ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ সিদ্দিকুল আলমের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে। একই আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার এই আপিল করেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারী) ইসির ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারী করা হয়েছে। যা জেলা রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিস্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় জানা যায়, আগামী ১৭ জানুয়ারী আপিলের শুনানী অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে।
এ ব্যাপারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ¦ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, জাপা প্রার্থী তার হলফ নামায় গত ৫ আগস্টের পর ঢাকার ৪ টি থানায় হওয়া মামলার তথ্য গোপন করেছেন। এনিয়ে আমরা জেলা রিটানির্ং অফিসারের কাছে মনোনয়ন যাচাইয়ের দিন অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ভ্রুক্ষেপ করেননি। তাই বাধ্য হয়ে ইসিতে আপিল করেছি। তাছাড়া সিদ্দিকুল আলম বিগত ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিল। তাই তার মনোনয়ন বাতিল হওয়া উচিত। আশা করি আগামী ১৭ জানুয়ারী তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা হবে।
জাপা প্রার্থী আলহাজ¦ সিদ্দিকুল আলম বলেন, বিএনপি প্রার্থী আমার বিজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে ষড়যন্ত্র করছেন। আমি হলফনামায় জ্ঞাত সকল বিষয়ই উল্লেখ করেছি। শুধু আমার অজান্তে হওয়া একটি মামলার কোন তথ্য পুলিশ রেকর্ডে না পাওয়ায় সে সংক্রান্ত তথ্য সংযোজন করা হয়নি। তবে পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও মামলার বাদির মাধ্যমে আদালতেই করা এভিডেভিট জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। তাই আশা করি শুনানীতে আমার মনোনয়ন বৈধ হিসেবেই গৃহিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি বিগত দ্বাদশ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি হয়েছিলাম। আওয়ামীলীগ বা জাতীয় পার্টির ছিলামনা। আমি কোন দখলবাজী, চাঁদাবাজির সাথে কখনই জড়িত হইনি। তাহলে কেন আমার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলা হবে। বরং আমার ছেলে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছিল এবং আমার পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে।
মূলত: ওই মামলাটিও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ইন্ধনেই আমার নামে করা হয়েছে। আমি নির্বাচন করবো এবং বিজয়ী হবো এই আশঙ্কাতেই তাদের এমন ষড়যন্ত্র। তাদের কোন ষড়যন্ত্রই আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবেনা ইনশাআল্লাহ। যদিও পুরো ইসিতে বিএনপি’র একটা প্যানেল বসানো হয়েছে। যারা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কৌশলে বাতিল করে দিয়েছে। এজন্যই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী না হয়ে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়েছি। কোন কারণে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হলে জাতীয় পার্টিই নির্বাচন বয়কট করবে।
বিষয়টি নিয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন জানান, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইসির ওয়েবসাইটে দেখেছি। কিন্তু কোন হার্ডকপি এখনও আমার হস্তগত হয়নি। আর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা লুৎফুল কবির সরকারের মন্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি জানান, এ সংক্রান্ত চিঠি আমি পেয়েছি। শুনানী যেহেতু ইসির সচিবালয়ে হবে তাই প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে সেখানেই নির্দিষ্ট তারিখে উপস্থিত হতে হবে।
উল্লেখ্য, জাপা প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের নামে ২০২৪ সালে আগষ্ট মাসেই ঢাকার সূত্রাপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই এলাকার যুবদলের এক নেতা এই মামলাটি করেছেন।























