ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারে শেষদিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) নীলফামারী ৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রিয়াদ আরফান সরকার রানা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুল সরকার। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রিয়াদ আরফান সরকার রানা স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচন করার ঘোষনা দিয়েছেন।
দলীয় সুত্রমতে, রিয়াদ আরফান সরকার ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে ভোট করেন। এজন্য দলীয় হাইকমান্ড তাকে দল থেকে বহিস্কার করেছিলেন। তবে সেই নির্বাচনে তিনি জয়ীও হন।
সম্প্রতি এক সিদ্ধান্তে দলের হাই কমান্ড রিয়াদ আরফান সরকারের বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে সাধারণ সদস্য পদ ফিরিয়ে দেয়। তবে এজন্য দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার অঙ্গিকার করে মুচলেকা দিতে হয়েছিল তাকে। এরপরের তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন স্বতন্ত্র হিসাবে।
এদিকে নীলফামারীর ৪টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২টি আসন থেকে মোট ৪ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) নীলফামারী ১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে দুইজন রফিকুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) ও সাদ্দাম হোসেন (খেলাফত মজলিশ) এবং নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে দুইজন নূর মোহাম্মদ (এলডিপি) ও স্বতন্ত্র জাতীয়পার্টির (বিদ্রোহী) জয়নাল আবেদীন মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন ।
এদিকে তফসিল অনুযায়ী বুধবার (২১ জানুয়ারী) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা রির্টানীং অফিসার প্রার্থীদের হাতে হাতে প্রতিক বরাদ্দের পত্র প্রদান করেন।
জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার ওই চার প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রইলেন ২৭ জন। আজ বুধবার তাদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ পত্র প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অবাধ নিরপক্ষ ও শান্তিপূণ ভাবে অনুষ্ঠিত হয় তার জন্য সহযোগীতা কামনা করেন তিনি। এ সময় প্রার্থীরা সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন।
২৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে আট জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন বিএনপি জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশে মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি (খেজুরগাছ), জামায়াতের অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয়পাটির মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম (টেলিফোন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল জলিল (হাতপাখা), বাসদ (মাকর্সবাদী) মো. রফিকুল ইসলাম(কাঁচি), জেপির মো. মখদুম আজম মাশরাফী (বাইসাইকেল) ও ন্যাপের জেবেল রহমান গানি(গাভী)।
নীলফামারী-২ (সদর) আসনে ৬ জন প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা হলেন বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন (ধানের শীষ), জামায়াতের এ্যাড. আল ফারুক আব্দুল লতীফ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাসিবুল ইসলাম (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের সারোয়ারুল আলম বাবু (দেয়াল ঘড়ি) বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট (বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম (টেলিফোন) ও স্বতন্ত্র মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ (ফুটবল)।
নীলফামারী ৩ (জলঢাকা) আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা হলেন বিএনপির সৈয়দ আলী (ধানের শীষ), জামায়াতের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির রোহান চৌধুরী(লাঙ্গল) ও ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেন সরকার (হাতপাখা) ।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ৯ জন প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা হলেন বিএনপির মো. আব্দুল গফুর সরকার (ধানের শীষ), জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শহিদুল ইসলাম (হাতপাখা), জাতীয়পার্টির মো. সিদ্দিকুল আলম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন (কাঁঠাল), বাসদ মার্কসবাদীর মাইদুল ইসলাম (কাচি), স্বতন্ত্র তিন প্রার্থীদের মধ্যে (বিএনপির বিদ্রোহী) রিয়াদ আরফান সরকার (ফুটবল), এস,এম,মামুনুর রশিদ (মোটরসাইকেল) ও জোয়াদুর রহমান হীরা (ঘোড়া)।






















