সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই কার্যক্রমে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নীলফামারীতে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। জেলার সদর উপজেলার গোড়গ্রাম ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ডের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ বাজারের বকুলতলা মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা ওয়াদুদ ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, আবুল কালাম, আব্দুস সোবহান, জিকরুল ইসলাম, মশিউর রহমান ও মমিনুল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবার চিহ্নিত করার জন্য তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এ ধরনের নিয়োগের ফলে পুরো কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো তথ্যভিত্তিকভাবে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় পরিবার চিহ্নিত করে তাদের সামাজিক সহায়তার আওতায় আনা। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি গাইডলাইনেও মাঠপর্যায়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ, পিএমটি ফরম পূরণ ও প্রাথমিক যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেয়েছেন। এখন তাদের ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হলে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তাদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রকৃত দরিদ্রদের পরিবর্তে পছন্দের ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করার সুযোগ তৈরি হলে সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। ফলে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থকদের সুবিধা দেওয়ার কর্মসূচি নয়; এটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার।’ তাই তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের দায়িত্বে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।
মানববন্ধন থেকে গোড়গ্রাম ইউনিয়নে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিষয়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ বাতিল করে নতুন করে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান বক্তারা।
তারা বলেন, দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ইউনিয়নবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহ ও প্রাথমিক যাচাইয়ের পর ইউনিয়ন/পৌর পর্যায়ে তথ্য যাচাই এবং উপজেলা পর্যায়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে গোড়গ্রাম ইউনিয়নে যাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয়ের অভিযোগ উঠেছে, তাদের নিয়োগের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।















