০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

সৈয়দপুরে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে জাল দলিলে রেকর্ড করে জমি দখল-বাড়ি নির্মাণ, প্রতিবাদ করায় মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সরকার কবির উদ্দিন ইউনুসের বিরুদ্ধে জাল দলিল দিয়ে বিএস রেকর্ড করে জমি দখল ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ করেছে একটা অসহায় পরিবার।

ক্ষমতার দাপটে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নানাভাবে নির্যাতন করাসহ একের পর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে এবং অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে হেয় করে যাচ্ছে। এমনকি চব্বিশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও নাশকতা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এখনও নানা হুমকি দিয়ে চলেছে।

সৈয়দপুর পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ী শহীদ মাহাতাব বেগ রোডের বাসিন্দা মৃত মঈন উদ্দিন মিয়ার ছেলে মো. শাহাব উদ্দিন সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২ টায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে উপরোক্ত অভিযোগ লিখিতভাবে তুলে ধরেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন তার মোছা. স্ত্রী সালমা খাতুন, বড় বোন মাজেদা খাতুন ও সাহেরা খাতুন, বর ভাই জামিল হোসেন, প্রতিবেশী ইকবাল ও টুলু, বন্ধু আবিদ হোসেন, সাহিদ, সোনু ও কালামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

প্রেস ব্রিফিং এ শাহাব উদ্দিন বলেন, আমাদের এই বাড়িতে ১৯৮৬ সালে আমার বাবা মা আসেন। এর আগে থেকেই পাশের বাড়িতে আমার নানা জুম্মন মিয়া বসবাস করতেন। তিনি ১৯৬৫ সালে এস এ রেকর্ড মালিক ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে সিএস ৪০৩৫ ও এসএ ৪৩৬৮ দাগে ১৪ শতক জমি কিনে পৌরসভা থেকে নকশা পাস করিয়ে বাড়িটা করেছেন। নানার দুই সন্তান আমার মা মাহমুদা বেগম ও মামা মুসলিম মিয়া। নানা মারা যাওয়ার পর ১৯৯৮ সালে মামা নিজের অংশসহ সম্পূর্ণ বাড়ি আমার মাকে দিয়ে স্বপরিবারে পাকিস্তান চলে যান।

ওই বছরই ১৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর সরকার কবির উদ্দিন ইউনুস আমাদের (নানার) বাড়িতে ভাড়াটিয়া হয়ে আসেন। তিনি প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা ভাড়া দিতেন। ২০০৫ সালে আমরা স্বপরিবারে ভাগ্নির বিয়ে উপলক্ষে রংপুরে গেলে বাড়ির তালা ও আলমিরার তালা ভেঙ্গে আমাদের সব দলিলপত্র চুরি করেন ইউনুস কবির। তখন থেকে ভাড়া দেওয়াও বন্ধ করে দেন এবং দলীয় ক্ষমতার জোরে বাড়িটা দখল করেন। পরে ভূমি অফিসের লোকদের সাথে যোগসাজশে অন্য খতিয়ানের দাগ দিয়ে ৪৪২৯ নং দাগের আমার নানা জুম্মন মিয়ার ১৩ শতক জমি জাল দলিলে নিজ নামে বিএস রেকর্ড করে নিয়েছেন।

অন্যদিকে আমার বাবার এই বাড়ির মালিক ছিলেন মোছা. সোগরা বিবি। তিনি ১৯৬৭ সালে ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে সিএস ৪০৩৫, এসএ ৪৩৬৮ দাগে ৪ শতক এবং এসএ ৪৪৩০ দাগের পৌনে ২ শতক জমি কিনে ১৯৬৮ সালে পৌরসভার নকশা পাস করিয়ে বাড়িটা তৈরি করেন। পরে ১৯৭৮ সালে এসএ ৪৩৬৮ ও ৪৪৩০ দাগের মোট পৌনে ৬ শতক জমি জয়গুন নেছার কাছে হস্তান্তর করেন এবং জয়গুন নেছা ১৯৮৬ সালে প্রনব কুমার দাসের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই বছরই আমরা এই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হয়ে আসি।

এরপর ১৯৮৭ সালে প্রনব কুমার দাস আমার বাবার কাছে পৌনে ৬ শতক জমিসহ বাড়িটা বিক্রির প্রস্তাব করেন। তখন একজন আমিন দিয়ে জমিটা মাপজোখ করলে দেখা যায় ৪৩৬৮ দাগের ৪ শতক জমি ঠিক আছে। তবে ৪৪৩০ দাগের পৌনে ২ শতাংশের মধ্যে মাত্র ১ শতক ১১ পয়েন্ট জমি বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভেতরে আর বাকিটুকু সীমানা প্রাচীরের বাইরে আছে। আবার তার পাশেই ৪৪৩০ দাগের আরও ৩ শতক জমি এখনো ইয়াকুব আলীর মালিকানাতে আছে।

এমতাবস্থায় আমার বাবা প্রথমে ওই ৩ শতক জমি ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে কবলা দলিল করে নেন এবং সেখানে আম কাঁঠালের গাছ লাগান। এরপর ১৯৯০ সালে প্রনব কুমার দাসের কাছে পৌনে ৬ শতক জমিসহ বাড়িটাও কিনেন। পরে ১৯৯১ সালে ৪৭৪৩ নং খতিয়ানে মোট পৌনে ৯ শতক জমি নিজ নামে খারিজ এবং ১৯৯২ সালে মাঠ জরিপের সময় রেকর্ডও নিজ নামে করে নেন। এই জমি ও বাড়ি শহীদ মাহাতাব বেগ রোডের সাথেই।

এদিকে ১৯৯৬ সালে আমাদের এসএ ৪৪৩০ দাগের পূর্ব দিকে কবরস্থানের পাশে সরকার কবির উদ্দিন ইউনুস ৫ শতক জমি কিনেন আশরাফুল এর কাছ থেকে। ২০০৪ সালে পৌর কাউন্সিলর থাকার সুবাদে তিনি ভূমি অফিসের লোকজনের সাথে যোগসাজশ করে সোগরা বিবির নামের শূন্য দশমিক ৮৭ শতক এবং আমার বাবার নামের ৪৬১৯ নং কবলার ৪৪৩০ দাগের ৩ শতক জমি পাশের ৪৪২১ দাগের একটা ডিডেক্টিভ দলিল দিয়ে আমার অজান্তে নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন।

এভাবে তিনি কৌশলে আমার নানার ১৩ শতক, আমার বাবার ৩ শতক ও সোগরা বিবির ৮৭ পয়েন্ট জমি নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন । এছাড়াও ৪১১৭ নং খতিয়ানে সরকারি জমি ও নিজ বড় ভাই ইলিয়াস আলীর পৈত্রিক এবং এলাকার আনিছুর রহমানেরও পৈত্রিক জমিও নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। এব্যাপারে ২০০৪ সালে ভূমি অফিসার, বড় ভাই ও আনিছুর রহমান আপত্তি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আমার জানা ছিলনা। পরে ২০২০ সালে গেজেট হওয়ার পর আমি জানতে পারি। তখন রেকর্ড সংশোধনের জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে ৮৮২/২০ মামলা দায়ের করি।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনুস কবির রাজনৈতিক ক্ষমতার জোর দেখিয়ে আমাদের ৩.৮৭ শতক জমি দখল করেন এবং অবৈধভাবে নকশা পাস করিয়ে নিয়ে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। এতে বাধা দেওয়ায় তিনি তার স্ত্রী লতিফা, ছেলে সানি, মেয়ে ইতি ও জামাই জনি অতর্কিত হামলা করে আমাদেরকে মারধরে আহত করে। উল্টো আমার ও স্ত্রীর নামে ১৪৪/১৪৫ ধারায় ১২০/২০ মামলা করেন।

ওই সময় পৌরসভায় অভিযোগ করলে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তার নকশা বাতিল করে দেন মেয়র এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও কাজ করতে থাকলে প্রথমে সৈয়দপুর থানায় অভিযোগ করা হয়। তিনি থানার কথাও শোনেননি। পরবর্তীতে আদালতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে তিনি তাও অগ্রাহ্য করেই বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন।

এখন তিনি বলে বেড়াচ্ছেন যে আমাদের জমির কাগজ ঠিক নাই এবং সরকারি হয়ে গেছে। এমন প্রোপাগান্ডার শিকার হয়ে আমরা বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেই। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি। তাই এলাকায় পোস্টারিং করাসহ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছি। এর প্রেক্ষিতে ইউনুস কবির আমাদের বিরুদ্ধে মানহানীর মামলা করেছে। এনিয়ে মোট ৩ টা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। আমরা অসহায় হয়ে বিষয়টা সর্বস্তরের মানুষ ও কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য মিডিয়ার শরণাপন্ন হয়েছি। আমরা ন্যায় বিচার দাবী করছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৈয়দপুরে নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিনি লাইব্রেরীর শুভ উদ্বোধন

সৈয়দপুরে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে জাল দলিলে রেকর্ড করে জমি দখল-বাড়ি নির্মাণ, প্রতিবাদ করায় মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত ০৮:০৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সরকার কবির উদ্দিন ইউনুসের বিরুদ্ধে জাল দলিল দিয়ে বিএস রেকর্ড করে জমি দখল ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ করেছে একটা অসহায় পরিবার।

ক্ষমতার দাপটে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নানাভাবে নির্যাতন করাসহ একের পর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে এবং অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে হেয় করে যাচ্ছে। এমনকি চব্বিশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও নাশকতা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এখনও নানা হুমকি দিয়ে চলেছে।

সৈয়দপুর পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ী শহীদ মাহাতাব বেগ রোডের বাসিন্দা মৃত মঈন উদ্দিন মিয়ার ছেলে মো. শাহাব উদ্দিন সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১২ টায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে উপরোক্ত অভিযোগ লিখিতভাবে তুলে ধরেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন তার মোছা. স্ত্রী সালমা খাতুন, বড় বোন মাজেদা খাতুন ও সাহেরা খাতুন, বর ভাই জামিল হোসেন, প্রতিবেশী ইকবাল ও টুলু, বন্ধু আবিদ হোসেন, সাহিদ, সোনু ও কালামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

প্রেস ব্রিফিং এ শাহাব উদ্দিন বলেন, আমাদের এই বাড়িতে ১৯৮৬ সালে আমার বাবা মা আসেন। এর আগে থেকেই পাশের বাড়িতে আমার নানা জুম্মন মিয়া বসবাস করতেন। তিনি ১৯৬৫ সালে এস এ রেকর্ড মালিক ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে সিএস ৪০৩৫ ও এসএ ৪৩৬৮ দাগে ১৪ শতক জমি কিনে পৌরসভা থেকে নকশা পাস করিয়ে বাড়িটা করেছেন। নানার দুই সন্তান আমার মা মাহমুদা বেগম ও মামা মুসলিম মিয়া। নানা মারা যাওয়ার পর ১৯৯৮ সালে মামা নিজের অংশসহ সম্পূর্ণ বাড়ি আমার মাকে দিয়ে স্বপরিবারে পাকিস্তান চলে যান।

ওই বছরই ১৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ওয়ার্ডের দুইবারের নির্বাচিত সাবেক কাউন্সিলর সরকার কবির উদ্দিন ইউনুস আমাদের (নানার) বাড়িতে ভাড়াটিয়া হয়ে আসেন। তিনি প্রতিমাসে ৩ হাজার টাকা ভাড়া দিতেন। ২০০৫ সালে আমরা স্বপরিবারে ভাগ্নির বিয়ে উপলক্ষে রংপুরে গেলে বাড়ির তালা ও আলমিরার তালা ভেঙ্গে আমাদের সব দলিলপত্র চুরি করেন ইউনুস কবির। তখন থেকে ভাড়া দেওয়াও বন্ধ করে দেন এবং দলীয় ক্ষমতার জোরে বাড়িটা দখল করেন। পরে ভূমি অফিসের লোকদের সাথে যোগসাজশে অন্য খতিয়ানের দাগ দিয়ে ৪৪২৯ নং দাগের আমার নানা জুম্মন মিয়ার ১৩ শতক জমি জাল দলিলে নিজ নামে বিএস রেকর্ড করে নিয়েছেন।

অন্যদিকে আমার বাবার এই বাড়ির মালিক ছিলেন মোছা. সোগরা বিবি। তিনি ১৯৬৭ সালে ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে সিএস ৪০৩৫, এসএ ৪৩৬৮ দাগে ৪ শতক এবং এসএ ৪৪৩০ দাগের পৌনে ২ শতক জমি কিনে ১৯৬৮ সালে পৌরসভার নকশা পাস করিয়ে বাড়িটা তৈরি করেন। পরে ১৯৭৮ সালে এসএ ৪৩৬৮ ও ৪৪৩০ দাগের মোট পৌনে ৬ শতক জমি জয়গুন নেছার কাছে হস্তান্তর করেন এবং জয়গুন নেছা ১৯৮৬ সালে প্রনব কুমার দাসের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই বছরই আমরা এই বাড়িতে ভাড়াটিয়া হয়ে আসি।

এরপর ১৯৮৭ সালে প্রনব কুমার দাস আমার বাবার কাছে পৌনে ৬ শতক জমিসহ বাড়িটা বিক্রির প্রস্তাব করেন। তখন একজন আমিন দিয়ে জমিটা মাপজোখ করলে দেখা যায় ৪৩৬৮ দাগের ৪ শতক জমি ঠিক আছে। তবে ৪৪৩০ দাগের পৌনে ২ শতাংশের মধ্যে মাত্র ১ শতক ১১ পয়েন্ট জমি বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভেতরে আর বাকিটুকু সীমানা প্রাচীরের বাইরে আছে। আবার তার পাশেই ৪৪৩০ দাগের আরও ৩ শতক জমি এখনো ইয়াকুব আলীর মালিকানাতে আছে।

এমতাবস্থায় আমার বাবা প্রথমে ওই ৩ শতক জমি ইয়াকুব আলীর কাছ থেকে কবলা দলিল করে নেন এবং সেখানে আম কাঁঠালের গাছ লাগান। এরপর ১৯৯০ সালে প্রনব কুমার দাসের কাছে পৌনে ৬ শতক জমিসহ বাড়িটাও কিনেন। পরে ১৯৯১ সালে ৪৭৪৩ নং খতিয়ানে মোট পৌনে ৯ শতক জমি নিজ নামে খারিজ এবং ১৯৯২ সালে মাঠ জরিপের সময় রেকর্ডও নিজ নামে করে নেন। এই জমি ও বাড়ি শহীদ মাহাতাব বেগ রোডের সাথেই।

এদিকে ১৯৯৬ সালে আমাদের এসএ ৪৪৩০ দাগের পূর্ব দিকে কবরস্থানের পাশে সরকার কবির উদ্দিন ইউনুস ৫ শতক জমি কিনেন আশরাফুল এর কাছ থেকে। ২০০৪ সালে পৌর কাউন্সিলর থাকার সুবাদে তিনি ভূমি অফিসের লোকজনের সাথে যোগসাজশ করে সোগরা বিবির নামের শূন্য দশমিক ৮৭ শতক এবং আমার বাবার নামের ৪৬১৯ নং কবলার ৪৪৩০ দাগের ৩ শতক জমি পাশের ৪৪২১ দাগের একটা ডিডেক্টিভ দলিল দিয়ে আমার অজান্তে নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন।

এভাবে তিনি কৌশলে আমার নানার ১৩ শতক, আমার বাবার ৩ শতক ও সোগরা বিবির ৮৭ পয়েন্ট জমি নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন । এছাড়াও ৪১১৭ নং খতিয়ানে সরকারি জমি ও নিজ বড় ভাই ইলিয়াস আলীর পৈত্রিক এবং এলাকার আনিছুর রহমানেরও পৈত্রিক জমিও নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়েছেন। এব্যাপারে ২০০৪ সালে ভূমি অফিসার, বড় ভাই ও আনিছুর রহমান আপত্তি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আমার জানা ছিলনা। পরে ২০২০ সালে গেজেট হওয়ার পর আমি জানতে পারি। তখন রেকর্ড সংশোধনের জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে ৮৮২/২০ মামলা দায়ের করি।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনুস কবির রাজনৈতিক ক্ষমতার জোর দেখিয়ে আমাদের ৩.৮৭ শতক জমি দখল করেন এবং অবৈধভাবে নকশা পাস করিয়ে নিয়ে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। এতে বাধা দেওয়ায় তিনি তার স্ত্রী লতিফা, ছেলে সানি, মেয়ে ইতি ও জামাই জনি অতর্কিত হামলা করে আমাদেরকে মারধরে আহত করে। উল্টো আমার ও স্ত্রীর নামে ১৪৪/১৪৫ ধারায় ১২০/২০ মামলা করেন।

ওই সময় পৌরসভায় অভিযোগ করলে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় তার নকশা বাতিল করে দেন মেয়র এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তারপরও কাজ করতে থাকলে প্রথমে সৈয়দপুর থানায় অভিযোগ করা হয়। তিনি থানার কথাও শোনেননি। পরবর্তীতে আদালতে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে তিনি তাও অগ্রাহ্য করেই বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন করেছেন।

এখন তিনি বলে বেড়াচ্ছেন যে আমাদের জমির কাগজ ঠিক নাই এবং সরকারি হয়ে গেছে। এমন প্রোপাগান্ডার শিকার হয়ে আমরা বাধ্য হয়ে ২০২৫ সালের আগস্টে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেই। কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি। তাই এলাকায় পোস্টারিং করাসহ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছি। এর প্রেক্ষিতে ইউনুস কবির আমাদের বিরুদ্ধে মানহানীর মামলা করেছে। এনিয়ে মোট ৩ টা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। আমরা অসহায় হয়ে বিষয়টা সর্বস্তরের মানুষ ও কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য মিডিয়ার শরণাপন্ন হয়েছি। আমরা ন্যায় বিচার দাবী করছি।