নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার রিপন মিয়া নামক অত্যাচারিত এক দাদন ব্যবসায়ীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ওই ভুক্তভোগীরা।
শনিবার দুপুরে নীলফামারী প্রেসক্লাবে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভাপতি মো. রশিদুল ইসলাম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কাশেম, পল্লী চিকিৎসক মো. গাউসুল আজম, মাদ্রাসা শিক্ষক মো. আফজালুল হক, কলেজ শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে রনচন্ডী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি দাদন ব্যবসায়ী রিপন মিয়ার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম। এর বিপরীতে তাকে চেক বইয়ের ফাঁকা ২০টি পাতা দিতে হয়েছে। টাকা পরিশোধ করার পরেও তিনি আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। এখনো তার কাছে আমার চেক বইয়ের ১৬টি পাতা জমা আছে। মূল টাকার সঙ্গে উচ্চহারে সুদ দিয়েও আমাকে হয়রানি করছেন তিনি।’
অবসরপ্রাপ্ত সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমি রিপন মিয়ার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম। সুদসহ আমি তাকে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। তিনি চেক বইয়ের দুটি পাতা নিলেও একটির বিপরীতে ১৬ লাখ টাকা এবং অপরটির বিপরীতে ১৪ লাখ টাকার মামলা করেছেন।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রিপন মিয়া কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দুরাকুটি গ্রামের বাসিন্দা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের সদস্য। রাজনৈতিক মামলায় আট মাস কারাভোগ করেছেন তিনি। উচ্চ সুদে টাকা ধার দিয়ে তা আদায়ের পরেও শতাধিক মামলা করেছেন তিনি। এসব মামলা তার আপন ভাই, ভগ্নিপতি, শ্যালক, শ্যালিকা, শ্যালকের ছেলে ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের দিয়ে করা হয়ে থাকে।’
কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘রিপন মিয়ার দাদন ব্যবসার কারণে নিজ উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার অনেক মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছেন। অনেকে জমিজমা ও বসতভিটা হারিয়েছেন। এমনকি তার কারণে অনেক পরিবারে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাও ঘটেছে। তার অত্যাচারে অনেক মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রিপন মিয়ার গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আদালতে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’














