আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী নীলফামারী জেলার চারটি আসনের বৈধ চুড়ান্ত প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারী) জেলা রির্টানীং অফিসার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান এই তালিকা প্রকাশ করেন। প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী চারটি আসনে মোট প্রার্থী ৩০ জন। এর মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে ১০ জন, নীলফামারী-২ আসনে ৬ জন, নীলফামারী-৩ আসনে ৩ জন ও নীলফামারী-৪ আসনে ১১ জন। তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন রয়েছে। এরপর বুধবার (২১ জানুয়ারী) প্রার্থীদের প্রতিক বরাদ্দ এবং বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারী) থেকে প্রচার প্রচারনায় মাঠে নামবেন প্রার্থীরা।
উল্লেখ যে, এই চারটি আসনে ৪৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে ৩৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই বাছাই ও আপিল শেষে ৩০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধতা পেয়েছে।
নীলফামারী-১
ডোমার উপজেলায় ১০ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং ডিমলা উপজেলার ১০ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নীলফামারী-১ আসন। এই আসনে ১০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। জেলা রির্টানীং অফিসার যাচাই বাছাইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে তার মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষনা করা হয়। এই আসনের প্রার্থীরা হলেন, জামায়াতের অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার, বিএনপি জোটের শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল জলিল, জাতীয়পাটির মেজর (অব.) তছলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট(বিএনএফ) সিরাজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিশের মো. সাদ্দাম হোসেন, বাসদ (মাকর্সবাদী) মো. রফিকুল ইসলাম, জেপির (মঞ্জু) মো. মখদুম আজম মাশরাফী, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।
নীলফামারী-২
জেলা সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে নীলফামারী-২ আসন গঠিত। এই আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। এর মধ্যে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আপিল করে বৈধতা পেয়েছেন। ফলে এই আসনে ৬ জন প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, জামায়াতের এ্যাড. আল ফারুক আব্দুল লতীফ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাসিবুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সারোয়ারুল আলম বাবু, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ফ্রন্ট বিএনএফের সিরাজুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ।
নীলফামারী-৩
একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৩ জলঢাকা আসন। এই আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রোহান চৌধুরী ও ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ে বাতিল হয়েছিল। তারা দুইজনেই নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। এতে শুধু মাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ্যতা পায়। ফলে এই আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির সৈয়দ আলী, জামায়াতের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী ও ইসলামী আন্দোলনের আমজাদ হোসেন (সরকার)।
নীলফামারী-৪
সৈয়দপুর উপজেলার ৫ ইউনিয়ন একটি পৌরসভা, একটি ক্যান্টনম্যান্ট বোর্ড ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসন। এই আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই বাছাইয়ে চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছিল। আপিলে তিনজন প্রার্থী বৈধতা পেলে এই আসনে এখন ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দীতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির মো. আব্দুল গফুর সরকার, জামায়াতের আব্দুল মুনতাকিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শহিদুল ইসলাম, জাতীয়পার্টির দুইজন মো. সিদ্দিকুল আলম এবং মো. জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মির্জা মো. শওকত আকবর রওশন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নুর মোহাম্মদ, বাসদ মার্কসবাদীর মাইদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র এস,এম মামুনুর রশিদ, জোবায়দুর রহমান হীরা ও রিয়াদ আরফান সরকার।























