসার কথা। সেই চিঠির বলেই মূলত: আমরা পাকা স্থাপনা তৈরী করছি। এক্ষেত্রে ওয়ার্ড মেম্বার, চেয়ারম্যান বা তহশিলদারের অনুমতির প্রয়োজন নেই।

তাছাড়া এভাবেই বাজারে অনেক দোকান গড়ে উঠেছে। সেগুলো যদি অবৈধ না হয় তাহলে আমারটা কেন অবৈধ হবে। যদি অবৈধই হয় তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু গত একমাস যাবত ঘরটি তৈরীর কাজ চলছে, কেউ তো আসেনি বাধা দিতে। কর্তৃপক্ষের নলেজে দিয়েই এই কাজ করা হচ্ছে। ঘরটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তা সংস্কার করতেই আরসিসি পিলার ও ছাদ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। আমার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই এটি করেছি।

পলাশ রায়ের বিশাল জায়গায় স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে তার দেখা পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী জানান, সরকারী জমিতে বাড়ি করা যাবেনা এমনতো নয়। বরং যদি নিষেধ থাকতো তাহলে তো বাজারে আরও যে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে তা হতোনা। প্রশাসন এসেই বাধা দিয়ে বন্ধ করে দিতো অথবা আইনগত ব্যবস্থা নিতো। কিন্তু কেউ তো আসেনি এব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিতে। সাংবাদিকদের এখানে কি?

মাছ বাজারের সেডের দেওয়াল দখল করে প্রাচীর তৈরীকারী গৌতম রায়কেও বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার ছেলে জানান, সেডটি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। এখানে মাদকাসক্তদের উপদ্রব হয়। তাই বাড়ির নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সেডের দেওয়ালেই ইট দিয়ে গেথে প্রাচীর করেছি। এতে কী সমস্যা? মেম্বার চেয়ারম্যান, বাজারের ইজারাদারসহ এলাকার সবাই জানে। তাদের কোন সমস্যা হয়না, শুধু সাংবাদিকদেরই যত আপত্তি।

এ ব্যাপারে কাশিরাম বেলপুক্রু ইউনিয়নের তহশীলদার তাবাস্সুম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে আসতে বলেছি এবং যথানিয়মে এসিল্যান্ড স্যারকেও রিপোর্ট করেছি। টাকার বিনিময়ে মৌখিকভাবে এসব কাজ করার অনুমতি দেওয়ার অভিযেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ এমন করেই বলে। আসলে এরকম কিছু নয়। বরং কাজ বন্ধ করার জন্য উধর্¦তন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষায় আছি। প্রয়োজনে নোটিশ দিয়ে এবং মামলা করার মত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর বদলী জনিত অনুপস্থিতির কারণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহা ফাতেমা তাকমিলার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।