০৮:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

সৈয়দপুরে গোপনে পাচারের সময় টিসিবির ৩০ বস্তা মসুর ডাল আটক

নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্যাকেট কেটে বস্তায় ভরে গোপনে পাচারের সময় টিসিবির ৩০ বস্তা মসুর ডাল আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধা ৬ টার দিকে ভ্যানে করে পাচার কালে এই মালগুলো সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কে আটক করে সচেতন ছাত্ররা । পরে পুলিশ আটককৃত ডাল জব্দ করে থানায় নেয়। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করা হয়েছে।

জানা গেছে, আটক মসুর ডালগুলো সৈয়দপুর শহরের টিসিবি ডিলার আনোয়ার স্টোরের। সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের পাশে সুলতাননগর এলাকায় এই ডিলারের গোডাউন। সেখান থেকেই মালগুলো ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন শহরের নিচু কলোনী এলাকার রেশন ব্যবসায়ী নুর আলম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকার কিছু শিক্ষার্থী ভ্যানসহ তাকে আটক করে।

এ সময় সে জানায়, ২৫ কেজি ওজনের ৩০টি বস্তায় মসুর ডালগুলো সে কিনে নিয়েছে। তার কথার প্রেক্ষিতে কোথায় থেকে কিনেছেন সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিলে নুর আলম সুলতান নগরের টিসিবি গোডাউনে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থানরত আব্দুর রহিম নামে একজন স্বীকার করেন যে, মালগুলো উক্ত গোডাউনের। এর প্রেক্ষিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আটককৃত মসুর ডাল টিসিবির।

মাল আটকারী সচেতন ছাত্রদের মধ্যে মেজবাহ নামে একজন বলেন, ভ্যানে চালের বস্তায় মসুর ডাল দেখতে পেয়ে সন্দেহ বশতঃ ভ্যান চালককে আটক করি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর জন্য ইউএনও কে বার বার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় এসি ল্যান্ড কে মোবাইল করলে তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে যেতে বলেন। সে অনুযায়ী উপজেলা চত্বরে যাওয়ার পর এসিল্যান্ড এসে বিষয়টি দেখেন এবং দ্রুত সুলতান নগর এলাকায় টিসিবির গোডাউন তল্লাসী করেন।সখানে টিসিবির অন্যান্য পন্য সামগ্রী পাওয়ায় নিশ্চিত হন যে আটক মসুর ডাল গুলো টিসিবির। কিন্তু তারপরও প্রশাসন কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেননি। কারণ এর সাথে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম আমিরুজ্জান শমীম জড়িত।

পরে থানায় খবর দিলে এসআই আমির হোসেন উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে এ ব্যাপারে জিডি করা হয়েছে। তিনি জানান, জিডি মুলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে যদি মালগুলো টিসিবির বলে প্রমানিত হয় তাহলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নয়তো যদি টিসি্িবর না হয় তাহলে তথ্য প্রমান দিয়ে মাল নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। নয়তো উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র মতে, এই মালগুলো যে টিসিবি ডিলার আনোয়ার স্টোরের সেই ডিলারশীপ মূলতঃ উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ওএস) এস এম আমিরুজ্জামান সরকার শামীমের। তিনি আরও দুইটি ডিলারশীপ নিজের অর্থায়নে ও তদারকিতে চালাচ্ছেন। সেগুলো হলো- মেসার্স দুই বোন স্টোর ও মেসার্স আফিয়া আসফিয়া ভ্যারাইটিজ। এগুলো নুরুন নাহার জবা, মোঃ মসকুর আলম ও মোঃ রুকুনুজ্জামান নিশান নামে বরাদ্দ নিয়ে অন্য কর্মচারীদের দিয়ে চালান। এর মধ্যে রয়েছেন, আব্দুর রহিম, ফারুক হোসেন ও আনোয়ার হোসেন।

সরকারী কর্মচারী হয়েও তিনি গোপনে এভাবে সরকারী সুবিধার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার প্রশাসনের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি হয়ে এমন অনিয়ম করে চললেও দেখার কেউ নয়। এমনকি বর্তমান ইউএনও বিষয়টি অবগত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং আমিরুজ্জামান শামীমের চাকুরীর মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পরও তাকে স্বপদে বহাল রেখে দুর্নীতি করার সুযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। এ যেন রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভুমিকায় প্রশাসন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে এমন নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন।

সৈয়দপুর উপজেলা টিসিবি ডিলার তালিকায় আনোয়ার স্টোরের মালিকের নাম দেয়া আছে মোঃ রুকুনুজ্জামান নিশান। সেখানে যে মোবাইল নম্বার রয়েছে তা আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির। ওই মোবাইলে কল করা হলে সেই আনোয়ার হোসেন রিসিভ করে বলেন, তার বাড়ি দিনাজপুরে এবং আনোয়ার স্টোর নামে তারই টিসিবি লাইসেন্স। তাহলে রুকুনুজ্জামান নিশান কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সৈয়দপুরে আসছি, কথা হবে। এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে আর কল রিসিভ করেননি।

একইভাবে দুই বোন স্টোরের মালিক হিসেবে নুরন নাহার জবা লেখা থাকলেও সেখানে দেয়া মোবাইল নম্বারে কল দিলে ফারুক হোসেন নামে একজন রিসিভ করে বলেন, তার বাড়ি সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়ায়। জবা তার খালা। ওএস আমিরুজ্জামান সরকার শামীমের সাথে কি সম্পর্ক জানতে চাইলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর আর কল রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিরুজ্জামান সরকার শামীম বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করবোনা। ইউএনও মহোদয় এ ব্যাপারে বলবেন। আমার চাকুরী শেষ। ইউএনও’র অনুরোধে এখনও কাজ করছি। তাই এবিষয়ে তিনিই ভালো জানেন এবং তিনিই সার্বিক জানাবেন।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। ওএস শামীমের চাকুরী শেষ হয়ে থাকলে তিনি এখানে অফিস করবেন না। আমিতো জানি তিনি এখানেই নেই। তার কোন সই স্বাক্ষরওতো অফিসিয়ালি নেই। আর টিসিবির ডিলারশীপ তার নামে থাকলে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিষয়
জনপ্রিয় সংবাদ

কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন ভাবনা ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক সভা

সৈয়দপুরে গোপনে পাচারের সময় টিসিবির ৩০ বস্তা মসুর ডাল আটক

প্রকাশিত ০৮:২০:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্যাকেট কেটে বস্তায় ভরে গোপনে পাচারের সময় টিসিবির ৩০ বস্তা মসুর ডাল আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধা ৬ টার দিকে ভ্যানে করে পাচার কালে এই মালগুলো সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কে আটক করে সচেতন ছাত্ররা । পরে পুলিশ আটককৃত ডাল জব্দ করে থানায় নেয়। এ ব্যাপারে থানায় জিডি করা হয়েছে।

জানা গেছে, আটক মসুর ডালগুলো সৈয়দপুর শহরের টিসিবি ডিলার আনোয়ার স্টোরের। সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের পাশে সুলতাননগর এলাকায় এই ডিলারের গোডাউন। সেখান থেকেই মালগুলো ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন শহরের নিচু কলোনী এলাকার রেশন ব্যবসায়ী নুর আলম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকার কিছু শিক্ষার্থী ভ্যানসহ তাকে আটক করে।

এ সময় সে জানায়, ২৫ কেজি ওজনের ৩০টি বস্তায় মসুর ডালগুলো সে কিনে নিয়েছে। তার কথার প্রেক্ষিতে কোথায় থেকে কিনেছেন সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিলে নুর আলম সুলতান নগরের টিসিবি গোডাউনে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থানরত আব্দুর রহিম নামে একজন স্বীকার করেন যে, মালগুলো উক্ত গোডাউনের। এর প্রেক্ষিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আটককৃত মসুর ডাল টিসিবির।

মাল আটকারী সচেতন ছাত্রদের মধ্যে মেজবাহ নামে একজন বলেন, ভ্যানে চালের বস্তায় মসুর ডাল দেখতে পেয়ে সন্দেহ বশতঃ ভ্যান চালককে আটক করি। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানোর জন্য ইউএনও কে বার বার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় এসি ল্যান্ড কে মোবাইল করলে তিনি উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিয়ে যেতে বলেন। সে অনুযায়ী উপজেলা চত্বরে যাওয়ার পর এসিল্যান্ড এসে বিষয়টি দেখেন এবং দ্রুত সুলতান নগর এলাকায় টিসিবির গোডাউন তল্লাসী করেন।সখানে টিসিবির অন্যান্য পন্য সামগ্রী পাওয়ায় নিশ্চিত হন যে আটক মসুর ডাল গুলো টিসিবির। কিন্তু তারপরও প্রশাসন কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেননি। কারণ এর সাথে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম আমিরুজ্জান শমীম জড়িত।

পরে থানায় খবর দিলে এসআই আমির হোসেন উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মাল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে এ ব্যাপারে জিডি করা হয়েছে। তিনি জানান, জিডি মুলে তদন্ত করা হবে। তদন্তে যদি মালগুলো টিসিবির বলে প্রমানিত হয় তাহলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নয়তো যদি টিসি্িবর না হয় তাহলে তথ্য প্রমান দিয়ে মাল নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী। নয়তো উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র মতে, এই মালগুলো যে টিসিবি ডিলার আনোয়ার স্টোরের সেই ডিলারশীপ মূলতঃ উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ওএস) এস এম আমিরুজ্জামান সরকার শামীমের। তিনি আরও দুইটি ডিলারশীপ নিজের অর্থায়নে ও তদারকিতে চালাচ্ছেন। সেগুলো হলো- মেসার্স দুই বোন স্টোর ও মেসার্স আফিয়া আসফিয়া ভ্যারাইটিজ। এগুলো নুরুন নাহার জবা, মোঃ মসকুর আলম ও মোঃ রুকুনুজ্জামান নিশান নামে বরাদ্দ নিয়ে অন্য কর্মচারীদের দিয়ে চালান। এর মধ্যে রয়েছেন, আব্দুর রহিম, ফারুক হোসেন ও আনোয়ার হোসেন।

সরকারী কর্মচারী হয়েও তিনি গোপনে এভাবে সরকারী সুবিধার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন থেকে উপজেলার প্রশাসনের দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি হয়ে এমন অনিয়ম করে চললেও দেখার কেউ নয়। এমনকি বর্তমান ইউএনও বিষয়টি অবগত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং আমিরুজ্জামান শামীমের চাকুরীর মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পরও তাকে স্বপদে বহাল রেখে দুর্নীতি করার সুযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। এ যেন রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভুমিকায় প্রশাসন। গত ৫ আগস্টের পর থেকে এমন নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসন।

সৈয়দপুর উপজেলা টিসিবি ডিলার তালিকায় আনোয়ার স্টোরের মালিকের নাম দেয়া আছে মোঃ রুকুনুজ্জামান নিশান। সেখানে যে মোবাইল নম্বার রয়েছে তা আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির। ওই মোবাইলে কল করা হলে সেই আনোয়ার হোসেন রিসিভ করে বলেন, তার বাড়ি দিনাজপুরে এবং আনোয়ার স্টোর নামে তারই টিসিবি লাইসেন্স। তাহলে রুকুনুজ্জামান নিশান কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সৈয়দপুরে আসছি, কথা হবে। এরপর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে আর কল রিসিভ করেননি।

একইভাবে দুই বোন স্টোরের মালিক হিসেবে নুরন নাহার জবা লেখা থাকলেও সেখানে দেয়া মোবাইল নম্বারে কল দিলে ফারুক হোসেন নামে একজন রিসিভ করে বলেন, তার বাড়ি সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়ায়। জবা তার খালা। ওএস আমিরুজ্জামান সরকার শামীমের সাথে কি সম্পর্ক জানতে চাইলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর আর কল রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিরুজ্জামান সরকার শামীম বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন মন্তব্য করবোনা। ইউএনও মহোদয় এ ব্যাপারে বলবেন। আমার চাকুরী শেষ। ইউএনও’র অনুরোধে এখনও কাজ করছি। তাই এবিষয়ে তিনিই ভালো জানেন এবং তিনিই সার্বিক জানাবেন।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহা ফাতেহা তাকমিলা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। ওএস শামীমের চাকুরী শেষ হয়ে থাকলে তিনি এখানে অফিস করবেন না। আমিতো জানি তিনি এখানেই নেই। তার কোন সই স্বাক্ষরওতো অফিসিয়ালি নেই। আর টিসিবির ডিলারশীপ তার নামে থাকলে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।