০৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

কিশোরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ একমাত্র ডায়াবেটিক হাসপাতাল বিপাকে হাজার হাজার ডায়াবেটিক রোগী

অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে বন্ধ হয়ে গেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একমাত্র ডায়াবেটিক হাসপাতালটি। বর্তমানে হাসপাতালটিকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বই রাখার গোডাউন হিসাবে ব্যাবহার করছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

ফলে একদিকে ডায়াবেটিক চিকিৎসা সেবা থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামীণ জনপথের হাজার হাজার ডায়াবেটিক রোগি অপর দিকে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকার কারনে হাসপাতালে সংরক্ষিন লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে বসেছে। তবে একটি সুত্র জানিয়েছে হাসপাতালটি বন্ধ থাকার সুযোগে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা লোকজন রাতের আঁধারে হাসপাতালটির দামি দামি পরীক্ষা নিরিক্ষার মেশিনসহ অন্যান্য মুল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

হাসপাতালটির সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম আজম উপজেলার গ্রামীণ জনপথের ডায়াবেটিক রোগীদের কম টাকায় চিকিৎসেবা প্রদানের নিম্মিতে কিশোরগঞ্জের আপামর জনসাধারনকে নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পশ্চিম দিকে প্রায় ৩০ শতক জমিতে ডায়াবেটিক হাসপাতালটি স্থাপন করেন।

পরবর্তীতে নির্বাহী অফিসার গোলাম আজমের বদলীর পর হাসপাতালটি উদ্ধোধন করেন পরবর্তী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্দিকুল আলম। সিদ্দিকুল আলম বদলী হয়ে যাওয়ার পর কিছুদিন হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু থাকলে পরবর্তীতে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে পরে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত একজন কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালটির নামে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ থেকে গত কয়েক অর্থ বছরে টিআর,কাবিখা,এডিপিসহ বিভিন্ন প্রকল্প তেকে বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। অথচ হাসপাতালটি বর্তমানে দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী ফেরদৈৗস আলম বলেন, হাসপাতালটি তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম আজম থাকার সময় তৈরী হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটি বন্ধ থাকার কারনে ডায়াবেটিক রোগীরা অনেক সমস্যার স¤œুখিন হচ্ছে। আমি যতটুকু যেনেছি হাসপাতালটির সঠিক চেইন অফ কমান্ড না থাকা ও বিভিন্ন অনিয়ম দুনীর্তি ও সেচ্ছাচারিতার কারনে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালটির বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকের কাছে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম ডালিম বলেন, ডায়াবেটিক হাসপাতালটি বন্ধ কেন, সেখানে কিভাবে বইয়ের গোডাউন হল এ বিষয়গুলো নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলব। সেইসাথে আমি চাই প্রশাসন হাসপাতালটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করুক।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেব জানান, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৬৩ জন এর মধ্যে ৯.০১ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিকে আক্রান্ত । ডায়াবেটিক হাসপাতালটি চালু থাকাবস্থায় ডায়াবেটিক রোগিরা সেখানে চিকিৎসা নিত। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় তারা কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এতে করে রোগীর চাপ বেড়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ডায়াবেটিক হাসপাতালটি পরিত্যাক্ত রয়েছে তাই সেখানে বই রাখা হয়েছে স্বীকার করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে পরামর্শ করে সেখানে বই রাখা হয়েছে। এমনকি এখোনো কিছু বই আছে।

এ বিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিমা আনজুম সোহানিয়ার বক্তব্য জানার জন্য সরকারী নম্বরে ফোন দিলে এমনকি হোয়াটএ্যাপে খুদে বার্তা দিলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৈয়দপুরে জাপার এমপি প্রার্থীর নির্মাণাধীন ভবন থেকে কাঠ পড়ে মাথা ফাটলো শিশুর, আহত আরও ২ নারী

কিশোরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ একমাত্র ডায়াবেটিক হাসপাতাল বিপাকে হাজার হাজার ডায়াবেটিক রোগী

প্রকাশিত ০৩:৩২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে বন্ধ হয়ে গেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একমাত্র ডায়াবেটিক হাসপাতালটি। বর্তমানে হাসপাতালটিকে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বই রাখার গোডাউন হিসাবে ব্যাবহার করছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

ফলে একদিকে ডায়াবেটিক চিকিৎসা সেবা থেকে যেমন বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামীণ জনপথের হাজার হাজার ডায়াবেটিক রোগি অপর দিকে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকার কারনে হাসপাতালে সংরক্ষিন লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে বসেছে। তবে একটি সুত্র জানিয়েছে হাসপাতালটি বন্ধ থাকার সুযোগে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা লোকজন রাতের আঁধারে হাসপাতালটির দামি দামি পরীক্ষা নিরিক্ষার মেশিনসহ অন্যান্য মুল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে গেছে।

হাসপাতালটির সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম আজম উপজেলার গ্রামীণ জনপথের ডায়াবেটিক রোগীদের কম টাকায় চিকিৎসেবা প্রদানের নিম্মিতে কিশোরগঞ্জের আপামর জনসাধারনকে নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পশ্চিম দিকে প্রায় ৩০ শতক জমিতে ডায়াবেটিক হাসপাতালটি স্থাপন করেন।

পরবর্তীতে নির্বাহী অফিসার গোলাম আজমের বদলীর পর হাসপাতালটি উদ্ধোধন করেন পরবর্তী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিদ্দিকুল আলম। সিদ্দিকুল আলম বদলী হয়ে যাওয়ার পর কিছুদিন হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু থাকলে পরবর্তীতে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে পরে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত একজন কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালটির নামে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ থেকে গত কয়েক অর্থ বছরে টিআর,কাবিখা,এডিপিসহ বিভিন্ন প্রকল্প তেকে বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। অথচ হাসপাতালটি বর্তমানে দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী ফেরদৈৗস আলম বলেন, হাসপাতালটি তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম আজম থাকার সময় তৈরী হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটি বন্ধ থাকার কারনে ডায়াবেটিক রোগীরা অনেক সমস্যার স¤œুখিন হচ্ছে। আমি যতটুকু যেনেছি হাসপাতালটির সঠিক চেইন অফ কমান্ড না থাকা ও বিভিন্ন অনিয়ম দুনীর্তি ও সেচ্ছাচারিতার কারনে হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালটির বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তপক্ষকের কাছে তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক তাজুল ইসলাম ডালিম বলেন, ডায়াবেটিক হাসপাতালটি বন্ধ কেন, সেখানে কিভাবে বইয়ের গোডাউন হল এ বিষয়গুলো নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলব। সেইসাথে আমি চাই প্রশাসন হাসপাতালটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করুক।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেব জানান, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মোট জনসংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৬৩ জন এর মধ্যে ৯.০১ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিকে আক্রান্ত । ডায়াবেটিক হাসপাতালটি চালু থাকাবস্থায় ডায়াবেটিক রোগিরা সেখানে চিকিৎসা নিত। কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় তারা কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এতে করে রোগীর চাপ বেড়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ডায়াবেটিক হাসপাতালটি পরিত্যাক্ত রয়েছে তাই সেখানে বই রাখা হয়েছে স্বীকার করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে পরামর্শ করে সেখানে বই রাখা হয়েছে। এমনকি এখোনো কিছু বই আছে।

এ বিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিমা আনজুম সোহানিয়ার বক্তব্য জানার জন্য সরকারী নম্বরে ফোন দিলে এমনকি হোয়াটএ্যাপে খুদে বার্তা দিলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।