আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি আসনের মধ্যে নীলফামারী-১ (ডোমার- ডিমলা) আসনে এবার বিএনপির ধানের শীষের কোন প্রার্থী দেয়া হয়নি। এই আসনে বিএনপির জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহসচিব মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি (খেজুরগাছ)।
তিনি ওই আসনের ডোমার উপজেলার সোনারায় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সেখানে বিএনপি প্রার্থী না দেয়ায় ওই এলাকার নেতাকর্মীরা বিএনপির জোটের প্রার্থীকে মেনে নিতে পারছেননা। তবে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশে নীলফামারী জেলা বিএনপি ওই আসনের সকল দলীয় নেতাকর্মীতে ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপির জোটের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের প্রচার প্রচারনায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারী) দুপুরে এ ব্যাপারে কথা বলা হলে নীলফামারী জেলা বিএনপির আহবায়ক মীর সেলিম ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের উর্ধ্বে আমরা কেউ নই। বিএনপির জোটের শরিকরা আমাদেরই একটি অংশ। সেখানে বিএনপি দলীয় প্রার্থী না থাকলে জোটের প্রার্থীকে সমর্থক দেয়া যাবে না এমনটি যেন না হয়। সে জন্য আমরা কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের নির্দেশে পত্রের মাধ্যমে ওই এলাকার বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহসচিব মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি (খেজুরগাছ) পক্ষে নির্বাচনে সমর্থন এবং নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে আহবান জানিয়ে পত্র প্রদান করেছি। এ কারনে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) রাতে একট চিঠি ইস্যু করা হয়।
দেখা যায় ওই পত্রে নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক ও সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল স্বাক্ষরে ডোমার ও ডিমলা উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্দেশিত পত্রে বলা হয়েছে, আপনারা অবগত আছেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জোটগত ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আপনারা আরও অবগত আছেন, আপনাদের নির্বাচনি এলাকা সংসদীয় আসন ১২, নীলফামারী ১ (ডোমার-ডিমলা) আসনটি জোট প্রার্থী জনাব মওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি সাহেব খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এই মুহূর্তে দেশ এবং জোটের স্বার্থে সব কিছুর ঊর্ধ্বে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অতীব জরুরি, অতএব, এই পত্র দ্বারা আপনাদের জোট প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
ওই পত্রে উল্লেখ্য, করা হয় যে নীলফামারী ১ (ডোমার-ডিমলা) এই আসনে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সেন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনকে মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোাষ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নেন প্রয়াত খালেদা জিয়ার বড় বোন সেলিনা ইসলামের স্বামী ও ইঞ্জিনিয়ার তুহিনের বাবা ভগ্নিপতি ড. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। তবে তিনি তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন।

























